মার্চ মাসের মধ্যেই সম্পূরক বাজেট উত্থাপন এবং অনুমোদন নিতে সরকারি দলকে পরামর্শ দিয়েছেন বিরোধী দলের কয়েকজন সদস্য। তারা বলছেন, অর্থবছরের শেষ সময়ে (জুন) এসে সম্পূরক বাজেটের মাধ্যমে অতিরিক্ত ব্যয়ের অনুমোদন নেওয়ার ‘প্রচলিত প্রক্রিয়া’ অনুসরণ করায় জাতীয় সংসদের কার্যকর নজরদারি ও অনুমোদন দেওয়ার ক্ষমতা অনেকটাই ‘আনুষ্ঠানিকতায়’ সীমিত হয়ে যাচ্ছে। তারা বলেন, সরকার আগে ব্যয় সম্পন্ন করে পরে সংসদের অনুমোদন চায়, পাশ করা ছাড়া কোন উপায় নাই। এই চর্চা বন্ধ হওয়া দরকার।
সোমবার (১৫ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের মঞ্জুরি দাবির ওপর ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় এসব কথা উঠে আসে।
এদিন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তরপর্ব টেবিলে উপস্থাপিত হয়। এরপর সম্পূরক বাজেটের ২৫টি মঞ্জুরি দাবির ওপর ভোট শুরু হয়। স্পিকার বলেন, এসব দাবির বিপরীতে ২০ জন সংসদ সদস্য ৩০৪টি ছাঁটাই প্রস্তাবের নোটিস দিয়েছেন।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটে ২৭টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও প্রতিষ্ঠানের বরাদ্দ বাড়ানো হয় ৫৬ হাজার ১১৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। একই সময়ে ৩৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বরাদ্দ কমানো হয় ৫৯ হাজার ৩৪৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।
এই চর্চা বন্ধ হওয়া দরকার
সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনার শুরুতেই ঢাকা-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) সৈয়দ জয়নুল আবেদীন খরচের পর সংসদের অনুমোদন নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, সম্পূরক বাজেটের উপরে যে খরচ করে, এর পরে অনুমোদন নেওয়া- এই চর্চা বন্ধ হওয়া দরকার। এটা দেশের জন্য, দেশের অর্থনীতির জন্য ভালো হবে।
পরিকল্পনা বিভাগের মঞ্জুরি দাবির ওপর আলোচনায় পাবনা-১ আসনের জামায়াতের এমপি মোহাম্মদ নাজিবুর রহমানও একই ধরনের প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, সংবিধানের ৯১ অনুচ্ছেদের আওতায় সরকার অতিরিক্ত ব্যয় করে পরে তা সম্পূরক বাজেট হিসেবে সংসদে অনুমোদনের জন্য আনে।
বিরোধী দলীয় এই এমপি বলেন, “তিনি খরচ করবেন, তারপরে এটা রাবার স্ট্যাম্পের মতো সম্পূরক বাজেট হিসেবে সংসদে পেশ করা হবে। আমাদের পাস করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।”
মার্চে নয় কেন?
সরকারি অর্থ ও বাজেট ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৯-এর প্রসঙ্গ তুলে এমপি নাজিবুর রহমান বলেন, আইনে সংশোধিত বাজেট ‘যথাসম্ভব’ মার্চ মাসের মধ্যে পেশ করার কথা বলা হয়েছে। ‘যথাসম্ভব’- শব্দটির ‘অপব্যবহার করে’ সম্পূরক বাজেট কখনোই মার্চ মাসে দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।
আইনে ‘যথাসম্ভব’ শব্দটি রাখার যৌক্তিকতাও নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এমপি নাজিবুর।
মার্চ মাসে কেন সম্পূরক বাজেট আনা হলো না, সেই ব্যাখ্যা সরকারের দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিরোধী দলীয় এই আইনপ্রণেতা বলেন, “মার্চ গেল, এপ্রিল গেল, মে গেল; দুইটা মাসেও সম্পূরক বাজেট দিতে ব্যর্থ হলো। জুন মাসে এসে সম্পূরক বাজেট দিল।”
আগে অনুমোদন
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মঞ্জুরি দাবির ওপর আলোচনায় বাগেরহাট-৪ আসনের জামায়াতের এমপি মো. আবদুল আলিম বলেন, সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় সুশাসন নিশ্চিত করা গেলে অনেক ক্ষেত্রে সম্পূরক বাজেটের প্রয়োজনই পড়ত না।
তিনি বলেন, “আগে খরচ, তারপরে অনুমোদন, এই রীতি চালু হয়েছে। আমি আপনার মাধ্যমে এই মহান সংসদে উত্থাপন করতে চাই, আগে অনুমোদন, তারপরে খরচ।” তার মতে, অর্থবছরের শেষ দিকে তড়িঘড়ি করে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রবণতা অপচয় ও অনিয়মের ঝুঁকি বাড়ায়।
এমপিদের বক্তব্যের জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, খরচের আগে সংসদের অনুমোদন নেওয়ার ব্যবস্থা থাকলে সংসদের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হতো। তিনি বলেন, “আমিও বিশ্বাস করি, রাষ্ট্রীয় খরচ যা কিছু, সেটা আগেই সংসদে অনুমোদন নেওয়া উচিত। তবে নানা কারণে এটা হয়তো সম্ভব হয় না।”
দীর্ঘদিনের রেওয়াজ
দীর্ঘদিন ধরেই সম্পূরক বাজেট একই পদ্ধতিতে পাস হয়ে আসছে উল্লেখ করে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, এটি এক ধরনের সংসদীয় রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, “প্রত্যেকটি আইটেম খরচের আগে যদি সংসদে অনুমোদন নেওয়ার মতো কোনো ব্যবস্থা করা হতো, তাহলে ভালো হতো। সংসদের সার্বভৌমত্ব আরও দৃঢ়তর হতো। ভবিষ্যতের জন্য সে ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করে দেখতে পারি।”
‘দোষের কিছু নেই’
মার্চ মাসে সম্পূরক বাজেট দেওয়া বাস্তবসম্মত নয় উল্লেখ করে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেন, কারণ অর্থবছরের শেষ দিন পর্যন্ত ব্যয় অব্যাহত থাকে। তিনি বলেন, “মার্চের পরে এপ্রিল, এপ্রিলের পরে মে এবং তারপরে জুন। জুন মাসের ৩০ তারিখ পর্যন্ত টাকা খরচ হয়। কাজেই সম্পূরক বাজেট কখনোই মার্চ মাসে দেওয়া যাবে না। এটা দিতে হবে জুন মাসে।” সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে আলোচনার ভিত্তিতেই কোন কোন মন্ত্রণালয়ের দাবির ওপর ছাঁটাই প্রস্তাব আলোচনা হবে, তা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
চিফ হুইপ বলেন, “জাতীয় স্বার্থে যদি আমরা একত্রিত হই, এটার দোষের কিছু নেই।”
অধিবেশন কয়েক মাস ধরে
এদিন বিরোধী দলের কয়েকজন এমপি সংসদে ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় অংশগ্রহণের সুযোগ ‘সীমিত রাখার’ বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন।
চট্টগ্রাম-১৫ আসনের জামায়াতের এমপি শাহজাহান চৌধুরী বলেন, বাইরে এমন বার্তা যাওয়া উচিত নয় যে বিরোধী দল আলোচনা ছাড়াই সবকিছু মেনে নিচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা বিরোধী দল হিসেবে এখানে ভূমিকা রাখতেছি। আমরা জনগণের জন্য কথা বলতেছি।”
জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সব সদস্যকে বক্তব্যের সুযোগ দেওয়া হলে বাজেট অধিবেশন কয়েক মাস ধরে চলতে হবে। সংসদীয় কার্যক্রম সচল রাখতে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সমঝোতা হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়।
স্পিকার জানান, বিরোধী দলের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দাবির ওপর ছাঁটাই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে, বাকি দাবিগুলো সরাসরি ভোটে নিষ্পত্তি করা হবে। তিনি বলেন, সংবিধানের ৮৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দায়যুক্ত ব্যয় আলোচনা করা গেলেও তা ভোটের আওতাভুক্ত নয়।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬
মার্চ মাসের মধ্যেই সম্পূরক বাজেট উত্থাপন এবং অনুমোদন নিতে সরকারি দলকে পরামর্শ দিয়েছেন বিরোধী দলের কয়েকজন সদস্য। তারা বলছেন, অর্থবছরের শেষ সময়ে (জুন) এসে সম্পূরক বাজেটের মাধ্যমে অতিরিক্ত ব্যয়ের অনুমোদন নেওয়ার ‘প্রচলিত প্রক্রিয়া’ অনুসরণ করায় জাতীয় সংসদের কার্যকর নজরদারি ও অনুমোদন দেওয়ার ক্ষমতা অনেকটাই ‘আনুষ্ঠানিকতায়’ সীমিত হয়ে যাচ্ছে। তারা বলেন, সরকার আগে ব্যয় সম্পন্ন করে পরে সংসদের অনুমোদন চায়, পাশ করা ছাড়া কোন উপায় নাই। এই চর্চা বন্ধ হওয়া দরকার।
সোমবার (১৫ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের মঞ্জুরি দাবির ওপর ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় এসব কথা উঠে আসে।
এদিন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তরপর্ব টেবিলে উপস্থাপিত হয়। এরপর সম্পূরক বাজেটের ২৫টি মঞ্জুরি দাবির ওপর ভোট শুরু হয়। স্পিকার বলেন, এসব দাবির বিপরীতে ২০ জন সংসদ সদস্য ৩০৪টি ছাঁটাই প্রস্তাবের নোটিস দিয়েছেন।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটে ২৭টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও প্রতিষ্ঠানের বরাদ্দ বাড়ানো হয় ৫৬ হাজার ১১৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। একই সময়ে ৩৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বরাদ্দ কমানো হয় ৫৯ হাজার ৩৪৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।
এই চর্চা বন্ধ হওয়া দরকার
সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনার শুরুতেই ঢাকা-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) সৈয়দ জয়নুল আবেদীন খরচের পর সংসদের অনুমোদন নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, সম্পূরক বাজেটের উপরে যে খরচ করে, এর পরে অনুমোদন নেওয়া- এই চর্চা বন্ধ হওয়া দরকার। এটা দেশের জন্য, দেশের অর্থনীতির জন্য ভালো হবে।
পরিকল্পনা বিভাগের মঞ্জুরি দাবির ওপর আলোচনায় পাবনা-১ আসনের জামায়াতের এমপি মোহাম্মদ নাজিবুর রহমানও একই ধরনের প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, সংবিধানের ৯১ অনুচ্ছেদের আওতায় সরকার অতিরিক্ত ব্যয় করে পরে তা সম্পূরক বাজেট হিসেবে সংসদে অনুমোদনের জন্য আনে।
বিরোধী দলীয় এই এমপি বলেন, “তিনি খরচ করবেন, তারপরে এটা রাবার স্ট্যাম্পের মতো সম্পূরক বাজেট হিসেবে সংসদে পেশ করা হবে। আমাদের পাস করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।”
মার্চে নয় কেন?
