বিশ্বকাপের মঞ্চ মানেই এক অদ্ভুত জাদুর দুনিয়া, যেখানে একই শহরের বুকে দুই ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষ মেতে ওঠে অভিন্ন উল্লাসে। সোমবারের মহাদূরের এক ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বের পরাশক্তি আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রিয়া। এই মহারণকে কেন্দ্র করে এখন নর্থ টেক্সাসজুড়ে বিরাজ করছে এক অভূতপূর্ব উৎসবের আমেজ। বিশেষ করে কানসাস সিটিতে গত সপ্তাহে লিওনেল মেসির সেই অবিশ্বাস্য হ্যাটট্রিকের পর আর্জেন্টাইন সমর্থকদের উন্মাদনা যেন আকাশ ছুঁয়েছে। ইউলেসে অবস্থিত ‘আর্জেন্টিনা ১৬৩’ রেস্তোরাঁর সামনে গেলেই চোখে পড়ে আকাশি-সাদা পতাকার ঢেউ আর জার্সির মেলা।
সবার মনে একটাই প্রতীক্ষা, আর্লিংটনের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে আবারও দেখা যাবে ফুটবলের রাজপুত্রের জাদুকরী পারফরম্যান্স। আর্জেন্টিনা থেকে উড়ে আসা ফুটবলপ্রেমী এরিক ভ্রাইলোভস্কি যেমনটা বলছিলেন, "বাইরে ফুড ট্রাক, পতাকা আর উৎসবের পরিবেশ দেখে বুঝে গিয়েছিলাম আমরা ঠিক জায়গাতেই এসেছি।"
সমর্থকদের কাছ থেকে কী প্রত্যাশা, এমন প্রশ্নে তিনি বুকভরা আবেগ নিয়ে বলেন, "অবারিত উল্লাস, বিরামহীন গান আর স্লোগান। আর্জেন্টিনার সমর্থকদের কাছ থেকে আপনি সব সময়ই এমন পরিবেশ পাবেন। সবাই গান গায়, চিৎকার করে, আর পুরো ব্যাপারটাই ভীষণ উপভোগ্য।"
অন্য প্রান্তে, ছোট দেশ হলেও বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার চোখে চোখ রেখে লড়াই করতে প্রস্তুত অস্ট্রিয়া। শনিবার বিকেলে প্লানোর অস্ট্রিয়ান রেস্তোরাঁ ‘ইয়র্গ’স ক্যাফে ভিয়েনা’ যেন রূপ নিয়েছিল এক টুকরো ভিয়েনায়। এবারের বিশ্বকাপ তাদের জন্য এক আবেগের পুনর্জন্ম, কারণ দীর্ঘ ২৮ বছর পর তারা আবার খেলছে বিশ্বকাপের মূল পর্বে। কাকতালীয়ভাবে, এই ম্যাচের ঠিক আগের দিন ডালাসে অস্ট্রিয়ার নতুন কনস্যুলেট উদ্বোধন হতে যাচ্ছে, যা প্রবাসীদের আনন্দ বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ।
ডালাসে অস্ট্রিয়ার সম্মানসূচক কনসাল হুবার্ট জায়িচেক সেই আবহের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, "আপনারা আমাদের জাতীয় রঙই সবচেয়ে বেশি দেখতে পাবেন। অস্ট্রিয়ার পতাকার রঙ লাল ও সাদা, তাই চারপাশ লাল-সাদায় ভরে যাবে। কেউ কেউ ঐতিহ্যবাহী লেডারহোজেন পরে আসবে, আবার অনেকে অস্ট্রিয়ার সংস্কৃতির অন্য নিদর্শনও সঙ্গে আনবে।"
নর্থ টেক্সাসে বসবাসরত অস্ট্রিয়ান প্রবাসী রিক গ্রুনবাউম ও ক্যাথরিন স্টেইনবার্গারের জন্য এই ম্যাচটি শুধু ফুটবল নয়, নিজেদের শিকড়কে চেনার এক মহা উৎসব। প্রথম ম্যাচে জর্ডানকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী অস্ট্রিয়া এই ম্যাচেও লড়বে বুক চিতিয়ে।
ক্যাথরিন স্টেইনবার্গার নিজের রোমাঞ্চ প্রকাশ করে বলেন, "এটা দারুণ রোমাঞ্চকর। বিভিন্ন দলকে তাদের নিজস্ব পরিচয়ে দেখতে ভালো লাগে, তবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে অস্ট্রিয়া জাতীয় দলকে স্বীকৃতি পেতে দেখা বিশেষ কিছু।" ফলাফল যাই হোক না কেন, ফুটবলকে উদযাপনের মন্ত্রে দীক্ষিত ক্যাথরিন আরও বলেন, "সত্যি বলতে, ফল যাই হোক না কেন, আমরা উদযাপন করব। হয় আমরা মেসির বিপক্ষে খেলছি, নয়তো মেসিকে হারাচ্ছি। দুই ক্ষেত্রেই উদযাপনের কারণ আছে। থাকবে প্রচুর স্লোগান আর উৎসব।"
তার সুরে সুর মিলিয়ে রিক গ্রুনবাউম বলেন, "এভাবে দেখলে যেকোনো ফলই আমাদের জন্য আনন্দের। ম্যাচ যেভাবেই শেষ হোক, আমরা উপভোগ করব। আমরা জীবন উপভোগ করতে ভালোবাসি। এখানকার সংগীতেও সেটা ফুটে ওঠে। আমরা একত্র হই, পরিবারের মতো সময় কাটাই।" ফুটবল আসলে এভাবেই মানচিত্রের সীমানা মুছে দিয়ে মানুষকে মিলিয়ে দেয় এক সুতোয়।

সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ জুন ২০২৬
বিশ্বকাপের মঞ্চ মানেই এক অদ্ভুত জাদুর দুনিয়া, যেখানে একই শহরের বুকে দুই ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষ মেতে ওঠে অভিন্ন উল্লাসে। সোমবারের মহাদূরের এক ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বের পরাশক্তি আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রিয়া। এই মহারণকে কেন্দ্র করে এখন নর্থ টেক্সাসজুড়ে বিরাজ করছে এক অভূতপূর্ব উৎসবের আমেজ। বিশেষ করে কানসাস সিটিতে গত সপ্তাহে লিওনেল মেসির সেই অবিশ্বাস্য হ্যাটট্রিকের পর আর্জেন্টাইন সমর্থকদের উন্মাদনা যেন আকাশ ছুঁয়েছে। ইউলেসে অবস্থিত ‘আর্জেন্টিনা ১৬৩’ রেস্তোরাঁর সামনে গেলেই চোখে পড়ে আকাশি-সাদা পতাকার ঢেউ আর জার্সির মেলা।
সবার মনে একটাই প্রতীক্ষা, আর্লিংটনের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে আবারও দেখা যাবে ফুটবলের রাজপুত্রের জাদুকরী পারফরম্যান্স। আর্জেন্টিনা থেকে উড়ে আসা ফুটবলপ্রেমী এরিক ভ্রাইলোভস্কি যেমনটা বলছিলেন, "বাইরে ফুড ট্রাক, পতাকা আর উৎসবের পরিবেশ দেখে বুঝে গিয়েছিলাম আমরা ঠিক জায়গাতেই এসেছি।"
সমর্থকদের কাছ থেকে কী প্রত্যাশা, এমন প্রশ্নে তিনি বুকভরা আবেগ নিয়ে বলেন, "অবারিত উল্লাস, বিরামহীন গান আর স্লোগান। আর্জেন্টিনার সমর্থকদের কাছ থেকে আপনি সব সময়ই এমন পরিবেশ পাবেন। সবাই গান গায়, চিৎকার করে, আর পুরো ব্যাপারটাই ভীষণ উপভোগ্য।"
অন্য প্রান্তে, ছোট দেশ হলেও বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার চোখে চোখ রেখে লড়াই করতে প্রস্তুত অস্ট্রিয়া। শনিবার বিকেলে প্লানোর অস্ট্রিয়ান রেস্তোরাঁ ‘ইয়র্গ’স ক্যাফে ভিয়েনা’ যেন রূপ নিয়েছিল এক টুকরো ভিয়েনায়। এবারের বিশ্বকাপ তাদের জন্য এক আবেগের পুনর্জন্ম, কারণ দীর্ঘ ২৮ বছর পর তারা আবার খেলছে বিশ্বকাপের মূল পর্বে। কাকতালীয়ভাবে, এই ম্যাচের ঠিক আগের দিন ডালাসে অস্ট্রিয়ার নতুন কনস্যুলেট উদ্বোধন হতে যাচ্ছে, যা প্রবাসীদের আনন্দ বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ।
ডালাসে অস্ট্রিয়ার সম্মানসূচক কনসাল হুবার্ট জায়িচেক সেই আবহের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, "আপনারা আমাদের জাতীয় রঙই সবচেয়ে বেশি দেখতে পাবেন। অস্ট্রিয়ার পতাকার রঙ লাল ও সাদা, তাই চারপাশ লাল-সাদায় ভরে যাবে। কেউ কেউ ঐতিহ্যবাহী লেডারহোজেন পরে আসবে, আবার অনেকে অস্ট্রিয়ার সংস্কৃতির অন্য নিদর্শনও সঙ্গে আনবে।"
নর্থ টেক্সাসে বসবাসরত অস্ট্রিয়ান প্রবাসী রিক গ্রুনবাউম ও ক্যাথরিন স্টেইনবার্গারের জন্য এই ম্যাচটি শুধু ফুটবল নয়, নিজেদের শিকড়কে চেনার এক মহা উৎসব। প্রথম ম্যাচে জর্ডানকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী অস্ট্রিয়া এই ম্যাচেও লড়বে বুক চিতিয়ে।
ক্যাথরিন স্টেইনবার্গার নিজের রোমাঞ্চ প্রকাশ করে বলেন, "এটা দারুণ রোমাঞ্চকর। বিভিন্ন দলকে তাদের নিজস্ব পরিচয়ে দেখতে ভালো লাগে, তবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে অস্ট্রিয়া জাতীয় দলকে স্বীকৃতি পেতে দেখা বিশেষ কিছু।" ফলাফল যাই হোক না কেন, ফুটবলকে উদযাপনের মন্ত্রে দীক্ষিত ক্যাথরিন আরও বলেন, "সত্যি বলতে, ফল যাই হোক না কেন, আমরা উদযাপন করব। হয় আমরা মেসির বিপক্ষে খেলছি, নয়তো মেসিকে হারাচ্ছি। দুই ক্ষেত্রেই উদযাপনের কারণ আছে। থাকবে প্রচুর স্লোগান আর উৎসব।"
তার সুরে সুর মিলিয়ে রিক গ্রুনবাউম বলেন, "এভাবে দেখলে যেকোনো ফলই আমাদের জন্য আনন্দের। ম্যাচ যেভাবেই শেষ হোক, আমরা উপভোগ করব। আমরা জীবন উপভোগ করতে ভালোবাসি। এখানকার সংগীতেও সেটা ফুটে ওঠে। আমরা একত্র হই, পরিবারের মতো সময় কাটাই।" ফুটবল আসলে এভাবেই মানচিত্রের সীমানা মুছে দিয়ে মানুষকে মিলিয়ে দেয় এক সুতোয়।

আপনার মতামত লিখুন