সংবাদ

ময়মনসিংহে ভাড়াটিয়া খুনের রহস্য উন্মোচন, বাড়ির মালিকের ৪ ছেলে গ্রেপ্তার


জেলা বার্তা পরিবেশক, ময়মনসিংহ
জেলা বার্তা পরিবেশক, ময়মনসিংহ
প্রকাশ: ৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৭ পিএম

ময়মনসিংহে ভাড়াটিয়া খুনের রহস্য উন্মোচন, বাড়ির মালিকের ৪ ছেলে গ্রেপ্তার
ময়মনসিংহ নগরীর আর কে মিশন রোডে ভাড়াটিয়া রুবেল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া চার আসামিকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে পিবিআই। ছবি : সংবাদ

ময়মনসিংহ নগরীর আর কে মিশন রোডে ভাড়াটিয়া রুবেলকে (৩৮) গলা কেটে হত্যার ঘটনায় বাড়ির মালিকের চার ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সংস্থাটি দাবি করেছে, বাসা ছেড়ে দেওয়া নিয়ে বিরোধ এবং একপর্যায়ে বাড়ির মালিককে হেনস্তা করার জেরে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে ময়মনসিংহ জেলা পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-রহমত (৩০), জনি (২৮), রকি (২৬) ও ইমরাজ (১৮)। তারা সবাই বাড়ির মালিক পারুল বেগমের ছেলে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় হত্যাকাণ্ডের এক দিনের মধ্যেই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পিবিআই জানায়, প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, ঘটনার দিন ভোরে বাসা ছেড়ে দেওয়া নিয়ে রুবেলের সঙ্গে বাড়ির মালিক পারুল বেগমের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। অভিযোগ উঠেছে, এ সময় রুবেল পারুলকে মারধর ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। বিষয়টি জানতে পেরে পারুলের ছেলেরা ক্ষুব্ধ হয়ে রুবেলকে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন।

এর আগে গতকাল রোববার সকালে আর কে মিশন রোডের ছত্রিশ বাড়ি কলোনির একটি বাসায় রুবেলের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুল হামিদ বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও তিন-চারজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, রুবেল ওই বাসায় মাত্র ১৫ দিন আগে ভাড়া উঠেছিলেন। বাসা নেওয়ার পর থেকেই মালিকপক্ষের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়। মালিকপক্ষ তাকে দ্রুত বাসা ছেড়ে দেওয়ার জন্য নিয়মিত হুমকি দিয়ে আসছিল। রোববার সকালে বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে আসামিরা রুবেলের কক্ষে ঢুকে তাকে চেপে ধরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করেন।

ময়মনসিংহ পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এবং পিবিআই সদর দপ্তরের সহযোগিতায় মাত্র এক দিনে মূল অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। আসামিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।’

কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজন চন্দ্র পাল জানান, এ মামলায় আগে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬


ময়মনসিংহে ভাড়াটিয়া খুনের রহস্য উন্মোচন, বাড়ির মালিকের ৪ ছেলে গ্রেপ্তার

প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুলাই ২০২৬

featured Image

ময়মনসিংহ নগরীর আর কে মিশন রোডে ভাড়াটিয়া রুবেলকে (৩৮) গলা কেটে হত্যার ঘটনায় বাড়ির মালিকের চার ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সংস্থাটি দাবি করেছে, বাসা ছেড়ে দেওয়া নিয়ে বিরোধ এবং একপর্যায়ে বাড়ির মালিককে হেনস্তা করার জেরে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে ময়মনসিংহ জেলা পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-রহমত (৩০), জনি (২৮), রকি (২৬) ও ইমরাজ (১৮)। তারা সবাই বাড়ির মালিক পারুল বেগমের ছেলে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় হত্যাকাণ্ডের এক দিনের মধ্যেই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পিবিআই জানায়, প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, ঘটনার দিন ভোরে বাসা ছেড়ে দেওয়া নিয়ে রুবেলের সঙ্গে বাড়ির মালিক পারুল বেগমের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। অভিযোগ উঠেছে, এ সময় রুবেল পারুলকে মারধর ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। বিষয়টি জানতে পেরে পারুলের ছেলেরা ক্ষুব্ধ হয়ে রুবেলকে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন।

এর আগে গতকাল রোববার সকালে আর কে মিশন রোডের ছত্রিশ বাড়ি কলোনির একটি বাসায় রুবেলের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুল হামিদ বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও তিন-চারজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, রুবেল ওই বাসায় মাত্র ১৫ দিন আগে ভাড়া উঠেছিলেন। বাসা নেওয়ার পর থেকেই মালিকপক্ষের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়। মালিকপক্ষ তাকে দ্রুত বাসা ছেড়ে দেওয়ার জন্য নিয়মিত হুমকি দিয়ে আসছিল। রোববার সকালে বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে আসামিরা রুবেলের কক্ষে ঢুকে তাকে চেপে ধরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করেন।

ময়মনসিংহ পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এবং পিবিআই সদর দপ্তরের সহযোগিতায় মাত্র এক দিনে মূল অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। আসামিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।’

কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজন চন্দ্র পাল জানান, এ মামলায় আগে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত