সংবাদ

খাল খনন প্রকল্পের মজুরি আত্মসাতের চেষ্টায় উত্তেজনা


ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৫ পিএম

খাল খনন প্রকল্পের মজুরি আত্মসাতের চেষ্টায় উত্তেজনা
ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে খাল খনন প্রকল্পের মজুরি আত্মসাতের চেষ্টা, উত্তেজনার পর ইউএনও’র হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি খাল খনন প্রকল্প শেষে শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ কেটে রাখার অভিযোগ উঠেছে। কাজ শেষ হওয়ার ১৬ দিন পেরিয়ে গেলেও সিংহভাগ শ্রমিক এখনো তাদের ন্যায্য পারিশ্রমিক পাননি। 

বরং প্রাপ্ত চেকের টাকা ব্যাংক থেকে তোলার পর একাংশ কেটে রাখার ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) আশ্বাসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাজীরটেক ইউনিয়নের হাজীগঞ্জ বাজার সংলগ্ন পদ্মা নদী থেকে ভুবনেশ্বর নদী পর্যন্ত খাল খনন প্রকল্পে প্রায় দুই মাস টানা কাজ করেন ভুক্তভোগী শ্রমিকরা। গত রোববার হাজীগঞ্জ সোনালী ব্যাংক শাখায় শ্রমিকদের সুপারভাইজার আব্দুল মান্নান সরদার কর্মীদের মাঝে জনপ্রতি ৯ হাজার ৯০০ টাকার চেক বিতরণ করেন।

শ্রমিকদের অভিযোগ, ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করার পরপরই সুপারভাইজার জোরপূর্বক কয়েকজন শ্রমিকের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা করে রেখে দেন। এই অর্থ কেটে রাখার ঘটনা জানাজানি হলে ব্যাংক চত্বরেই শ্রমিক ও সুপারভাইজারের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

অর্থ কেটে রাখার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে স্বীকার করে সুপারভাইজার আব্দুল মান্নান সরদার বলেন, ‘আমি মাত্র দুজন শ্রমিকের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা করে মোট ১০ হাজার টাকা নিয়েছিলাম, তবে পরবর্তীতে সেই টাকা আবার ফেরত দিয়েছি। পর্যায়ক্রমে অন্য সব শ্রমিকের হাতেও তাদের প্রাপ্য চেক তুলে দেওয়া হবে।’

ঘটনাটি প্রশাসন পর্যন্ত গড়ালে চরভদ্রাসন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) জানান, অনিয়মের অভিযোগটি তাদের হাতে পৌঁছেছে। বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সত্যতা প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেন চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। তিনি বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়েছি। কোনো শ্রমিক যেন তার কষ্টের মজুরি থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। পুরো ঘটনার তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার তাৎক্ষণিক নির্দেশনা ও পর্যায়ক্রমে সব শ্রমিকের বকেয়া মজুরি শতভাগ বুঝিয়ে দেওয়ার আশ্বাসের পর শ্রমিকরা শান্ত হয়ে স্থান ত্যাগ করেন। তবে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকরা কেবল আশ্বাসে সীমাবদ্ধ না থেকে, দ্রুত সম্পূর্ণ মজুরি বুঝে পাওয়া এবং এই জালিয়াতি চক্রের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬


খাল খনন প্রকল্পের মজুরি আত্মসাতের চেষ্টায় উত্তেজনা

প্রকাশের তারিখ : ১২ জুলাই ২০২৬

featured Image

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি খাল খনন প্রকল্প শেষে শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ কেটে রাখার অভিযোগ উঠেছে। কাজ শেষ হওয়ার ১৬ দিন পেরিয়ে গেলেও সিংহভাগ শ্রমিক এখনো তাদের ন্যায্য পারিশ্রমিক পাননি। 

বরং প্রাপ্ত চেকের টাকা ব্যাংক থেকে তোলার পর একাংশ কেটে রাখার ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) আশ্বাসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাজীরটেক ইউনিয়নের হাজীগঞ্জ বাজার সংলগ্ন পদ্মা নদী থেকে ভুবনেশ্বর নদী পর্যন্ত খাল খনন প্রকল্পে প্রায় দুই মাস টানা কাজ করেন ভুক্তভোগী শ্রমিকরা। গত রোববার হাজীগঞ্জ সোনালী ব্যাংক শাখায় শ্রমিকদের সুপারভাইজার আব্দুল মান্নান সরদার কর্মীদের মাঝে জনপ্রতি ৯ হাজার ৯০০ টাকার চেক বিতরণ করেন।

শ্রমিকদের অভিযোগ, ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করার পরপরই সুপারভাইজার জোরপূর্বক কয়েকজন শ্রমিকের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা করে রেখে দেন। এই অর্থ কেটে রাখার ঘটনা জানাজানি হলে ব্যাংক চত্বরেই শ্রমিক ও সুপারভাইজারের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

অর্থ কেটে রাখার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে স্বীকার করে সুপারভাইজার আব্দুল মান্নান সরদার বলেন, ‘আমি মাত্র দুজন শ্রমিকের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা করে মোট ১০ হাজার টাকা নিয়েছিলাম, তবে পরবর্তীতে সেই টাকা আবার ফেরত দিয়েছি। পর্যায়ক্রমে অন্য সব শ্রমিকের হাতেও তাদের প্রাপ্য চেক তুলে দেওয়া হবে।’

ঘটনাটি প্রশাসন পর্যন্ত গড়ালে চরভদ্রাসন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) জানান, অনিয়মের অভিযোগটি তাদের হাতে পৌঁছেছে। বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সত্যতা প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেন চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। তিনি বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়েছি। কোনো শ্রমিক যেন তার কষ্টের মজুরি থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। পুরো ঘটনার তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার তাৎক্ষণিক নির্দেশনা ও পর্যায়ক্রমে সব শ্রমিকের বকেয়া মজুরি শতভাগ বুঝিয়ে দেওয়ার আশ্বাসের পর শ্রমিকরা শান্ত হয়ে স্থান ত্যাগ করেন। তবে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকরা কেবল আশ্বাসে সীমাবদ্ধ না থেকে, দ্রুত সম্পূর্ণ মজুরি বুঝে পাওয়া এবং এই জালিয়াতি চক্রের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত