সংবাদ

শিক্ষার্থীদের কাছে শিক্ষামন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫২ পিএম

শিক্ষার্থীদের কাছে শিক্ষামন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন

শিক্ষার্থীদের নিয়ে মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত মন্তব্য, সেটি নিয়ে অনেকে আপত্তি করেছেন। সে ব্যাপারে বলতে চাই, আমি কাউকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কিছু বলিনি। যদি কেউ আহত হয়ে থাকে, সিম্পলি আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।’

শিক্ষামন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশের পর অধিবেশনে উপস্থিত সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে তাকে স্বাগত জানান।

অধিবেশন শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়ে করা শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আজ সংসদ ভবনের দিকে ছাত্ররা পরীক্ষা পেছানোর দাবিতে এসেছে। এ ব্যাপারে আমরা অনেক পর্যালোচনা করে দেখেছি।’

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘গতকাল ফিজিকস, হিসাববিজ্ঞান এবং যুক্তিবিদ্যা পরীক্ষার সময় বৃষ্টি ছিল। এ কারণেই অনেকেই ভিজেছে এবং পরীক্ষা সঠিকভাবে দিতে পারেনি বলে কমপ্লেইন এসেছে।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সব সময় পর্যবেক্ষণের মধ্যেই ছিলাম। তারপরও এই পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের দাবি এসেছে। ইতোমধ্যে বন্যার কারণে আমরা চিটাগাং বোর্ডের প্রতিটি জেলার পরীক্ষা বন্ধ করে দিয়েছি। পুনরায় পরীক্ষা নিতেই হবে।’

এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘আমরা দেখেছি যে চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা আরেকটি প্রশ্নপত্র সেটে যখন আমরা নেবো, ফিজিকস সেকেন্ড পেপার, যুক্তিবিদ্যা ও হিসাববিজ্ঞান সে সময়ে আমরা পুনরায় নেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারব।’

এর আগে সারা দেশে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন শিক্ষামন্ত্রী।

বিকেলের দিকে সংসদ অধিবেশনের এক ফাঁকে এ বৈঠক শুরু হয়।

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিবাদে সারা দেশে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন শিক্ষার্থীরা। 

মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে মঙ্গলবার আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন পরীক্ষার্থীরা। রাজধানীর সায়েন্সল্যাবে একাধিক দাবি নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন তারা।

ঠিক এমন পরিস্থিতির মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। যাতে শিক্ষামন্ত্রীকে একজন পরীক্ষার্থীকে বলতে শোনা যায়, ‘ওরা তো ফার্মের মুরগি, একটু বৃষ্টিতে ভিজলেই জ্বর চলে আসবে।’

প্রাপ্ত তথ্যমতে, সিটি কলেজের এক ছাত্রীর সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর মোবাইল ফোনে কথা হয়। ছাত্রীর অভিভাবক মন্ত্রীকে হোয়াটসঅ্যাপে কল দিয়ে সন্তানের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেন।

সেই কথোপকথন হয় রোববার (১২ জুলাই) রাতে।ভিডিওতে শিক্ষামন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, ‘মিটিংয়ে একজন বলছিলেন, একটু ভিজলেই আমার মেয়ের জ্বর চলে আসে। বলছিলাম যে, এগুলো তো ফার্মের মুরগি। একটু ভিজলেই জ্বর চলে আসে। তখন আমি মিটিংয়েই বলছিলাম যে, একদিন বৃষ্টিতে ভিজবে জ্বর আসবে, তখন পরের তিনদিন তো আর পরীক্ষা দিতে পারবে না এরা।’

ভিডিওতে শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি পরীক্ষা স্থগিতের পক্ষে ছিলাম। কিন্তু ডিসিদের ফোন করা হলো, আবহাওয়াবিদদের সঙ্গে কথা হলো; তারা জানালেন যে, আগামীকাল (সোমবার) বৃষ্টি হবে না। আজ (রোববার) রাতেই শেষ। তখন পরীক্ষা চালিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হলো।’

ছাত্রী অভিযোগ করেন, ‘স্যার যাদের জ্বর হয়ে গেছে, আমরা তো সিটি কলেজের স্টুডেন্ট, যারা পরীক্ষা দিচ্ছি তাদের অলরেডি অনেকের জ্বর। কারণ বৃষ্টিতে ভিজে অবস্থা খারাপ। ইংরেজি দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষার দিনে বৃষ্টিতে ভিজেছি, আইসিটি পরীক্ষার দিনেও প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে।’

শিক্ষামন্ত্রী জবাবে বলেন, ‘আমরা ৫টা পর্যন্ত মিটিং করেছি। সেখানে সবাই বলছেন আমরা প্রিপেয়ার্ড। শিক্ষার্থীরাও প্রিপেয়ার্ড। মিটিং করেছি, সেখানে কেউ পরীক্ষা পেছানোর জন্য রাজি হয় না। আমি রাজি ছিলাম...অন্যদের চেয়ে আমি পরীক্ষা স্থগিত করার সিদ্ধান্তের পক্ষে ছিলাম।’

পরীক্ষার রুটিন নিয়েও মন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করেন সেই ছাত্রী। তিনি বলেন, ‘উচ্চতর দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষার আগে একদিন ছুটি। এত চ্যাপ্টার...মাঝে একদিন মাত্র ছুটি। সেটা কি হয় স্যার? ফিজিক্স সেকেন্ড পেপারের মতো বিষয়ে...যেখানে ১১টা চ্যাপ্টার স্যার। কীভাবে সম্ভব?’

জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমি তোমাকে বলি, তোমাদের স্টেকহোল্ডারদের (অংশীজন) সঙ্গে কথা বলে রুটিন দিয়েছি। তারপরও বলেছি, যদি এ রুটিন গ্রহণযোগ্য না হয়, তাহলে আমি চেঞ্জ করব। কিন্তু কেউ তো আমাকে কোনো রেসপন্স করেনি।’


আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬


শিক্ষার্থীদের কাছে শিক্ষামন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুলাই ২০২৬

featured Image

শিক্ষার্থীদের নিয়ে মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত মন্তব্য, সেটি নিয়ে অনেকে আপত্তি করেছেন। সে ব্যাপারে বলতে চাই, আমি কাউকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কিছু বলিনি। যদি কেউ আহত হয়ে থাকে, সিম্পলি আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।’

শিক্ষামন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশের পর অধিবেশনে উপস্থিত সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে তাকে স্বাগত জানান।

অধিবেশন শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়ে করা শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আজ সংসদ ভবনের দিকে ছাত্ররা পরীক্ষা পেছানোর দাবিতে এসেছে। এ ব্যাপারে আমরা অনেক পর্যালোচনা করে দেখেছি।’

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘গতকাল ফিজিকস, হিসাববিজ্ঞান এবং যুক্তিবিদ্যা পরীক্ষার সময় বৃষ্টি ছিল। এ কারণেই অনেকেই ভিজেছে এবং পরীক্ষা সঠিকভাবে দিতে পারেনি বলে কমপ্লেইন এসেছে।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সব সময় পর্যবেক্ষণের মধ্যেই ছিলাম। তারপরও এই পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের দাবি এসেছে। ইতোমধ্যে বন্যার কারণে আমরা চিটাগাং বোর্ডের প্রতিটি জেলার পরীক্ষা বন্ধ করে দিয়েছি। পুনরায় পরীক্ষা নিতেই হবে।’

এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘আমরা দেখেছি যে চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা আরেকটি প্রশ্নপত্র সেটে যখন আমরা নেবো, ফিজিকস সেকেন্ড পেপার, যুক্তিবিদ্যা ও হিসাববিজ্ঞান সে সময়ে আমরা পুনরায় নেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারব।’

এর আগে সারা দেশে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন শিক্ষামন্ত্রী।

বিকেলের দিকে সংসদ অধিবেশনের এক ফাঁকে এ বৈঠক শুরু হয়।

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিবাদে সারা দেশে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন শিক্ষার্থীরা। 

মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে মঙ্গলবার আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন পরীক্ষার্থীরা। রাজধানীর সায়েন্সল্যাবে একাধিক দাবি নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন তারা।

ঠিক এমন পরিস্থিতির মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। যাতে শিক্ষামন্ত্রীকে একজন পরীক্ষার্থীকে বলতে শোনা যায়, ‘ওরা তো ফার্মের মুরগি, একটু বৃষ্টিতে ভিজলেই জ্বর চলে আসবে।’

প্রাপ্ত তথ্যমতে, সিটি কলেজের এক ছাত্রীর সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর মোবাইল ফোনে কথা হয়। ছাত্রীর অভিভাবক মন্ত্রীকে হোয়াটসঅ্যাপে কল দিয়ে সন্তানের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেন।

সেই কথোপকথন হয় রোববার (১২ জুলাই) রাতে।ভিডিওতে শিক্ষামন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, ‘মিটিংয়ে একজন বলছিলেন, একটু ভিজলেই আমার মেয়ের জ্বর চলে আসে। বলছিলাম যে, এগুলো তো ফার্মের মুরগি। একটু ভিজলেই জ্বর চলে আসে। তখন আমি মিটিংয়েই বলছিলাম যে, একদিন বৃষ্টিতে ভিজবে জ্বর আসবে, তখন পরের তিনদিন তো আর পরীক্ষা দিতে পারবে না এরা।’

ভিডিওতে শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি পরীক্ষা স্থগিতের পক্ষে ছিলাম। কিন্তু ডিসিদের ফোন করা হলো, আবহাওয়াবিদদের সঙ্গে কথা হলো; তারা জানালেন যে, আগামীকাল (সোমবার) বৃষ্টি হবে না। আজ (রোববার) রাতেই শেষ। তখন পরীক্ষা চালিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হলো।’

ছাত্রী অভিযোগ করেন, ‘স্যার যাদের জ্বর হয়ে গেছে, আমরা তো সিটি কলেজের স্টুডেন্ট, যারা পরীক্ষা দিচ্ছি তাদের অলরেডি অনেকের জ্বর। কারণ বৃষ্টিতে ভিজে অবস্থা খারাপ। ইংরেজি দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষার দিনে বৃষ্টিতে ভিজেছি, আইসিটি পরীক্ষার দিনেও প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে।’

শিক্ষামন্ত্রী জবাবে বলেন, ‘আমরা ৫টা পর্যন্ত মিটিং করেছি। সেখানে সবাই বলছেন আমরা প্রিপেয়ার্ড। শিক্ষার্থীরাও প্রিপেয়ার্ড। মিটিং করেছি, সেখানে কেউ পরীক্ষা পেছানোর জন্য রাজি হয় না। আমি রাজি ছিলাম...অন্যদের চেয়ে আমি পরীক্ষা স্থগিত করার সিদ্ধান্তের পক্ষে ছিলাম।’

পরীক্ষার রুটিন নিয়েও মন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করেন সেই ছাত্রী। তিনি বলেন, ‘উচ্চতর দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষার আগে একদিন ছুটি। এত চ্যাপ্টার...মাঝে একদিন মাত্র ছুটি। সেটা কি হয় স্যার? ফিজিক্স সেকেন্ড পেপারের মতো বিষয়ে...যেখানে ১১টা চ্যাপ্টার স্যার। কীভাবে সম্ভব?’

জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমি তোমাকে বলি, তোমাদের স্টেকহোল্ডারদের (অংশীজন) সঙ্গে কথা বলে রুটিন দিয়েছি। তারপরও বলেছি, যদি এ রুটিন গ্রহণযোগ্য না হয়, তাহলে আমি চেঞ্জ করব। কিন্তু কেউ তো আমাকে কোনো রেসপন্স করেনি।’



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত