প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ৪-২ গোলে হেরে নকআউট পর্বে ওঠা নিয়ে চরম শঙ্কায় পড়েছিল ক্রোয়েশিয়া। তবে গ্রুপ পর্বের অন্য ম্যাচে ইংল্যান্ড ও ঘানা গোলশূন্য ড্র করায় লুকা মদ্রিচদের সামনে সুযোগ তৈরি হয়। সেই সুযোগ হাতছাড়া করেনি ২০১৮ সালের রানার্সআপরা। টরন্টোর বিএমও ফিল্ড স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘এল’-এর বাঁচা-মরার ম্যাচে পানামাকে ১-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোর আশা বাঁচিয়ে রাখল জ্লাতকো দালিচের দল। অন্যদিকে এই হারে বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের ঘণ্টা বেজে গেল পানামার।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের ওপর ছিল বিদায়ের তীব্র চাপ। লুকা মদ্রিচের ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই সুযোগ এসেছিল ক্রোয়েশিয়ার সামনে, কিন্তু ইভান পেরিসিচের ক্রস থেকে তার হেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। প্রথমার্ধে আক্রমণে বেশি ধারালো ছিল পানামা। ম্যাচের ২২ মিনিটে মার্টিনেজ ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে দারুণ শট নিলেও ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক ডমিনিক লিভাকোভিচ তা রুখে দেন।
এর পরের মিনিটেই মুরিলোর ক্রস থেকে রদ্রিগেজের হেড ক্রসবারে লাগার আগে লিভাকোভিচ অসাধারণ দক্ষতায় বল ছুঁয়ে দেন। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ক্রোয়েশিয়ার মার্টিন বাতুরিনার দূরপাল্লার শট পানামার গোলরক্ষক মস্কুয়েরা ঠেকিয়ে দিলে গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।
বিরতি থেকে ফিরেই কৌশলগত পরিবর্তন আনেন ক্রোয়েশিয়া কোচ দালিচ। পেতার মুসা ও জশকো জিভার্দিওলের জায়গায় তিনি মাঠে নামান আন্তে বুদিমির ও আন্দ্রেই ক্রামারিচকে। এই চালের সুফল আসে ম্যাচের ৫৪ মিনিটে। মারকো পাসালিচের ফ্লিক থেকে বল পেয়ে বায়ার্ন মিউনিখের ডিফেন্ডার ইয়োসিপ স্তানিসিচ গোললাইন থেকে নিখুঁত ক্রস বাড়ান। আর ফাঁকায় থাকা বদলি খেলোয়াড় বুদিমির সহজ টোকায় বল জালে জড়িয়ে ক্রোয়েশিয়াকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন। এরপর ৫৭ মিনিটে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে মদ্রিচের পাস থেকে পাসালিচ ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেলেও পানামার গোলরক্ষক তা প্রতিহত করেন।
ম্যাচের ৬৮ মিনিটে সমতায় ফিরতে মরিয়া পানামা অবিশ্বাস্য আক্রমণ চালায়। তবে ক্রোয়েশিয়ান গোলরক্ষক লিভাকোভিচ দেয়াল হয়ে দাঁড়ান। প্রথমে মুরিলোর শট এবং ফিরতি শট দুইবারই ঠেকিয়ে দেন তিনি। এরপর কর্নার থেকে আসা বলে হার্ভির হেডও অবিশ্বাস্যভাবে ক্রসবারের ওপর দিয়ে ঠেলে দেন লিভাকোভিচ। কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে তিনটি নিশ্চিত সুযোগ নষ্ট করে পানামা।
ম্যাচের ৮১ মিনিটে মাঠ ছাড়ার সময় দর্শকদের দাঁড়িয়ে অভিবাদন পান ৪০ বছর বয়সী অধিনায়ক লুকা মদ্রিচ। শেষ মুহূর্তে ৯২ মিনিটে বক্সের বাইরে বিপজ্জনক জায়গায় ফ্রি-কিক পেলেও মুরিলোর শট গ্যালারিতে চলে গেলে সমতায় ফেরার সব আশা শেষ হয়ে যায় পানামার।
এই জয়ে ৩ পয়েন্ট নিয়ে শেষ ম্যাচের আগে নিজেদের ভাগ্য নিজেদের হাতেই রাখল ক্রোয়েশিয়া, যেখানে ইংল্যান্ড ও ঘানার পয়েন্ট ৪ করে।

বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুন ২০২৬
প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ৪-২ গোলে হেরে নকআউট পর্বে ওঠা নিয়ে চরম শঙ্কায় পড়েছিল ক্রোয়েশিয়া। তবে গ্রুপ পর্বের অন্য ম্যাচে ইংল্যান্ড ও ঘানা গোলশূন্য ড্র করায় লুকা মদ্রিচদের সামনে সুযোগ তৈরি হয়। সেই সুযোগ হাতছাড়া করেনি ২০১৮ সালের রানার্সআপরা। টরন্টোর বিএমও ফিল্ড স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘এল’-এর বাঁচা-মরার ম্যাচে পানামাকে ১-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোর আশা বাঁচিয়ে রাখল জ্লাতকো দালিচের দল। অন্যদিকে এই হারে বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের ঘণ্টা বেজে গেল পানামার।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের ওপর ছিল বিদায়ের তীব্র চাপ। লুকা মদ্রিচের ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই সুযোগ এসেছিল ক্রোয়েশিয়ার সামনে, কিন্তু ইভান পেরিসিচের ক্রস থেকে তার হেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। প্রথমার্ধে আক্রমণে বেশি ধারালো ছিল পানামা। ম্যাচের ২২ মিনিটে মার্টিনেজ ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে দারুণ শট নিলেও ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক ডমিনিক লিভাকোভিচ তা রুখে দেন।
এর পরের মিনিটেই মুরিলোর ক্রস থেকে রদ্রিগেজের হেড ক্রসবারে লাগার আগে লিভাকোভিচ অসাধারণ দক্ষতায় বল ছুঁয়ে দেন। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ক্রোয়েশিয়ার মার্টিন বাতুরিনার দূরপাল্লার শট পানামার গোলরক্ষক মস্কুয়েরা ঠেকিয়ে দিলে গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।
বিরতি থেকে ফিরেই কৌশলগত পরিবর্তন আনেন ক্রোয়েশিয়া কোচ দালিচ। পেতার মুসা ও জশকো জিভার্দিওলের জায়গায় তিনি মাঠে নামান আন্তে বুদিমির ও আন্দ্রেই ক্রামারিচকে। এই চালের সুফল আসে ম্যাচের ৫৪ মিনিটে। মারকো পাসালিচের ফ্লিক থেকে বল পেয়ে বায়ার্ন মিউনিখের ডিফেন্ডার ইয়োসিপ স্তানিসিচ গোললাইন থেকে নিখুঁত ক্রস বাড়ান। আর ফাঁকায় থাকা বদলি খেলোয়াড় বুদিমির সহজ টোকায় বল জালে জড়িয়ে ক্রোয়েশিয়াকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন। এরপর ৫৭ মিনিটে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে মদ্রিচের পাস থেকে পাসালিচ ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেলেও পানামার গোলরক্ষক তা প্রতিহত করেন।
ম্যাচের ৬৮ মিনিটে সমতায় ফিরতে মরিয়া পানামা অবিশ্বাস্য আক্রমণ চালায়। তবে ক্রোয়েশিয়ান গোলরক্ষক লিভাকোভিচ দেয়াল হয়ে দাঁড়ান। প্রথমে মুরিলোর শট এবং ফিরতি শট দুইবারই ঠেকিয়ে দেন তিনি। এরপর কর্নার থেকে আসা বলে হার্ভির হেডও অবিশ্বাস্যভাবে ক্রসবারের ওপর দিয়ে ঠেলে দেন লিভাকোভিচ। কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে তিনটি নিশ্চিত সুযোগ নষ্ট করে পানামা।
ম্যাচের ৮১ মিনিটে মাঠ ছাড়ার সময় দর্শকদের দাঁড়িয়ে অভিবাদন পান ৪০ বছর বয়সী অধিনায়ক লুকা মদ্রিচ। শেষ মুহূর্তে ৯২ মিনিটে বক্সের বাইরে বিপজ্জনক জায়গায় ফ্রি-কিক পেলেও মুরিলোর শট গ্যালারিতে চলে গেলে সমতায় ফেরার সব আশা শেষ হয়ে যায় পানামার।
এই জয়ে ৩ পয়েন্ট নিয়ে শেষ ম্যাচের আগে নিজেদের ভাগ্য নিজেদের হাতেই রাখল ক্রোয়েশিয়া, যেখানে ইংল্যান্ড ও ঘানার পয়েন্ট ৪ করে।

আপনার মতামত লিখুন