আগের ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার মতো শক্তিশালী দলকে ৪-২ গোলে উড়িয়ে দেওয়া ইংল্যান্ড নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেই হোঁচট খেলো। বিশ্বকাপের অন্যতম ফেবারিট দলটিকে এবার আটকে দিল ঘানার সুসংগঠিত রক্ষণভাগ। বোস্টনে অনুষ্ঠিত গ্রুপ পর্বের এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠের লড়াইয়ে বলের দখল, আক্রমণ ও সুযোগ তৈরিতে অনেক এগিয়ে থেকেও গোলের দেখা পায়নি থমাস টুখেলের শিষ্যরা।
অন্যদিকে, কার্লোস কুইরোজের ঘানা পুরো ম্যাচজুড়ে শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ ও দারুণ পাল্টা আক্রমণের কৌশল ধরে রেখে কাঙ্ক্ষিত এক পয়েন্ট ছিনিয়ে নিয়েছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের করে নেয় ইংল্যান্ড। প্রথম ২০ মিনিটে থ্রি লায়ন্সদের বল দখলের হার ছিল প্রায় ৮৮ শতাংশ। তবে আফ্রিকান পরাশক্তি ঘানা নিজেদের অর্ধে সব খেলোয়াড়কে নিয়ে রক্ষণাত্মক দেয়াল গড়ে তোলায় হ্যারি কেইন, জুদ বেলিংহ্যাম কিংবা ননি মাদুয়েকেরা গোলমুখে শট নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত জায়গা পাননি। ম্যাচের ১৪ মিনিটে ডেকলান রাইসের ফ্রি-কিক গোলবারের ওপর দিয়ে চলে যায়।
এরপর ১৬ মিনিটে রাইসের পাস থেকে এলিয়ট অ্যান্ডারসনের শট ব্লক করেন ঘানার ডিফেন্ডাররা। ৩৭ মিনিটে মাদুয়েকের ক্রস থেকে রাইসের হেডও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ইংল্যান্ড সবচেয়ে ভালো সুযোগটি পেলেও বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া অধিনায়ক হ্যারি কেইনের শট দুই ঘানাইয়ান ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে কর্নার হয়ে যায়।
আক্রমণে ঘানাও একদম চুপচাপ ছিল না। জর্দান আইউ, আন্তোয়েনি সেমেনিও এবং ইনাকি উইলিয়ামসকে সামনে রেখে তারা বেশ কয়েকবার পাল্টা আক্রমণে ওঠে। ৪২ মিনিটে সেমেনিওর একটি শক্তিশালী দৌড় ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগকে বেশ ব্যস্ত করে তুলেছিল।
তবে প্রথমার্ধে কোনো দলই প্রতিপক্ষের গোলমুখে একটি শটও রাখতে পারেনি। ফলে চলতি বিশ্বকাপের এই আসরে এবারই প্রথম কোনো ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষ হলো গোলমুখে কোনো শট ছাড়াই।
বিরতির পর ফিরে এসে ম্যাচের চিত্র খুব একটা বদলায়নি। ৫০ মিনিটে মারভিন সেনায়া ঘানার হয়ে দারুণ একটি সুযোগ পেলেও জেড স্পেন্সের বাধায় ঠিকঠাক শট নিতে পারেননি। এরপর ৫৮ মিনিটে অ্যান্থোনি গর্ডনের নেওয়া শটটি ছিল ম্যাচের প্রথম অন-টার্গেট প্রচেষ্টা, যা সহজেই লুফে নেন ঘানার গোলরক্ষক লরেন্স আসারে।
দলের এমন পরিস্থিতিতে কোচ টুখেল একের পর এক পরিবর্তন এনে বুকায়ো সাকা, নিকো ও’রেইলি, এবেরেচি এজে, মরগ্যান রজার্স এবং মার্কাস রাশফোর্ডকে মাঠে নামান। খেলোয়াড় বদলের পর ইংল্যান্ডের আক্রমণের ধার বাড়লেও গোলের লক খোলা সম্ভব হয়নি।
ম্যাচের ৭৯ মিনিটে ঘানাই সবচেয়ে বড় সুযোগটি তৈরি করে। ফাতাও ইসাহাকুর পাসে প্রিন্স আদু একা গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডকে সামনে পেয়ে যান। তবে এজরা কনসার সময়োপযোগী ট্যাকলে সে যাত্রা রক্ষা পায় ইংল্যান্ড, যদিও পরে অফসাইডের পতাকাও উঠেছিল।
৮৬ মিনিটে ইংল্যান্ড জয়ের একেবারে দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল। রিস জেমসের ক্রস থেকে নিকো ও’রেইলির হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে এবং ফিরতি বলে হ্যারি কেইনের শটও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। একই মিনিটে সাকার একটি শক্তিশালী শট অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দেন ঘানার গোলরক্ষক আসারে।
যোগ করা সময়ে ইংল্যান্ডের আক্রমণের চাপ আরও বাড়ে। ৯৪ মিনিটে রাইসের কর্নার থেকে মার্ক গুয়েহির হেড গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করেন কোজো পেপরাহ অপং। রিপ্লেতে দেখা যায় বলটি হয়তো পোস্টের বাইরেই যাচ্ছিল, তবে ঘানার ডিফেন্ডারের তৎপরতায় নিশ্চিত বিপদ দূর হয়।
শেষ পর্যন্ত ৯৭ মিনিটে রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উল্লাসে ফেটে পড়ে ঘানার খেলোয়াড় ও সমর্থকরা। পুরো ম্যাচের পরিসংখ্যানে ইংল্যান্ডের আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। থ্রি লায়ন্সরা মোট ১৯টি শট নেয়, যার মধ্যে মাত্র ৩টি ছিল লক্ষ্যে। এই ড্রয়ের ফলে ‘এল’ গ্রুপে ঘানা এবং ইংল্যান্ড দুই দলেরই পয়েন্ট সমান ৪ করে।
তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে শীর্ষে রয়েছে ইংলিশরা এবং দ্বিতীয় স্থানে ঘানা। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হবে ঘানা, আর ইংল্যান্ড লড়বে পানামার বিরুদ্ধে।

বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুন ২০২৬
আগের ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার মতো শক্তিশালী দলকে ৪-২ গোলে উড়িয়ে দেওয়া ইংল্যান্ড নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেই হোঁচট খেলো। বিশ্বকাপের অন্যতম ফেবারিট দলটিকে এবার আটকে দিল ঘানার সুসংগঠিত রক্ষণভাগ। বোস্টনে অনুষ্ঠিত গ্রুপ পর্বের এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠের লড়াইয়ে বলের দখল, আক্রমণ ও সুযোগ তৈরিতে অনেক এগিয়ে থেকেও গোলের দেখা পায়নি থমাস টুখেলের শিষ্যরা।
অন্যদিকে, কার্লোস কুইরোজের ঘানা পুরো ম্যাচজুড়ে শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ ও দারুণ পাল্টা আক্রমণের কৌশল ধরে রেখে কাঙ্ক্ষিত এক পয়েন্ট ছিনিয়ে নিয়েছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের করে নেয় ইংল্যান্ড। প্রথম ২০ মিনিটে থ্রি লায়ন্সদের বল দখলের হার ছিল প্রায় ৮৮ শতাংশ। তবে আফ্রিকান পরাশক্তি ঘানা নিজেদের অর্ধে সব খেলোয়াড়কে নিয়ে রক্ষণাত্মক দেয়াল গড়ে তোলায় হ্যারি কেইন, জুদ বেলিংহ্যাম কিংবা ননি মাদুয়েকেরা গোলমুখে শট নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত জায়গা পাননি। ম্যাচের ১৪ মিনিটে ডেকলান রাইসের ফ্রি-কিক গোলবারের ওপর দিয়ে চলে যায়।
এরপর ১৬ মিনিটে রাইসের পাস থেকে এলিয়ট অ্যান্ডারসনের শট ব্লক করেন ঘানার ডিফেন্ডাররা। ৩৭ মিনিটে মাদুয়েকের ক্রস থেকে রাইসের হেডও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ইংল্যান্ড সবচেয়ে ভালো সুযোগটি পেলেও বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া অধিনায়ক হ্যারি কেইনের শট দুই ঘানাইয়ান ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে কর্নার হয়ে যায়।
আক্রমণে ঘানাও একদম চুপচাপ ছিল না। জর্দান আইউ, আন্তোয়েনি সেমেনিও এবং ইনাকি উইলিয়ামসকে সামনে রেখে তারা বেশ কয়েকবার পাল্টা আক্রমণে ওঠে। ৪২ মিনিটে সেমেনিওর একটি শক্তিশালী দৌড় ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগকে বেশ ব্যস্ত করে তুলেছিল।
তবে প্রথমার্ধে কোনো দলই প্রতিপক্ষের গোলমুখে একটি শটও রাখতে পারেনি। ফলে চলতি বিশ্বকাপের এই আসরে এবারই প্রথম কোনো ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষ হলো গোলমুখে কোনো শট ছাড়াই।
বিরতির পর ফিরে এসে ম্যাচের চিত্র খুব একটা বদলায়নি। ৫০ মিনিটে মারভিন সেনায়া ঘানার হয়ে দারুণ একটি সুযোগ পেলেও জেড স্পেন্সের বাধায় ঠিকঠাক শট নিতে পারেননি। এরপর ৫৮ মিনিটে অ্যান্থোনি গর্ডনের নেওয়া শটটি ছিল ম্যাচের প্রথম অন-টার্গেট প্রচেষ্টা, যা সহজেই লুফে নেন ঘানার গোলরক্ষক লরেন্স আসারে।
দলের এমন পরিস্থিতিতে কোচ টুখেল একের পর এক পরিবর্তন এনে বুকায়ো সাকা, নিকো ও’রেইলি, এবেরেচি এজে, মরগ্যান রজার্স এবং মার্কাস রাশফোর্ডকে মাঠে নামান। খেলোয়াড় বদলের পর ইংল্যান্ডের আক্রমণের ধার বাড়লেও গোলের লক খোলা সম্ভব হয়নি।
ম্যাচের ৭৯ মিনিটে ঘানাই সবচেয়ে বড় সুযোগটি তৈরি করে। ফাতাও ইসাহাকুর পাসে প্রিন্স আদু একা গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডকে সামনে পেয়ে যান। তবে এজরা কনসার সময়োপযোগী ট্যাকলে সে যাত্রা রক্ষা পায় ইংল্যান্ড, যদিও পরে অফসাইডের পতাকাও উঠেছিল।
৮৬ মিনিটে ইংল্যান্ড জয়ের একেবারে দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল। রিস জেমসের ক্রস থেকে নিকো ও’রেইলির হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে এবং ফিরতি বলে হ্যারি কেইনের শটও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। একই মিনিটে সাকার একটি শক্তিশালী শট অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দেন ঘানার গোলরক্ষক আসারে।
যোগ করা সময়ে ইংল্যান্ডের আক্রমণের চাপ আরও বাড়ে। ৯৪ মিনিটে রাইসের কর্নার থেকে মার্ক গুয়েহির হেড গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করেন কোজো পেপরাহ অপং। রিপ্লেতে দেখা যায় বলটি হয়তো পোস্টের বাইরেই যাচ্ছিল, তবে ঘানার ডিফেন্ডারের তৎপরতায় নিশ্চিত বিপদ দূর হয়।
শেষ পর্যন্ত ৯৭ মিনিটে রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উল্লাসে ফেটে পড়ে ঘানার খেলোয়াড় ও সমর্থকরা। পুরো ম্যাচের পরিসংখ্যানে ইংল্যান্ডের আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। থ্রি লায়ন্সরা মোট ১৯টি শট নেয়, যার মধ্যে মাত্র ৩টি ছিল লক্ষ্যে। এই ড্রয়ের ফলে ‘এল’ গ্রুপে ঘানা এবং ইংল্যান্ড দুই দলেরই পয়েন্ট সমান ৪ করে।
তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে শীর্ষে রয়েছে ইংলিশরা এবং দ্বিতীয় স্থানে ঘানা। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হবে ঘানা, আর ইংল্যান্ড লড়বে পানামার বিরুদ্ধে।

আপনার মতামত লিখুন