সরকারি অর্থ ও বাজেট ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৯-এর প্রসঙ্গ তুলে এমপি নাজিবুর রহমান বলেন, আইনে সংশোধিত বাজেট ‘যথাসম্ভব’ মার্চ মাসের মধ্যে পেশ করার কথা বলা হয়েছে। ‘যথাসম্ভব’- শব্দটির ‘অপব্যবহার করে’ সম্পূরক বাজেট কখনোই মার্চ মাসে দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।
আইনে ‘যথাসম্ভব’ শব্দটি রাখার যৌক্তিকতাও নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এমপি নাজিবুর।
মার্চ মাসে কেন সম্পূরক বাজেট আনা হলো না, সেই ব্যাখ্যা সরকারের দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিরোধী দলীয় এই আইনপ্রণেতা বলেন, “মার্চ গেল, এপ্রিল গেল, মে গেল; দুইটা মাসেও সম্পূরক বাজেট দিতে ব্যর্থ হলো। জুন মাসে এসে সম্পূরক বাজেট দিল।”
আগে অনুমোদন
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মঞ্জুরি দাবির ওপর আলোচনায় বাগেরহাট-৪ আসনের জামায়াতের এমপি মো. আবদুল আলিম বলেন, সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় সুশাসন নিশ্চিত করা গেলে অনেক ক্ষেত্রে সম্পূরক বাজেটের প্রয়োজনই পড়ত না।
তিনি বলেন, “আগে খরচ, তারপরে অনুমোদন, এই রীতি চালু হয়েছে। আমি আপনার মাধ্যমে এই মহান সংসদে উত্থাপন করতে চাই, আগে অনুমোদন, তারপরে খরচ।” তার মতে, অর্থবছরের শেষ দিকে তড়িঘড়ি করে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রবণতা অপচয় ও অনিয়মের ঝুঁকি বাড়ায়।
এমপিদের বক্তব্যের জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, খরচের আগে সংসদের অনুমোদন নেওয়ার ব্যবস্থা থাকলে সংসদের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হতো। তিনি বলেন, “আমিও বিশ্বাস করি, রাষ্ট্রীয় খরচ যা কিছু, সেটা আগেই সংসদে অনুমোদন নেওয়া উচিত। তবে নানা কারণে এটা হয়তো সম্ভব হয় না।”
দীর্ঘদিনের রেওয়াজ
দীর্ঘদিন ধরেই সম্পূরক বাজেট একই পদ্ধতিতে পাস হয়ে আসছে উল্লেখ করে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, এটি এক ধরনের সংসদীয় রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, “প্রত্যেকটি আইটেম খরচের আগে যদি সংসদে অনুমোদন নেওয়ার মতো কোনো ব্যবস্থা করা হতো, তাহলে ভালো হতো। সংসদের সার্বভৌমত্ব আরও দৃঢ়তর হতো। ভবিষ্যতের জন্য সে ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করে দেখতে পারি।”
‘দোষের কিছু নেই’
মার্চ মাসে সম্পূরক বাজেট দেওয়া বাস্তবসম্মত নয় উল্লেখ করে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেন, কারণ অর্থবছরের শেষ দিন পর্যন্ত ব্যয় অব্যাহত থাকে। তিনি বলেন, “মার্চের পরে এপ্রিল, এপ্রিলের পরে মে এবং তারপরে জুন। জুন মাসের ৩০ তারিখ পর্যন্ত টাকা খরচ হয়। কাজেই সম্পূরক বাজেট কখনোই মার্চ মাসে দেওয়া যাবে না। এটা দিতে হবে জুন মাসে।” সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে আলোচনার ভিত্তিতেই কোন কোন মন্ত্রণালয়ের দাবির ওপর ছাঁটাই প্রস্তাব আলোচনা হবে, তা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
চিফ হুইপ বলেন, “জাতীয় স্বার্থে যদি আমরা একত্রিত হই, এটার দোষের কিছু নেই।”
অধিবেশন কয়েক মাস ধরে
এদিন বিরোধী দলের কয়েকজন এমপি সংসদে ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় অংশগ্রহণের সুযোগ ‘সীমিত রাখার’ বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন।
চট্টগ্রাম-১৫ আসনের জামায়াতের এমপি শাহজাহান চৌধুরী বলেন, বাইরে এমন বার্তা যাওয়া উচিত নয় যে বিরোধী দল আলোচনা ছাড়াই সবকিছু মেনে নিচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা বিরোধী দল হিসেবে এখানে ভূমিকা রাখতেছি। আমরা জনগণের জন্য কথা বলতেছি।”
জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সব সদস্যকে বক্তব্যের সুযোগ দেওয়া হলে বাজেট অধিবেশন কয়েক মাস ধরে চলতে হবে। সংসদীয় কার্যক্রম সচল রাখতে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সমঝোতা হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়।
স্পিকার জানান, বিরোধী দলের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দাবির ওপর ছাঁটাই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে, বাকি দাবিগুলো সরাসরি ভোটে নিষ্পত্তি করা হবে। তিনি বলেন, সংবিধানের ৮৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দায়যুক্ত ব্যয় আলোচনা করা গেলেও তা ভোটের আওতাভুক্ত নয়।

আপনার মতামত লিখুন