সংবাদ

‘কয়েকটি ব‍্যবসায়িক শিল্প গোষ্ঠী গণমাধ্যমকে ভ'য়াবহ দিকে নিয়ে যাচ্ছে, এই আগ্রা'সন থামানো দরকার’

প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২৬

গণমাধ্যম ঝুঁকিতে পড়েছে কর্পোরেট আগ্রাসনে। গুটিকয়েক বড় ব্যবসায়ী শিল্পগোষ্ঠীর পকেটে বন্দি হয়ে আছে সম্পাদকীয় স্বাধীনতা। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা 'দ্য ডেইলি স্টার'-এর পরামর্শক সম্পাদক ও বিবিসির সাবেক সম্পাদক কামাল আহমেদ এমনই সব তথ্য তুলে ধরেন। তাদের তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার রিপোর্টটি বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। ঠিক কী কারণে এবং কোথায় এই রিপোর্টটি আটকে দেওয়া হলো, সেই পেছনের অধ্যায় নিয়েই তিনি ‘সংবাদ’-এর হেড অব নিউজ রাশেদ আহমেদের মুখোমুখি হন। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পরেও গণমাধ্যমের মেরুদণ্ড সোজা হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে কামাল আহমেদ স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, একটি নির্দিষ্ট ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর মালিকানায় থাকা একাধিক দৈনিক পত্রিকা, অনলাইন ও টেলিভিশনে পরিকল্পিতভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মনগড়া খবর প্রচার করা হয়। তিনি অত্যন্ত উদ্বেগজনক একটি তথ্য ফাঁস করে জানান, ৭১ টেলিভিশন একসাথে ১০টি টেলিভিশন চ্যানেলের অনুমোদন চেয়েছিল এবং তাদের আবেদনেই আওয়ামী লীগের দলীয় আদর্শ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করা হয়েছিল। গণমাধ্যমে নিজেদের একচেটিয়া প্রভাব খাটানোর উদ্দেশ্যে শিল্প প্রতিষ্ঠান একের পর এক গণমাধ্যম কিনে নিচ্ছে এবং বাজারে আনছে। পত্রিকায় লেখার আড়ালে ব্যবসায়িক ফায়দা লোটার এই প্রবণতা কোনোভাবেই সাংবাদিকতার নীতিমালায় পড়ে না বলে তিনি অভিমত দেন। রাষ্ট্রযন্ত্রের হাতে অসীম ক্ষমতা থাকায় বারবার তার নির্মম অপপ্রয়োগ হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। দেশের অনেক টেলিভিশন চ্যানেলেই আজ কোনো পেশাদার বার্তাকক্ষ বা নিউজরুমের অস্তিত্ব নেই, যা সাংবাদিকতার নামে প্রহসন। কামাল আহমেদ আক্ষেপ করে বলেন, বাংলাদেশের ৫৫ বছরের ইতিহাসে গণমাধ্যম মাত্র ৩ থেকে ৫ বছর সত্যিকারের স্বাধীনতা ভোগ করতে পেরেছেন। এর পাশাপাশি, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া যাচাইবিহীন খবর সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মারাত্মক ক্ষতি ডেকে আনছে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর উগ্র*বাদী গোষ্ঠীগুলো আগের চেয়ে অনেক বেশি ক্ষমতাশালী হয়ে উঠেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। সবচেয়ে লজ্জাজনক বিষয় হলো, জুলাইয়ের রক্তঝরা আন্দোলনে খোদ সাংবাদিকদেরই একটি সুবিধাভোগী গোষ্ঠী তৎকালীন সরকার প্রধান শেখ হাসিনাকে উসকানি দিয়েছিল। গণমাধ্যমের এই চরম নৈরাজ্যজনক অবস্থা থেকে মুক্তির উপায় কী? একটি টেকসই ও মেরুদণ্ডসম্পন্ন গণমাধ্যম ব্যবস্থা গড়ে তোলার রূপরেখা জানতে সম্পূর্ণ ভিডিওটি দেখুন। স্বাধীন সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনাদের মূল্যবান মতামত কমেন্ট বক্সে জানান এবং নিয়মিত সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পেতে 'সংবাদ'-এর সাথেই থাকুন।