সংবাদ

সংসদে ১০০০ ও ৫০০ টাকার নোট বাতিলের দাবি


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০২:২১ পিএম

সংসদে ১০০০ ও ৫০০ টাকার নোট বাতিলের দাবি

দেশে কালো টাকার উৎস বন্ধ, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ এবং অপ্রদর্শিত অর্থ ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ১,০০০ ও ৫০০ টাকার নোট বাতিলের দাবি জানিয়েছেন সংসদ সদস্য (এমপি) ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। একই সঙ্গে তিনি দেশে ব্যাংকের সংখ্যা কমিয়ে আর্থিক খাতকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।

আজ রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত

ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, "বর্তমানে বহু মানুষ ব্যাংকে টাকা না রেখে ঘরে নগদ অর্থ সংরক্ষণ করছেন। এছাড়া দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের কাছেও বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ রয়েছে।"

তিনি প্রস্তাব করেন, আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে দেশের সকল ১,০০০ ও ৫০০ টাকার নোট ব্যাংকে জমা দেওয়ার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হলে, ঘরে লুকিয়ে রাখা সেই বিশাল অঙ্কের অর্থ আবার মূল ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফিরে আসতে বাধ্য হবে।

এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, যাদের কাছে অপ্রদর্শিত অর্থ রয়েছে এবং বৈধ আয়ের উৎস দেখানোর সুযোগ নেই, তাদের নির্দিষ্ট হারে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ কর পরিশোধের মাধ্যমে সেই অর্থ বৈধ করার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। এর ফলে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফিরে আসবে, যা দেশের বিনিয়োগ বাড়াতে এবং অর্থনীতিতে অর্থের প্রবাহ বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে।

দেশের ব্যাংকিং খাতের সংস্কার নিয়ে তিনি বলেন, "আমাদের চাহিদার তুলনায় বর্তমানে ব্যাংকের সংখ্যা অনেক বেশি। শুধু প্রভাবশালী ব্যক্তি বা সংসদ সদস্য হলেই ব্যাংক কিংবা লিজিং কোম্পানি প্রতিষ্ঠার যে সংস্কৃতি দেশে গড়ে উঠেছে, তা থেকে এবার সরে আসতে হবে।" জনগণের অর্থ ব্যয় করে জোর করে দুর্বল ব্যাংক টিকিয়ে রাখার পরিবর্তে ব্যাংকের সংখ্যা কমিয়ে খাতটিকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করা দরকার বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অর্থ পাচারের প্রসঙ্গ তুলে ধরে মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার কথা বিভিন্ন সময়ে বলা হলেও এ ক্ষেত্রে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। তার মতে, অর্থ যেখানে নিরাপদ মনে হয়, সেখানেই চলে যায়। তাই পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারের পাশাপাশি দেশে এমন একটি টেকসই আর্থিক ও আইনি পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে মানুষ দেশের ভেতরেই তাদের অর্থ রাখতে পূর্ণ আস্থা পায়।

ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের এই প্রস্তাবটি ভারতের ২০১৬ সালের ঐতিহাসিক নোট বাতিলের সিদ্ধান্তের কথা মনে করিয়ে দেয়। ওই বছরের ৮ নভেম্বর দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি হঠাৎ করেই প্রচলিত ৫০০ ও ১,০০০ রুপির নোট বাতিল ঘোষণা করেছিলেন, যা ছিল তৎকালীন সময়ে ভারতের মোট প্রচলিত নগদ অর্থের প্রায় ৮৬ শতাংশ।

 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ২৮ জুন ২০২৬


সংসদে ১০০০ ও ৫০০ টাকার নোট বাতিলের দাবি

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬

featured Image

দেশে কালো টাকার উৎস বন্ধ, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ এবং অপ্রদর্শিত অর্থ ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ১,০০০ ও ৫০০ টাকার নোট বাতিলের দাবি জানিয়েছেন সংসদ সদস্য (এমপি) ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। একই সঙ্গে তিনি দেশে ব্যাংকের সংখ্যা কমিয়ে আর্থিক খাতকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।

আজ রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত

ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, "বর্তমানে বহু মানুষ ব্যাংকে টাকা না রেখে ঘরে নগদ অর্থ সংরক্ষণ করছেন। এছাড়া দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের কাছেও বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ রয়েছে।"

তিনি প্রস্তাব করেন, আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে দেশের সকল ১,০০০ ও ৫০০ টাকার নোট ব্যাংকে জমা দেওয়ার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হলে, ঘরে লুকিয়ে রাখা সেই বিশাল অঙ্কের অর্থ আবার মূল ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফিরে আসতে বাধ্য হবে।

এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, যাদের কাছে অপ্রদর্শিত অর্থ রয়েছে এবং বৈধ আয়ের উৎস দেখানোর সুযোগ নেই, তাদের নির্দিষ্ট হারে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ কর পরিশোধের মাধ্যমে সেই অর্থ বৈধ করার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। এর ফলে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফিরে আসবে, যা দেশের বিনিয়োগ বাড়াতে এবং অর্থনীতিতে অর্থের প্রবাহ বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে।

দেশের ব্যাংকিং খাতের সংস্কার নিয়ে তিনি বলেন, "আমাদের চাহিদার তুলনায় বর্তমানে ব্যাংকের সংখ্যা অনেক বেশি। শুধু প্রভাবশালী ব্যক্তি বা সংসদ সদস্য হলেই ব্যাংক কিংবা লিজিং কোম্পানি প্রতিষ্ঠার যে সংস্কৃতি দেশে গড়ে উঠেছে, তা থেকে এবার সরে আসতে হবে।" জনগণের অর্থ ব্যয় করে জোর করে দুর্বল ব্যাংক টিকিয়ে রাখার পরিবর্তে ব্যাংকের সংখ্যা কমিয়ে খাতটিকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করা দরকার বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অর্থ পাচারের প্রসঙ্গ তুলে ধরে মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার কথা বিভিন্ন সময়ে বলা হলেও এ ক্ষেত্রে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। তার মতে, অর্থ যেখানে নিরাপদ মনে হয়, সেখানেই চলে যায়। তাই পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারের পাশাপাশি দেশে এমন একটি টেকসই আর্থিক ও আইনি পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে মানুষ দেশের ভেতরেই তাদের অর্থ রাখতে পূর্ণ আস্থা পায়।

ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের এই প্রস্তাবটি ভারতের ২০১৬ সালের ঐতিহাসিক নোট বাতিলের সিদ্ধান্তের কথা মনে করিয়ে দেয়। ওই বছরের ৮ নভেম্বর দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি হঠাৎ করেই প্রচলিত ৫০০ ও ১,০০০ রুপির নোট বাতিল ঘোষণা করেছিলেন, যা ছিল তৎকালীন সময়ে ভারতের মোট প্রচলিত নগদ অর্থের প্রায় ৮৬ শতাংশ।

 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত