সংবাদ

সৌদি বধের রাতে ইয়ামাল-ঝড়: ধ্বংসস্তূপ থেকে স্প্যানিশ আর্মাডার রাজকীয় প্রত্যাবর্তন


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ১১:১০ পিএম

সৌদি বধের রাতে ইয়ামাল-ঝড়: ধ্বংসস্তূপ থেকে স্প্যানিশ আর্মাডার রাজকীয় প্রত্যাবর্তন

প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের সাথে অপ্রত্যাশিত ড্রয়ের ধাক্কা। নকআউটের টিকিট নিয়ে সংশয় আর উৎকণ্ঠা। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া বলতে যা বোঝায়, স্পেনের অবস্থা হয়েছিল ঠিক তাই। বিশ্বমঞ্চে টিকে থাকতে হলে আজ সৌদি আরবের বিপক্ষে জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না স্প্যানিশ আর্মাডার সামনে। আর সেই মহাগুরুত্বপূর্ণ বাঁচা-মরার লড়াইয়েই স্বরূপে ফিরল স্পেন। মাঠের সবুজ ঘাসে যেন এক আগুনে ফুটবল খেলল তারা। প্রথমার্ধের মাত্র ২৪ মিনিটেই প্রতিপক্ষকে ৩-০ গোলে ধ্বংস করে দিয়ে নকআউটের পথে এক পা বাড়িয়ে রাখল লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা।

কেপ ভার্দের বিপক্ষে আগের ম্যাচে শুরু থেকে মাঠে নামতে পারেননি স্প্যানিশ বিস্ময় বালক লামিনে ইয়ামাল। শেষ ২০ মিনিটের জন্য যখন তাকে নামানো হয়েছিল, ততক্ষণে বড্ড দেরি হয়ে গেছে। প্রতিপক্ষের জমাট রক্ষণ ভাঙতে পারেননি তিনি, ম্যাচটি শেষ হয়েছিল গোলশূন্য ড্রয়ে। কিন্তু আজ আটলান্টার মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামে কোনো ভুল করতে চাননি স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।

নকআউটে যাওয়ার সমীকরণ মেলাতে তিনি শুরুর একাদশেই ফিরিয়ে আনেন লামিনে ইয়ামালকে, পাশে রাখেন দানি ওলমোকেও। কোচের সেই আস্থার প্রতিদান দিতেও সময় নেননি বার্সেলোনার এই তরুণ তুর্কি। ম্যাচের শুরু থেকেই সৌদির গোলমুখে স্প্যানিশ আক্রমণের যে ঝড় উঠেছিল, তার প্রধান সেনানি ছিলেন এই ইয়ামাল। পুরোপুরি রক্ষণাত্মক কৌশল নিয়েও সৌদি আরবের ডিফেন্ডাররা সেই গতি সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন।

ম্যাচের বয়স তখন মাত্র ১০ মিনিট। লেফট উইং ধরে বল নিয়ে ক্ষিপ্র গতিতে এগিয়ে যান মিকেল ওয়ারজাবাল। সৌদির রক্ষণভাগকে বোকা বানিয়ে তিনি একটি নিখুঁত নিচু ক্রস দেন ডি-বক্সের ভেতর। পোস্টের সামনে মাটি কামড়ে আসা সেই পাস যেন চুম্বকের মতো খুঁজে নেয় ইয়ামালের পা। চোখের পলকে দারুণ এক শটে বল সৌদির জালে জড়িয়ে দেন ইয়ামাল। ১-০ গোলে এগিয়ে যায় স্পেন, গ্যালারিতে তখন স্প্যানিশ সমর্থকদের গগনবিদারী উল্লাস। প্রথম গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই ম্যাচের ২১তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ওয়ারজাবাল। কর্নার কিক থেকে ভেসে আসা বল যখন সৌদির বক্সের সামনে ভাসছিল, তখন ফাঁকায় বল পেয়ে যান তিনি। ঠাণ্ডা মাথায় বল জালে পাঠিয়ে স্কোরলাইন করেন ২-০।

স্পেনের ক্ষুধার্ত আক্রমণভাগ যেন এখানেই থামতে চাচ্ছিল না। সৌদির রক্ষণকে পুরোপুরি দিশেহারা করে দিয়ে ২৪তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের পক্ষে তৃতীয় গোলটি আদায় করে নেন সেই মিকেল ওয়ারজাবাল। মাত্র ১৪ মিনিটের ব্যবধানে ৩ গোল হজম করে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় সৌদি আরব।

প্রথমার্ধের বাকি সময়ে আরও কয়েকটি আক্রমণ হলেও ব্যবধান আর বাড়েনি, তবে ৩-০ গোলের বিশাল লিড নিয়ে বিরতিতে যায় লা রোহারা। উনাই সিমন, লাপোর্তে, রদ্রি, পেদ্রিদের নিয়ে গড়া স্পেনের শক্তিশালী একাদশের সামনে সৌদির আল-ওয়াইজ, সালেম আল-দাওসারিরা প্রথমার্ধে ছিলেন একেবারেই অসহায়। এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রমাণ করল, খাঁচায় বন্দী সিংহ যেমন দ্বিগুণ শক্তিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে, স্পেনও ঠিক তেমনিভাবে নকআউটের টিকিট ছিনিয়ে নিতে আজ গর্জে উঠেছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ২২ জুন ২০২৬


