চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম সফল এক নাম। কিন্তু ২০১৪ সালে মারাকানায় বিশ্বকাপ জয়ের পর যেন হারিয়ে গিয়েছিল সেই জার্মান আধিপত্য। ২০১৮ ও ২০২২—টানা দুই বিশ্বকাপেই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল ফুটবল পরাশক্তিটিকে।তবে সময় বদলেছে। বদলেছে জার্মানির ফুটবল দর্শনও। ২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নতুন স্বপ্ন দেখছে ডি ম্যানশাফট। আর সেই স্বপ্নের স্থপতি কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যান। আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা কৌশলবিদ হিসেবে বিবেচিত এই কোচের অধীনে জার্মানি আবারও ফিরে পেয়েছে নিজেদের পরিচিত ছন্দ। বর্তমানে জার্মানির সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের মিডফিল্ড ও আক্রমণভাগ। বিশেষ করে তরুণ দুই সুপারস্টার জামাল মুসিয়ালা এবং ফ্লোরিয়ান ভির্টজকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন এক প্রজন্মের জার্মানি। জামাল মুসিয়ালার ড্রিবলিং, গতি এবং সৃজনশীলতা ইতোমধ্যেই তাকে বিশ্বের সেরা তরুণ ফুটবলারদের কাতারে নিয়ে গেছে। অন্যদিকে ফ্লোরিয়ান ভির্টজের পাসিং, খেলা নিয়ন্ত্রণ এবং গোল তৈরির ক্ষমতা প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি। এই দুই তরুণের সঙ্গে রয়েছেন অভিজ্ঞ যোশুয়া কিমিখ, আন্তোনিও রুডিগার, কাই হাভার্টজ, লেরয় সানে এবং লিওন গোরেৎসকার মতো তারকারা। দলটির সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক হলো অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের নিখুঁত সমন্বয়। তবে সবকিছুর পরও কিছু প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। বড় টুর্নামেন্টে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারবে তো জার্মানি? রক্ষণভাগ কি চাপের ম্যাচে নিজেদের সেরাটা দিতে পারবে? আর সবচেয়ে বড় কথা, নকআউট পর্বের চাপ সামলানোর মানসিক শক্তি কি ফিরে পেয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা? বর্তমান পারফরম্যান্স, স্কোয়াডের গভীরতা এবং কোচিং স্টাফ বিবেচনায় ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার হিসেবেই দেখা হচ্ছে জার্মানিকে। স্পেন, ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা এবং ব্রাজিলের পাশাপাশি শিরোপা জয়ের সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে ডি ম্যানশাফটও। অনেক বিশ্লেষকের মতে, জার্মানির জন্য সেমিফাইনাল হওয়া উচিত ন্যূনতম লক্ষ্য। আর যদি মুসিয়ালা-ভির্টজ জুটি নিজেদের সেরা ছন্দে থাকে, তাহলে পঞ্চম বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নও অসম্ভব নয়। ২০১৪ সালে মারিও গোটসের সেই ঐতিহাসিক গোলের পর কেটে গেছে এক যুগেরও বেশি সময়। নতুন প্রজন্মের হাত ধরে আবারও বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষে উঠতে চায় জার্মানি। এখন দেখার বিষয়, উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপে জার্মানির এই নতুন অধ্যায় কি শেষ হবে পঞ্চম তারকা জয়ের উল্লাসে, নাকি আবারও অপূর্ণ থেকে যাবে বিশ্বজয়ের স্বপ্ন।