অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা বরিশালের জেলা প্রশাসক (ডিসি) খায়রুল আলম সুমনকে অবশেষে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বুধবার (১ জুলাই) রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়। একই আদেশে মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. মামুন খন্দকারকে বরিশালের নতুন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসকের বদলির খবর জানাজানি হওয়ার পর বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। দুপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের একদল নারী কর্মচারী চত্বরে ঝাড়ু মিছিল বের করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঝাড়ু হাতে কর্মচারীদের অবস্থান দেখে বিদায়ী জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমন সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
খায়রুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ নিয়ে গত মে মাসে একাধিক জাতীয় দৈনিকে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার নানা অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগের মধ্যে অন্যতম হলো- ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশালের হিজলা, মুলাদী ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় অতিরিক্ত অস্থায়ী ভোটকক্ষ ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র দেখিয়ে প্রায় ৬২ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের চেষ্টা। এ ছাড়া রিটার্নিং কর্মকর্তার নিয়ন্ত্রণকক্ষ পরিচালনা ও নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষক টিমের বরাদ্দ থেকে ১৪ লাখ টাকা এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের আপ্যায়ন বরাদ্দের ৫৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুর্নীতির তথ্য ফাঁসের সন্দেহে গত কয়েক দিনে জেলা প্রশাসক তার কার্যালয়ের প্রায় এক ডজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বিভিন্ন উপজেলায় বদলি করেন। এর ফলে কার্যালয়জুড়ে একধরনের আতঙ্ক ও অস্থিরতা বিরাজ করছিল। চাকরি হারানোর ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও ভেতরে-ভেতরে চাপা ক্ষোভ ছিল।
এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আজ দুপুরে যোগাযোগ করা হলে খায়রুল আলম সুমন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি এবং তড়িঘড়ি করে কার্যালয় ত্যাগ করেন। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে এসব অভিযোগ নিয়ে তার কোনো স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকারের যোগদানের মধ্য দিয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ ফিরে আসবে।
/

বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ জুলাই ২০২৬
অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা বরিশালের জেলা প্রশাসক (ডিসি) খায়রুল আলম সুমনকে অবশেষে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বুধবার (১ জুলাই) রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়। একই আদেশে মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. মামুন খন্দকারকে বরিশালের নতুন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসকের বদলির খবর জানাজানি হওয়ার পর বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। দুপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের একদল নারী কর্মচারী চত্বরে ঝাড়ু মিছিল বের করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঝাড়ু হাতে কর্মচারীদের অবস্থান দেখে বিদায়ী জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমন সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
খায়রুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ নিয়ে গত মে মাসে একাধিক জাতীয় দৈনিকে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার নানা অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগের মধ্যে অন্যতম হলো- ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশালের হিজলা, মুলাদী ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় অতিরিক্ত অস্থায়ী ভোটকক্ষ ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র দেখিয়ে প্রায় ৬২ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের চেষ্টা। এ ছাড়া রিটার্নিং কর্মকর্তার নিয়ন্ত্রণকক্ষ পরিচালনা ও নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষক টিমের বরাদ্দ থেকে ১৪ লাখ টাকা এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের আপ্যায়ন বরাদ্দের ৫৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুর্নীতির তথ্য ফাঁসের সন্দেহে গত কয়েক দিনে জেলা প্রশাসক তার কার্যালয়ের প্রায় এক ডজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বিভিন্ন উপজেলায় বদলি করেন। এর ফলে কার্যালয়জুড়ে একধরনের আতঙ্ক ও অস্থিরতা বিরাজ করছিল। চাকরি হারানোর ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও ভেতরে-ভেতরে চাপা ক্ষোভ ছিল।
এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আজ দুপুরে যোগাযোগ করা হলে খায়রুল আলম সুমন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি এবং তড়িঘড়ি করে কার্যালয় ত্যাগ করেন। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে এসব অভিযোগ নিয়ে তার কোনো স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকারের যোগদানের মধ্য দিয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ ফিরে আসবে।
/

আপনার মতামত লিখুন