সংবাদ

পদ্মা রেল সেতুর নিচে মাটি অপসারণ প্রকল্পেরই অংশ, ঝুঁকি নেই: সেতুমন্ত্রী


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম

পদ্মা রেল সেতুর নিচে মাটি অপসারণ প্রকল্পেরই অংশ, ঝুঁকি নেই: সেতুমন্ত্রী

​পদ্মা রেলওয়ে সেতুর ভায়াডাক্টের নিচে মাটি অপসারণ নিয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি দূর করেছেন সড়ক, সেতু ও রেল পরিবহন মন্ত্রী রবিউল আলম। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই মাটি অপসারণ কোনো অনিয়ম বা অপরিকল্পিত কাজ নয়, বরং এটি মূল প্রকল্পেরই একটি অংশ এবং এতে সেতুর কাঠামোগত নিরাপত্তার কোনো ঝুঁকি নেই।

​আজ বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) সকালে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার আলীগঞ্জ এলাকায় পদ্মা রেল সেতুর ভায়াডাক্টের নিচে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

​সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেন, “সম্প্রতি ভায়াডাক্টের নিচে মাটি কাটার বিষয়ে যেভাবে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, তাতে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। মাটি অপসারণের বিষয়টি সত্য হলেও এটি কোনো স্বেচ্ছাচারী কাজ নয়। প্রকল্পের চুক্তি ও নকশা অনুযায়ী নির্ধারিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এই কাজ করা হচ্ছে।”

​সেতুমন্ত্রী জানান, ঢাকা থেকে মাওয়া পর্যন্ত ১৬ দশমিক ৭৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ভায়াডাক্ট নির্মাণের সময় ভারী যন্ত্রপাতি ও নির্মাণসামগ্রী পরিবহনের সুবিধার জন্য জলাভূমির ওপর অস্থায়ীভাবে মাটি ভরাট করা হয়েছিল। প্রকল্পের চুক্তি অনুযায়ী, কাজ শেষ হওয়ার পর সেই অস্থায়ী ভরাট অপসারণ করে পরিবেশকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

​তিনি আরও জানান, ​ইতিমধ্যে ১৬ দশমিক ৭৬ কিলোমিটারের মধ্যে ১৪ দশমিক ৪১ কিলোমিটার অংশের অস্থায়ী মাটি অপসারণ করা হয়েছে। ​বর্তমানে মাত্র ২ দশমিক ৩৪ কিলোমিটার অংশের কাজ বাকি রয়েছে। ​পরিবেশের স্বাভাবিক জলপ্রবাহ ও জলাভূমির ভারসাম্য রক্ষার স্বার্থেই এই কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে।

​সেতুর কাঠামোগত নিরাপত্তার ব্যাখ্যা দিয়ে রবিউল আলম বলেন, গড়ে প্রায় সাড়ে পাঁচ ফুট মাটি অপসারণের পর মূল প্রাকৃতিক স্তরে পৌঁছানো যাবে। আর সেই স্তরেরও প্রায় সাত থেকে আট ফুট নিচে রয়েছে পাইল ক্যাপ, যার পুরুত্ব ছয় ফুট। এর আরও নিচে প্রায় ২০০ ফুট গভীরে আটটি পাইলের ওপর পুরো ভায়াডাক্ট দাঁড়িয়ে আছে। ফলে ওপরের মাটি অপসারণের সঙ্গে সেতুর কাঠামোগত নিরাপত্তার কোনো নেতিবাচক সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন,  ​“বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ রেলওয়ের বিশেষজ্ঞদের নকশা ও তত্ত্বাবধানে পুরো কাজটি পরিচালিত হচ্ছে। তাই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।”

​ভবিষ্যতে রেলপথ সম্প্রসারণের প্রয়োজন হলেও রেলওয়ের জমি দেশের স্বার্থেই সর্বোত্তমভাবে ব্যবহার করা হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, রেলওয়ের জায়গা রেলওয়ের প্রয়োজনেই ব্যবহার হবে। পরিবেশ ও নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই প্রকল্পের কাজ শেষ করা হচ্ছে।

​আজকের এই সংবাদ সম্মেলনে প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাড়াও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬


পদ্মা রেল সেতুর নিচে মাটি অপসারণ প্রকল্পেরই অংশ, ঝুঁকি নেই: সেতুমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ০২ জুলাই ২০২৬

featured Image

​পদ্মা রেলওয়ে সেতুর ভায়াডাক্টের নিচে মাটি অপসারণ নিয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি দূর করেছেন সড়ক, সেতু ও রেল পরিবহন মন্ত্রী রবিউল আলম। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই মাটি অপসারণ কোনো অনিয়ম বা অপরিকল্পিত কাজ নয়, বরং এটি মূল প্রকল্পেরই একটি অংশ এবং এতে সেতুর কাঠামোগত নিরাপত্তার কোনো ঝুঁকি নেই।

​আজ বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) সকালে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার আলীগঞ্জ এলাকায় পদ্মা রেল সেতুর ভায়াডাক্টের নিচে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

​সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেন, “সম্প্রতি ভায়াডাক্টের নিচে মাটি কাটার বিষয়ে যেভাবে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, তাতে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। মাটি অপসারণের বিষয়টি সত্য হলেও এটি কোনো স্বেচ্ছাচারী কাজ নয়। প্রকল্পের চুক্তি ও নকশা অনুযায়ী নির্ধারিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এই কাজ করা হচ্ছে।”

​সেতুমন্ত্রী জানান, ঢাকা থেকে মাওয়া পর্যন্ত ১৬ দশমিক ৭৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ভায়াডাক্ট নির্মাণের সময় ভারী যন্ত্রপাতি ও নির্মাণসামগ্রী পরিবহনের সুবিধার জন্য জলাভূমির ওপর অস্থায়ীভাবে মাটি ভরাট করা হয়েছিল। প্রকল্পের চুক্তি অনুযায়ী, কাজ শেষ হওয়ার পর সেই অস্থায়ী ভরাট অপসারণ করে পরিবেশকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

​তিনি আরও জানান, ​ইতিমধ্যে ১৬ দশমিক ৭৬ কিলোমিটারের মধ্যে ১৪ দশমিক ৪১ কিলোমিটার অংশের অস্থায়ী মাটি অপসারণ করা হয়েছে। ​বর্তমানে মাত্র ২ দশমিক ৩৪ কিলোমিটার অংশের কাজ বাকি রয়েছে। ​পরিবেশের স্বাভাবিক জলপ্রবাহ ও জলাভূমির ভারসাম্য রক্ষার স্বার্থেই এই কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে।

​সেতুর কাঠামোগত নিরাপত্তার ব্যাখ্যা দিয়ে রবিউল আলম বলেন, গড়ে প্রায় সাড়ে পাঁচ ফুট মাটি অপসারণের পর মূল প্রাকৃতিক স্তরে পৌঁছানো যাবে। আর সেই স্তরেরও প্রায় সাত থেকে আট ফুট নিচে রয়েছে পাইল ক্যাপ, যার পুরুত্ব ছয় ফুট। এর আরও নিচে প্রায় ২০০ ফুট গভীরে আটটি পাইলের ওপর পুরো ভায়াডাক্ট দাঁড়িয়ে আছে। ফলে ওপরের মাটি অপসারণের সঙ্গে সেতুর কাঠামোগত নিরাপত্তার কোনো নেতিবাচক সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন,  ​“বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ রেলওয়ের বিশেষজ্ঞদের নকশা ও তত্ত্বাবধানে পুরো কাজটি পরিচালিত হচ্ছে। তাই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।”

​ভবিষ্যতে রেলপথ সম্প্রসারণের প্রয়োজন হলেও রেলওয়ের জমি দেশের স্বার্থেই সর্বোত্তমভাবে ব্যবহার করা হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, রেলওয়ের জায়গা রেলওয়ের প্রয়োজনেই ব্যবহার হবে। পরিবেশ ও নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই প্রকল্পের কাজ শেষ করা হচ্ছে।

​আজকের এই সংবাদ সম্মেলনে প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাড়াও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত