নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় চলমান সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নির্বাচিত কৃষকদের তালিকা দিতে উপজেলা খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনীহা ও অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় সংবাদকর্মীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে অনলাইন আবেদন ও লটারির মাধ্যমে প্রকৃত কৃষক নির্বাচন করে তাদের কাছ থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহ করার কথা। গত ১২ মে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। উপজেলায় এবার ৩৬ টাকা কেজি দরে ১ হাজার ৯৬৯ মেট্রিক টন ধান, ৪৯ টাকা কেজি দরে ২ হাজার ৭৯ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল এবং ৫১ টাকা কেজি দরে ৮১ মেট্রিক টন আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ধান সংগ্রহ কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে এলেও নির্বাচিত কৃষকদের তালিকা জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়নি। তথ্য জানতে চাইলে রাণীনগর এলএসডি গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি এলএসডি) তারানা আফরীন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তথ্য দিতে রাজি হননি। এমনকি তথ্য অধিকার আইনের কথা উল্লেখ করে তিনি টাকা জমা দেওয়ার পরামর্শ দেন।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ওবায়দুল ইসলামের কাছে তালিকা চাইলে তিনিও টালবাহানা শুরু করেন। এক সপ্তাহ পর দেখা করতে বললেও পরের সপ্তাহে গিয়ে তথ্য পাওয়া যায়নি। তিনি দাবি করেন, জুন মাসের ‘ক্লোজিং’-এর আগে তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়। তার কাছে পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রস্তুত নেই বলেও তিনি জানান। একপর্যায়ে এই কর্মকর্তা বলেন,‘“ইচ্ছে থাকলেও সবকিছু করা সম্ভব নয়, সেই স্বাধীনতা আমাকে দেওয়া হয়নি।’
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কৃষকদের তালিকা দেওয়ালে টাঙানোর দাবি করলেও সরেজমিনে গিয়ে সেখানে কোনো তালিকা পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুল্লাহ আল ইমরানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনিও তথ্য দিতে অনীহা প্রকাশ করেন। মুঠোফোনে তিনি বলেন, ‘তথ্য অধিকার আইনেও নির্দিষ্ট করে নাম-ঠিকানা দিতে পারব না। কারণ, কৃষকদের নাম-ঠিকানা ব্যক্তিগত বিষয়।’ তিনি কেবল ধান সংগ্রহের পরিমাণগত তথ্য দিতে রাজি হন।
এদিকে সচেতন মহলের প্রশ্ন, ধান সরবরাহকারী কৃষকদের তথ্য যদি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছেই প্রস্তুত না থাকে, তবে সংগ্রহ কার্যক্রম কীভাবে তদারকি করা হচ্ছে?
স্থানীয়দের মতে, সরকারি শস্য সংগ্রহে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তালিকা প্রকাশ জরুরি। তথ্য গোপনের এই প্রবণতা অনিয়ম ও দুর্নীতির আশঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন