সংবাদ

তারকেশ্বরের মঞ্চে বিস্ফোরক দাবি মোদির


দীপক মুখার্জী
দীপক মুখার্জী প্রতিনিধি, কলকাতা
প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৯:২০ পিএম

তারকেশ্বরের মঞ্চে বিস্ফোরক দাবি মোদির
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

একসময় নাকি বাংলাকে পাকিস্তানের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলেছিল- আর সেই সংকটের মুহূর্তে নাকি লড়াই থেকে পিছিয়ে গিয়েছিল কংগ্রেস। পশ্চিমবঙ্গ দিবসের মঞ্চে দাঁড়িয়ে এমনই বিস্ফোরক দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আর সেই ইতিহাস টেনে এনে তিনি তুলে ধরলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির ভূমিকা- যাকে তিনি বাংলার “রক্ষাকর্তা” হিসেবে চিহ্নিত করলেন।

পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে হুগলির তারকেশ্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশভাগের সময় বাংলাকে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করার এক গভীর চক্রান্ত চলছিল। সেই সময় কংগ্রেস নাকি লড়াইয়ের ময়দান ছেড়ে দিয়েছিল। কিন্তু বাংলার স্বার্থ রক্ষায় আপসহীন অবস্থান নিয়েছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি।

প্রধানমন্ত্রীর কথায়, বাংলার মানুষ এখনও দাঙ্গা, বিভাজন আর রক্তপাতের সেই ইতিহাস ভুলে যায়নি- কলকাতা থেকে নোয়াখালী, সর্বত্রই সেই ক্ষত আজও স্মৃতিতে জীবন্ত। সেই প্রেক্ষাপটেই তিনি ঘোষণা করেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির স্মৃতির উদ্দেশ্যে রাজ্যে একটি বিশাল মূর্তি নির্মাণ করা হবে এবং তার অবদানকে নতুনভাবে স্মরণ করা হবে।

এদিন রাজনৈতিক আক্রমণও ছিল তীব্র। প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, কংগ্রেস, বাম দল এবং তৃণমূলের শাসনামলেই বাংলায় অনুপ্রবেশ বেড়েছে। তিনি জানান, সীমান্ত সুরক্ষার জন্য কাঁটাতারের অসমাপ্ত কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হচ্ছে এবং জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়াও চলছে।

তার দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গ “পরাধীনতার শিকল” থেকে মুক্ত হয়ে নতুন উন্নয়নের পথে এগোচ্ছে। স্বচ্ছতা এবং কেন্দ্র-রাজ্যের সমন্বয় থাকলে উন্নয়ন নিশ্চিত- এই বার্তাই তুলে ধরেন তিনি।

অন্যদিকে, একই মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, এই সরকার শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির আদর্শে অনুপ্রাণিত এবং কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় রেখে দ্রুত উন্নয়নের পথে এগোবে বাংলা।

অনুষ্ঠানে ছিল সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের ছোঁয়া- বাউল গান থেকে ছৌ নাচ, সব মিলিয়ে জমে ওঠে পরিবেশ। সন্ধ্যায় কলকাতার প্রিন্সেপ ঘাট থেকে বাবুঘাট পর্যন্ত হুগলি নদীতে প্রায় ৪০০ লঞ্চ নিয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজন এবং ড্রোন শো নজর কাড়ে উপস্থিত দর্শকদের।

আগামীকাল আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে কলকাতার রেড রোডে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে তিনি ফিরে যাবেন দিল্লিতে। তার আগে শহরে নৌবাহিনীর হাতে তিনটি যুদ্ধজাহাজ হস্তান্তর করার কথাও রয়েছে তাঁর কর্মসূচিতে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ২১ জুন ২০২৬


তারকেশ্বরের মঞ্চে বিস্ফোরক দাবি মোদির

প্রকাশের তারিখ : ২১ জুন ২০২৬

featured Image

একসময় নাকি বাংলাকে পাকিস্তানের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলেছিল- আর সেই সংকটের মুহূর্তে নাকি লড়াই থেকে পিছিয়ে গিয়েছিল কংগ্রেস। পশ্চিমবঙ্গ দিবসের মঞ্চে দাঁড়িয়ে এমনই বিস্ফোরক দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আর সেই ইতিহাস টেনে এনে তিনি তুলে ধরলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির ভূমিকা- যাকে তিনি বাংলার “রক্ষাকর্তা” হিসেবে চিহ্নিত করলেন।

পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে হুগলির তারকেশ্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশভাগের সময় বাংলাকে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করার এক গভীর চক্রান্ত চলছিল। সেই সময় কংগ্রেস নাকি লড়াইয়ের ময়দান ছেড়ে দিয়েছিল। কিন্তু বাংলার স্বার্থ রক্ষায় আপসহীন অবস্থান নিয়েছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি।

প্রধানমন্ত্রীর কথায়, বাংলার মানুষ এখনও দাঙ্গা, বিভাজন আর রক্তপাতের সেই ইতিহাস ভুলে যায়নি- কলকাতা থেকে নোয়াখালী, সর্বত্রই সেই ক্ষত আজও স্মৃতিতে জীবন্ত। সেই প্রেক্ষাপটেই তিনি ঘোষণা করেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির স্মৃতির উদ্দেশ্যে রাজ্যে একটি বিশাল মূর্তি নির্মাণ করা হবে এবং তার অবদানকে নতুনভাবে স্মরণ করা হবে।

এদিন রাজনৈতিক আক্রমণও ছিল তীব্র। প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, কংগ্রেস, বাম দল এবং তৃণমূলের শাসনামলেই বাংলায় অনুপ্রবেশ বেড়েছে। তিনি জানান, সীমান্ত সুরক্ষার জন্য কাঁটাতারের অসমাপ্ত কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হচ্ছে এবং জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়াও চলছে।

তার দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গ “পরাধীনতার শিকল” থেকে মুক্ত হয়ে নতুন উন্নয়নের পথে এগোচ্ছে। স্বচ্ছতা এবং কেন্দ্র-রাজ্যের সমন্বয় থাকলে উন্নয়ন নিশ্চিত- এই বার্তাই তুলে ধরেন তিনি।

অন্যদিকে, একই মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, এই সরকার শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির আদর্শে অনুপ্রাণিত এবং কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় রেখে দ্রুত উন্নয়নের পথে এগোবে বাংলা।

অনুষ্ঠানে ছিল সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের ছোঁয়া- বাউল গান থেকে ছৌ নাচ, সব মিলিয়ে জমে ওঠে পরিবেশ। সন্ধ্যায় কলকাতার প্রিন্সেপ ঘাট থেকে বাবুঘাট পর্যন্ত হুগলি নদীতে প্রায় ৪০০ লঞ্চ নিয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজন এবং ড্রোন শো নজর কাড়ে উপস্থিত দর্শকদের।

আগামীকাল আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে কলকাতার রেড রোডে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে তিনি ফিরে যাবেন দিল্লিতে। তার আগে শহরে নৌবাহিনীর হাতে তিনটি যুদ্ধজাহাজ হস্তান্তর করার কথাও রয়েছে তাঁর কর্মসূচিতে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত