পটুয়াখালীর দুমকিতে জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন সংক্রান্ত জরুরি নাগরিক সেবা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন স্থায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) না থাকায় সৃষ্ট জটিলতার মধ্যে নতুন কর্মকর্তা যোগদান করলেও এখনো সার্ভারের প্রয়োজনীয় আইডি ও পাসওয়ার্ড পাননি। ফলে জন্মনিবন্ধন সংশোধন ও অনুমোদনসহ শত শত আবেদন নিষ্পত্তি করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জন্মনিবন্ধনের ভুল সংশোধন ও নতুন আবেদনের জন্য করা অসংখ্য ফাইল দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে ঝুলে রয়েছে। জন্মনিবন্ধন না পাওয়ার কারণে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরি, পাসপোর্টের আবেদন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি জরুরি সেবা গ্রহণে মারাত্মক বাধার মুখে পড়ছেন তারা। নিরুপায় হয়ে সেবাপ্রত্যাশীরা প্রতিদিন ইউএনও কার্যালয়ে গেলেও কারিগরি জটিলতার কারণে তাদের কেবলই অপেক্ষা করতে বলা হচ্ছে।
উপজেলার লেবুখালী ইউনিয়নের ফরিদুল ইসলাম, পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের হেদায়েতুল্লাহ ও শ্রীরামপুর ইউনিয়নের সাইফুল বাশার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসনিক ও কারিগরি অজুহাতে দিনের পর দিন মৌলিক নাগরিক সেবা ব্যাহত হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা দ্রুত এই সমস্যার সমাধান দাবি করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুমকি উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের শত শত মানুষের আবেদন বর্তমানে এই সার্ভার জটিলতায় আটকে রয়েছে। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে বহু মানুষ জন্মনিবন্ধন সংক্রান্ত কাজের জন্য এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পর হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল্লাহ খায়রুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘আমি সম্প্রতি এই উপজেলায় দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। তবে জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অফিশিয়াল যে আইডি ও পাসওয়ার্ড প্রয়োজন, তা এখনো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বুঝিয়ে দেয়নি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিভাগকে ইতোমধ্যে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। আশা করছি আইডি ও পাসওয়ার্ড পাওয়া মাত্রই আটকে থাকা সব আবেদন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত নিষ্পত্তি করা করা হবে।’
আপনার মতামত লিখুন