সৌদি বধের রাতে ইয়ামাল-ঝড়: ধ্বংসস্তূপ থেকে স্প্যানিশ আর্মাডার রাজকীয় প্রত্যাবর্তন

প্রকাশের তারিখ : ২১ জুন ২০২৬

featured Image

প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের সাথে অপ্রত্যাশিত ড্রয়ের ধাক্কা। নকআউটের টিকিট নিয়ে সংশয় আর উৎকণ্ঠা। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া বলতে যা বোঝায়, স্পেনের অবস্থা হয়েছিল ঠিক তাই। বিশ্বমঞ্চে টিকে থাকতে হলে আজ সৌদি আরবের বিপক্ষে জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না স্প্যানিশ আর্মাডার সামনে। আর সেই মহাগুরুত্বপূর্ণ বাঁচা-মরার লড়াইয়েই স্বরূপে ফিরল স্পেন। মাঠের সবুজ ঘাসে যেন এক আগুনে ফুটবল খেলল তারা। প্রথমার্ধের মাত্র ২৪ মিনিটেই প্রতিপক্ষকে ৩-০ গোলে ধ্বংস করে দিয়ে নকআউটের পথে এক পা বাড়িয়ে রাখল লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা।

কেপ ভার্দের বিপক্ষে আগের ম্যাচে শুরু থেকে মাঠে নামতে পারেননি স্প্যানিশ বিস্ময় বালক লামিনে ইয়ামাল। শেষ ২০ মিনিটের জন্য যখন তাকে নামানো হয়েছিল, ততক্ষণে বড্ড দেরি হয়ে গেছে। প্রতিপক্ষের জমাট রক্ষণ ভাঙতে পারেননি তিনি, ম্যাচটি শেষ হয়েছিল গোলশূন্য ড্রয়ে। কিন্তু আজ আটলান্টার মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামে কোনো ভুল করতে চাননি স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।

নকআউটে যাওয়ার সমীকরণ মেলাতে তিনি শুরুর একাদশেই ফিরিয়ে আনেন লামিনে ইয়ামালকে, পাশে রাখেন দানি ওলমোকেও। কোচের সেই আস্থার প্রতিদান দিতেও সময় নেননি বার্সেলোনার এই তরুণ তুর্কি। ম্যাচের শুরু থেকেই সৌদির গোলমুখে স্প্যানিশ আক্রমণের যে ঝড় উঠেছিল, তার প্রধান সেনানি ছিলেন এই ইয়ামাল। পুরোপুরি রক্ষণাত্মক কৌশল নিয়েও সৌদি আরবের ডিফেন্ডাররা সেই গতি সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন।

ম্যাচের বয়স তখন মাত্র ১০ মিনিট। লেফট উইং ধরে বল নিয়ে ক্ষিপ্র গতিতে এগিয়ে যান মিকেল ওয়ারজাবাল। সৌদির রক্ষণভাগকে বোকা বানিয়ে তিনি একটি নিখুঁত নিচু ক্রস দেন ডি-বক্সের ভেতর। পোস্টের সামনে মাটি কামড়ে আসা সেই পাস যেন চুম্বকের মতো খুঁজে নেয় ইয়ামালের পা। চোখের পলকে দারুণ এক শটে বল সৌদির জালে জড়িয়ে দেন ইয়ামাল। ১-০ গোলে এগিয়ে যায় স্পেন, গ্যালারিতে তখন স্প্যানিশ সমর্থকদের গগনবিদারী উল্লাস। প্রথম গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই ম্যাচের ২১তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ওয়ারজাবাল। কর্নার কিক থেকে ভেসে আসা বল যখন সৌদির বক্সের সামনে ভাসছিল, তখন ফাঁকায় বল পেয়ে যান তিনি। ঠাণ্ডা মাথায় বল জালে পাঠিয়ে স্কোরলাইন করেন ২-০।

স্পেনের ক্ষুধার্ত আক্রমণভাগ যেন এখানেই থামতে চাচ্ছিল না। সৌদির রক্ষণকে পুরোপুরি দিশেহারা করে দিয়ে ২৪তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের পক্ষে তৃতীয় গোলটি আদায় করে নেন সেই মিকেল ওয়ারজাবাল। মাত্র ১৪ মিনিটের ব্যবধানে ৩ গোল হজম করে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় সৌদি আরব।

প্রথমার্ধের বাকি সময়ে আরও কয়েকটি আক্রমণ হলেও ব্যবধান আর বাড়েনি, তবে ৩-০ গোলের বিশাল লিড নিয়ে বিরতিতে যায় লা রোহারা। উনাই সিমন, লাপোর্তে, রদ্রি, পেদ্রিদের নিয়ে গড়া স্পেনের শক্তিশালী একাদশের সামনে সৌদির আল-ওয়াইজ, সালেম আল-দাওসারিরা প্রথমার্ধে ছিলেন একেবারেই অসহায়। এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রমাণ করল, খাঁচায় বন্দী সিংহ যেমন দ্বিগুণ শক্তিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে, স্পেনও ঠিক তেমনিভাবে নকআউটের টিকিট ছিনিয়ে নিতে আজ গর্জে উঠেছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত