সংবাদ

লালদিয়া টার্মিনাল: তড়িঘড়ি করে ‘অসম চুক্তি’র অভিযোগ সংসদে


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৭ পিএম

লালদিয়া টার্মিনাল: তড়িঘড়ি করে ‘অসম চুক্তি’র অভিযোগ সংসদে

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রক্রিয়া শুরু হওয়া এবং মোহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে অনুমোদন পাওয়া একটি চুক্তি নিয়ে জাতীয় সংসদে প্রশ্ন উঠেছে। ওই চুক্তি অনুযায়ি, চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার কাজ পেয়েছে ডেনমার্কভিত্তিক কোম্পানি এপিএম টার্মিনালস। 

চুক্তিটি ‘তড়িঘড়ি করে’ করা হয়েছে এবং এটি একটি ‘অসম চুক্তি’ বলে সোমবার সংসদের বৈঠকে অভিযোগ তুলেছেন সরকারি দল বিএনপির সংসদ সদস্য (এমপি) মো. শাহাদাত হোসেন। সেই চুক্তি বাতিল করে নতুন চুক্তি করার কোনো সিদ্ধান্ত সরকারের আছে কি না, নৌপরিবহনমন্ত্রীর কাছে তা জানতে চেয়েছেন তিনি। 

নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জবাবে জানিয়েছেন, এই চুক্তি বাতিল বা নতুন করে চুক্তির কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। তিনি বলেছেন, ৫৫ কোটি ডলার বিনিয়োগের এ প্রকল্পে নির্মাণের জন্য তিন বছর এবং পরিচালনার জন্য ৩০ বছরসহ চুক্তির প্রাথমিক মেয়াদ ৩৩ বছর। পরে মেয়াদ আরও ১৫ বছর বাড়বে।

লক্ষ্মীপুর-১ আসনের এমপি শাহাদাত হোসেনের এ সংক্রান্ত লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “পিপিপি মডেলের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরে লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল স্থাপন ও পরিচালনা’ শীর্ষক প্রকল্পের কনসেশন চুক্তি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব আইনের আওতায় করা হয়েছে।” নৌমন্ত্রীর দাবি, সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ‘স্বচ্ছতার সঙ্গে’ চুক্তি করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাংলাদেশ ও ডেনমার্ক সরকারের মধ্যে সরকার-টু-সরকার বা জিটুজি পিপিপি ব্যবস্থার আওতাধীন। তিনি সংসদকে বলেন, “এটি বাতিল বা পুনঃচুক্তির কোনো পরিকল্পনা নেই।”

সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারত্বের ভিত্তিতে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে ২০২১ সালের ৩০ জুন বাংলাদেশ ও ডেনমার্ক সরকারের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয় বলে সংসদে জানান নৌমন্ত্রী। তিনি বলেন, এর ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালের ২১ মে ডেনমার্কভিত্তিক মার্স্ক গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালস কর্ণফুলী নদীর ডান তীরে লালদিয়া চর এলাকায় কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণে আগ্রহ দেখিয়ে প্রস্তাব দেয়। ওই বছরের ২৯ নভেম্বর অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি প্রকল্পটির নীতিগত অনুমোদন দেয়।

২০২৪ সালের ৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-ডেনমার্ক প্রথম পিপিপি জয়েন্ট প্ল্যাটফর্ম সভায় প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হয় জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সভায় ডেনমার্ক সরকারের পক্ষে এপিএম টার্মিনালস প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সম্মতি দেয়। এরপর ২০২৪ সালের ১০ জুন পিপিপি কর্তৃপক্ষ ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশনকে প্রকল্পের ট্রানজেকশন অ্যাডভাইজারের দায়িত্ব দেয়।

নৌমন্ত্রী জানান, ট্রানজেকশন অ্যাডভাইজার প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষ করে পছন্দের দরদাতার সঙ্গে আলোচনা চালায়। পরে ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর চূড়ান্ত কনসেশন চুক্তি প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র ও ভেটিংয়ের জন্য নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। ওই বছরের ১২ নভেম্বর অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটি চুক্তিটি অনুমোদন করে। ১৬ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টার অনুমোদন পাওয়ার পর ১৭ নভেম্বর এপিএমটি বিভির অনুকূলে লেটার অব অ্যাওয়ার্ড জারি করা হয়। একই দিনে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও এপিএমটি বিভির মধ্যে কনসেশন চুক্তি হয়।

চট্টগ্রাম বন্দরের খালি জায়গায় টার্মিনালটি নির্মাণ করা হচ্ছে উল্লেখ করে শেখ রবিউল আলম জানান, টার্মিনালটি চালু হলে বন্দরের সক্ষমতা ও কর্মসংস্থান বাড়ার পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তরের সুযোগ তৈরি হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬


লালদিয়া টার্মিনাল: তড়িঘড়ি করে ‘অসম চুক্তি’র অভিযোগ সংসদে

প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুলাই ২০২৬

featured Image

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রক্রিয়া শুরু হওয়া এবং মোহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে অনুমোদন পাওয়া একটি চুক্তি নিয়ে জাতীয় সংসদে প্রশ্ন উঠেছে। ওই চুক্তি অনুযায়ি, চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার কাজ পেয়েছে ডেনমার্কভিত্তিক কোম্পানি এপিএম টার্মিনালস। 

চুক্তিটি ‘তড়িঘড়ি করে’ করা হয়েছে এবং এটি একটি ‘অসম চুক্তি’ বলে সোমবার সংসদের বৈঠকে অভিযোগ তুলেছেন সরকারি দল বিএনপির সংসদ সদস্য (এমপি) মো. শাহাদাত হোসেন। সেই চুক্তি বাতিল করে নতুন চুক্তি করার কোনো সিদ্ধান্ত সরকারের আছে কি না, নৌপরিবহনমন্ত্রীর কাছে তা জানতে চেয়েছেন তিনি। 

নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জবাবে জানিয়েছেন, এই চুক্তি বাতিল বা নতুন করে চুক্তির কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। তিনি বলেছেন, ৫৫ কোটি ডলার বিনিয়োগের এ প্রকল্পে নির্মাণের জন্য তিন বছর এবং পরিচালনার জন্য ৩০ বছরসহ চুক্তির প্রাথমিক মেয়াদ ৩৩ বছর। পরে মেয়াদ আরও ১৫ বছর বাড়বে।

লক্ষ্মীপুর-১ আসনের এমপি শাহাদাত হোসেনের এ সংক্রান্ত লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “পিপিপি মডেলের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরে লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল স্থাপন ও পরিচালনা’ শীর্ষক প্রকল্পের কনসেশন চুক্তি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব আইনের আওতায় করা হয়েছে।” নৌমন্ত্রীর দাবি, সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ‘স্বচ্ছতার সঙ্গে’ চুক্তি করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাংলাদেশ ও ডেনমার্ক সরকারের মধ্যে সরকার-টু-সরকার বা জিটুজি পিপিপি ব্যবস্থার আওতাধীন। তিনি সংসদকে বলেন, “এটি বাতিল বা পুনঃচুক্তির কোনো পরিকল্পনা নেই।”

সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারত্বের ভিত্তিতে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে ২০২১ সালের ৩০ জুন বাংলাদেশ ও ডেনমার্ক সরকারের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয় বলে সংসদে জানান নৌমন্ত্রী। তিনি বলেন, এর ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালের ২১ মে ডেনমার্কভিত্তিক মার্স্ক গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালস কর্ণফুলী নদীর ডান তীরে লালদিয়া চর এলাকায় কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণে আগ্রহ দেখিয়ে প্রস্তাব দেয়। ওই বছরের ২৯ নভেম্বর অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি প্রকল্পটির নীতিগত অনুমোদন দেয়।

২০২৪ সালের ৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-ডেনমার্ক প্রথম পিপিপি জয়েন্ট প্ল্যাটফর্ম সভায় প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হয় জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সভায় ডেনমার্ক সরকারের পক্ষে এপিএম টার্মিনালস প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সম্মতি দেয়। এরপর ২০২৪ সালের ১০ জুন পিপিপি কর্তৃপক্ষ ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশনকে প্রকল্পের ট্রানজেকশন অ্যাডভাইজারের দায়িত্ব দেয়।

নৌমন্ত্রী জানান, ট্রানজেকশন অ্যাডভাইজার প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষ করে পছন্দের দরদাতার সঙ্গে আলোচনা চালায়। পরে ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর চূড়ান্ত কনসেশন চুক্তি প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র ও ভেটিংয়ের জন্য নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। ওই বছরের ১২ নভেম্বর অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটি চুক্তিটি অনুমোদন করে। ১৬ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টার অনুমোদন পাওয়ার পর ১৭ নভেম্বর এপিএমটি বিভির অনুকূলে লেটার অব অ্যাওয়ার্ড জারি করা হয়। একই দিনে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও এপিএমটি বিভির মধ্যে কনসেশন চুক্তি হয়।

চট্টগ্রাম বন্দরের খালি জায়গায় টার্মিনালটি নির্মাণ করা হচ্ছে উল্লেখ করে শেখ রবিউল আলম জানান, টার্মিনালটি চালু হলে বন্দরের সক্ষমতা ও কর্মসংস্থান বাড়ার পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তরের সুযোগ তৈরি হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত