সংবাদ

সিরাজদিখানে হুইলচেয়ারে থাকা বৃদ্ধসহ ২ জনকে কুপিয়ে জখম


জেলা বার্তা পরিবেশক, মুন্সিগঞ্জ
জেলা বার্তা পরিবেশক, মুন্সিগঞ্জ
প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৭:২৯ পিএম

সিরাজদিখানে হুইলচেয়ারে থাকা বৃদ্ধসহ ২ জনকে কুপিয়ে জখম
ছবি : সংগৃহীত

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার কোলা ইউনিয়নে আবারও রক্তাক্ত সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে কোলা প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন বাজারে ৬০ বছর বয়সী এছাক মোল্লা এবং তার ভাতিজা ইলিয়াছ মোল্লাকে (লস্কর) ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলের ব্যস্ত সময়ে এই হামলার পর দীর্ঘ সময় ধরে দুজনেই রক্তাক্ত অবস্থায় ঘটনাস্থলে পড়ে ছিলেন। হামলাকারীদের ভয়ে শুরুতে কেউ তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসার সাহস পাননি। সন্ত্রাসীরা চলে যাওয়ার পর সাধারণ মানুষ তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠান।

এছাক মোল্লা এর আগেও এমন নৃশংস হামলার শিকার হয়েছিলেন। প্রায় এক বছর আগে সন্ত্রাসীরা তার পায়ের রগ কেটে দিয়েছিল। দীর্ঘ চিকিৎসার পর তিনি কোনোমতে বেঁচে ফিরলেও এখন হুইলচেয়ারে চলাফেরা করেন; এমনকি স্বাভাবিকভাবে কথা বলার শক্তিও হারিয়েছেন। পঙ্গুত্ব নিয়ে বেঁচে থাকা সেই মানুষটিকেই আবারও হত্যার উদ্দেশ্যে নৃশংসভাবে কুপিয়ে রাস্তায় ফেলে রাখা হয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, হামলাকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় প্রাণের ভয়ে তাদের নাম প্রকাশ করতে চাচ্ছেন না কেউ। কোলা ইউনিয়নে সহিংসতার এমন ঘটনা নতুন নয়। এর আগে গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মেধাবী শিক্ষার্থী আসিফ হাওলাদারকেও নির্মমভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করা হয়েছিল। গুরুতর আহত আসিফকে তখন পুলিশ উন্নত চিকিৎসার সুযোগ না দিয়ে কারাগারে পাঠিয়ে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে বিনা চিকিৎসায় কারাগারেই তার মৃত্যু হয়। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে তীব্র আন্দোলন ও সড়ক অবরোধ হয়েছিল।

একের পর এক এমন নৃশংস ঘটনায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। প্রকাশ্যে এমন রক্তপাতের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, ‘আহত ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মামলা দেওয়া হয়নি। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে সাঁড়াশি অভিযান চলছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ২০ জুন ২০২৬


সিরাজদিখানে হুইলচেয়ারে থাকা বৃদ্ধসহ ২ জনকে কুপিয়ে জখম

প্রকাশের তারিখ : ২০ জুন ২০২৬

featured Image

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার কোলা ইউনিয়নে আবারও রক্তাক্ত সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে কোলা প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন বাজারে ৬০ বছর বয়সী এছাক মোল্লা এবং তার ভাতিজা ইলিয়াছ মোল্লাকে (লস্কর) ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলের ব্যস্ত সময়ে এই হামলার পর দীর্ঘ সময় ধরে দুজনেই রক্তাক্ত অবস্থায় ঘটনাস্থলে পড়ে ছিলেন। হামলাকারীদের ভয়ে শুরুতে কেউ তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসার সাহস পাননি। সন্ত্রাসীরা চলে যাওয়ার পর সাধারণ মানুষ তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠান।

এছাক মোল্লা এর আগেও এমন নৃশংস হামলার শিকার হয়েছিলেন। প্রায় এক বছর আগে সন্ত্রাসীরা তার পায়ের রগ কেটে দিয়েছিল। দীর্ঘ চিকিৎসার পর তিনি কোনোমতে বেঁচে ফিরলেও এখন হুইলচেয়ারে চলাফেরা করেন; এমনকি স্বাভাবিকভাবে কথা বলার শক্তিও হারিয়েছেন। পঙ্গুত্ব নিয়ে বেঁচে থাকা সেই মানুষটিকেই আবারও হত্যার উদ্দেশ্যে নৃশংসভাবে কুপিয়ে রাস্তায় ফেলে রাখা হয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, হামলাকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় প্রাণের ভয়ে তাদের নাম প্রকাশ করতে চাচ্ছেন না কেউ। কোলা ইউনিয়নে সহিংসতার এমন ঘটনা নতুন নয়। এর আগে গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মেধাবী শিক্ষার্থী আসিফ হাওলাদারকেও নির্মমভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করা হয়েছিল। গুরুতর আহত আসিফকে তখন পুলিশ উন্নত চিকিৎসার সুযোগ না দিয়ে কারাগারে পাঠিয়ে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে বিনা চিকিৎসায় কারাগারেই তার মৃত্যু হয়। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে তীব্র আন্দোলন ও সড়ক অবরোধ হয়েছিল।

একের পর এক এমন নৃশংস ঘটনায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। প্রকাশ্যে এমন রক্তপাতের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, ‘আহত ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মামলা দেওয়া হয়নি। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে সাঁড়াশি অভিযান চলছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত