সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও আগামীকাল ২১ জুন উদযাপিত হতে যাচ্ছে ‘বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফি দিবস ২০২৬’। এই উপলক্ষ্যে আজ ২০ জুন পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আন্তর্জাতিক হাইড্রোগ্রাফিক সংস্থা (আইএইচও) ঘোষিত এবারের প্রতিপাদ্য ‘সামুদ্রিক তথ্য আদান-প্রদানের ধারণায় আমূল পরিবর্তন’ বা 'Transforming How Ocean Data is Shared'-কে বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন দেশের এই দুই শীর্ষ ব্যক্তি।
বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফি দিবসের আয়োজনকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, "বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ সমুদ্রসীমা আমাদের জাতীয় অগ্রগতি, সুনীল অর্থনীতির বিকাশ এবং প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণের অপার সম্ভাবনার এক বিশাল ভাণ্ডার।"
এই বিশাল সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনের পাশাপাশি নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিতকরণ, সামুদ্রিক সম্পদের অনুসন্ধান ও ব্যবস্থাপনা এবং উপকূলীয় অঞ্চলের টেকসই উন্নয়নে হাইড্রোগ্রাফিক কার্যক্রমের গুরুত্ব অপরিসীম বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর হাইড্রোগ্রাফিক বিভাগের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, "আমি বিশ্বাস করি, এই কার্যক্রমের ধারাবাহিক উন্নয়ন দেশের সামগ্রিক অগ্রগতিকে আরো বেগবান করবে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং টেকসই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও রাখবে কার্যকর ভূমিকা।"
এ খাতে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "আমি নৌবাহিনীর হাইড্রোগ্রাফিক বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষায়িত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহকে তাদের প্রশিক্ষণ, শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম আরো জোরদার করার জন্য আহ্বান জানাই।"
এদিকে সমুদ্রকে একবিংশ শতাব্দীর বৈশ্বিক বাস্তবতায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও জাতীয় কৌশলগত সক্ষমতার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "বর্তমান বিশ্বে সমুদ্র-সংক্রান্ত তথ্যের আধুনিক, নিরাপদ, নির্ভুল ও কার্যকর আদান-প্রদান নিশ্চিত করা শুধু প্রযুক্তিগত উন্নয়নের প্রতিফলন নয়; এটি জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার এবং কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পৃক্ত।"
দেশের সমুদ্রসীমাকে ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধির ভিত্তি আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, "আমাদের সমুদ্রসীমায় রয়েছে বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ, জীববৈচিত্র্য এবং বাণিজ্যিক সম্ভাবনা। নিরাপদ নৌপথ নিশ্চিতকরণ, সমুদ্রতলের সঠিক মানচিত্র প্রণয়ন এবং উপকূলীয় অঞ্চলের পরিকল্পিত উন্নয়নে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর হাইড্রোগ্রাফিক কার্যক্রম অপরিহার্য ভূমিকা পালন করছে।"
সমুদ্রসম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ, ডাটা বিশ্লেষণ এবং তথ্য ব্যবস্থাপনায় পারদর্শী জনবল তৈরি করতে হলে প্রশিক্ষণ, শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের পাশাপাশি এর জন্য সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য।"
তিনি আরও বলেন, "আমি বিশ্বাস করি, জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বিত, সুসংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমাদের সামুদ্রিক সম্ভাবনাকে পূর্ণমাত্রায় কাজে লাগানো এখন সময়ের দাবি।"
পরিশেষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী উভয়েই বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফি দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেছেন।

শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ জুন ২০২৬
সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও আগামীকাল ২১ জুন উদযাপিত হতে যাচ্ছে ‘বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফি দিবস ২০২৬’। এই উপলক্ষ্যে আজ ২০ জুন পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আন্তর্জাতিক হাইড্রোগ্রাফিক সংস্থা (আইএইচও) ঘোষিত এবারের প্রতিপাদ্য ‘সামুদ্রিক তথ্য আদান-প্রদানের ধারণায় আমূল পরিবর্তন’ বা 'Transforming How Ocean Data is Shared'-কে বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন দেশের এই দুই শীর্ষ ব্যক্তি।
বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফি দিবসের আয়োজনকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, "বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ সমুদ্রসীমা আমাদের জাতীয় অগ্রগতি, সুনীল অর্থনীতির বিকাশ এবং প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণের অপার সম্ভাবনার এক বিশাল ভাণ্ডার।"
এই বিশাল সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনের পাশাপাশি নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিতকরণ, সামুদ্রিক সম্পদের অনুসন্ধান ও ব্যবস্থাপনা এবং উপকূলীয় অঞ্চলের টেকসই উন্নয়নে হাইড্রোগ্রাফিক কার্যক্রমের গুরুত্ব অপরিসীম বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর হাইড্রোগ্রাফিক বিভাগের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, "আমি বিশ্বাস করি, এই কার্যক্রমের ধারাবাহিক উন্নয়ন দেশের সামগ্রিক অগ্রগতিকে আরো বেগবান করবে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং টেকসই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও রাখবে কার্যকর ভূমিকা।"
এ খাতে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "আমি নৌবাহিনীর হাইড্রোগ্রাফিক বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষায়িত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহকে তাদের প্রশিক্ষণ, শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম আরো জোরদার করার জন্য আহ্বান জানাই।"
এদিকে সমুদ্রকে একবিংশ শতাব্দীর বৈশ্বিক বাস্তবতায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও জাতীয় কৌশলগত সক্ষমতার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "বর্তমান বিশ্বে সমুদ্র-সংক্রান্ত তথ্যের আধুনিক, নিরাপদ, নির্ভুল ও কার্যকর আদান-প্রদান নিশ্চিত করা শুধু প্রযুক্তিগত উন্নয়নের প্রতিফলন নয়; এটি জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার এবং কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পৃক্ত।"
দেশের সমুদ্রসীমাকে ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধির ভিত্তি আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, "আমাদের সমুদ্রসীমায় রয়েছে বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ, জীববৈচিত্র্য এবং বাণিজ্যিক সম্ভাবনা। নিরাপদ নৌপথ নিশ্চিতকরণ, সমুদ্রতলের সঠিক মানচিত্র প্রণয়ন এবং উপকূলীয় অঞ্চলের পরিকল্পিত উন্নয়নে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর হাইড্রোগ্রাফিক কার্যক্রম অপরিহার্য ভূমিকা পালন করছে।"
সমুদ্রসম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ, ডাটা বিশ্লেষণ এবং তথ্য ব্যবস্থাপনায় পারদর্শী জনবল তৈরি করতে হলে প্রশিক্ষণ, শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের পাশাপাশি এর জন্য সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য।"
তিনি আরও বলেন, "আমি বিশ্বাস করি, জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বিত, সুসংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমাদের সামুদ্রিক সম্ভাবনাকে পূর্ণমাত্রায় কাজে লাগানো এখন সময়ের দাবি।"
পরিশেষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী উভয়েই বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফি দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন