সংবাদ

গাইবান্ধায় ভুল প্রশ্নে এইচএসসি পরীক্ষা, অধ্যক্ষসহ ৯ জনকে অব্যাহতি


প্রতিনিধি, গাইবান্ধা
প্রতিনিধি, গাইবান্ধা
প্রকাশ: ৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৭ পিএম

গাইবান্ধায় ভুল প্রশ্নে এইচএসসি পরীক্ষা, অধ্যক্ষসহ ৯ জনকে অব্যাহতি
ছবি : সংবাদ

গাইবান্ধার ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষায় নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের অনিয়মিতদের সিলেবাসে পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগে কেন্দ্র সচিবসহ ৯ জনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অব্যাহতিপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ওই কলেজের অধ্যক্ষ ও সরকারি ট্যাগ অফিসারও রয়েছেন। দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মো. বোরহান উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

একই চিঠিতে ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেওয়া নিয়মিত ৫০ জন পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র সঠিকভাবে মূল্যায়নের লক্ষ্যে জরুরি ভিত্তিতে সেগুলো সশরীরে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বোর্ড ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে অনিয়মিত (২০২৫ সালের সিলেবাস) পরীক্ষার্থী ছিলেন ১১ জন। কিন্তু গত বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষার দিন কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতিতে নিয়মিত (২০২৬ সালের সিলেবাস) ৫০ জন পরীক্ষার্থীর হাতে অনিয়মিতদের প্রশ্নপত্র তুলে দেওয়া হয়। পরীক্ষার্থীরা ওই ভুল প্রশ্নপত্রেই পরীক্ষা সম্পন্ন করে। বিষয়টি জানাজানি হলে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ব্যবস্থা নেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবকে পাঠানো চিঠিতে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক উল্লেখ করেন, ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষাসমূহ (অপরাধ) আইন অনুযায়ী বিষয়টি চরম দায়িত্ব অবহেলার শামিল। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ট্যাগ অফিসার ও কক্ষ পর্যবেক্ষকদের গাফিলতির কারণেই এমন বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে।

দায়িত্ব থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন-ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ও কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম আসাদুল ইসলাম এবং ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মনোয়ার হোসেন। এ ছাড়া কক্ষ পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে থাকা কলেজের সাতজন প্রভাষক হলেন-শৈলান কুমার, তানজিলা খাতুন, হাসান মাহমুদ, সাইফুল বারী, স্মৃতি আক্তার, গোলাম মোস্তফা আকন্দ ও সরাবান তহুরা।

শিক্ষা বোর্ড থেকে তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের খাতা সঠিকভাবে মূল্যায়নের আশ্বাস দেওয়ায় অভিভাবক ও পরীক্ষার্থীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র সূত্র জানিয়েছে, প্রথম পরীক্ষাটি ভুল প্রশ্নে নেওয়া হলেও পরবর্তী পরীক্ষাগুলো নতুন সিলেবাস অনুযায়ীই গ্রহণ করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬


গাইবান্ধায় ভুল প্রশ্নে এইচএসসি পরীক্ষা, অধ্যক্ষসহ ৯ জনকে অব্যাহতি

প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুলাই ২০২৬

featured Image

গাইবান্ধার ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষায় নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের অনিয়মিতদের সিলেবাসে পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগে কেন্দ্র সচিবসহ ৯ জনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অব্যাহতিপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ওই কলেজের অধ্যক্ষ ও সরকারি ট্যাগ অফিসারও রয়েছেন। দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মো. বোরহান উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

একই চিঠিতে ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেওয়া নিয়মিত ৫০ জন পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র সঠিকভাবে মূল্যায়নের লক্ষ্যে জরুরি ভিত্তিতে সেগুলো সশরীরে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বোর্ড ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে অনিয়মিত (২০২৫ সালের সিলেবাস) পরীক্ষার্থী ছিলেন ১১ জন। কিন্তু গত বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষার দিন কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতিতে নিয়মিত (২০২৬ সালের সিলেবাস) ৫০ জন পরীক্ষার্থীর হাতে অনিয়মিতদের প্রশ্নপত্র তুলে দেওয়া হয়। পরীক্ষার্থীরা ওই ভুল প্রশ্নপত্রেই পরীক্ষা সম্পন্ন করে। বিষয়টি জানাজানি হলে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ব্যবস্থা নেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবকে পাঠানো চিঠিতে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক উল্লেখ করেন, ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষাসমূহ (অপরাধ) আইন অনুযায়ী বিষয়টি চরম দায়িত্ব অবহেলার শামিল। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ট্যাগ অফিসার ও কক্ষ পর্যবেক্ষকদের গাফিলতির কারণেই এমন বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে।

দায়িত্ব থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন-ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ও কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম আসাদুল ইসলাম এবং ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মনোয়ার হোসেন। এ ছাড়া কক্ষ পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে থাকা কলেজের সাতজন প্রভাষক হলেন-শৈলান কুমার, তানজিলা খাতুন, হাসান মাহমুদ, সাইফুল বারী, স্মৃতি আক্তার, গোলাম মোস্তফা আকন্দ ও সরাবান তহুরা।

শিক্ষা বোর্ড থেকে তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের খাতা সঠিকভাবে মূল্যায়নের আশ্বাস দেওয়ায় অভিভাবক ও পরীক্ষার্থীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র সূত্র জানিয়েছে, প্রথম পরীক্ষাটি ভুল প্রশ্নে নেওয়া হলেও পরবর্তী পরীক্ষাগুলো নতুন সিলেবাস অনুযায়ীই গ্রহণ করা হচ্ছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত