সংবাদ

গাইবান্ধায় বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে আমনের বীজতলা


প্রতিনিধি, গাইবান্ধা
প্রতিনিধি, গাইবান্ধা
প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:২১ পিএম

গাইবান্ধায় বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে আমনের বীজতলা
জলাবদ্ধতায় নষ্ট হচ্ছে আমনের কচি চারা। ছবি : সংবাদ

গাইবান্ধায় টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের আমন ধানের বীজতলা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে চলতি মৌসুমে জেলায় আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। নষ্ট হওয়া বীজতলা পুনরায় তৈরি করতে গিয়ে অতিরিক্ত খরচ ও সময় অপচয়ের মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে গাইবান্ধায় ১ লাখ ৩৩ হাজার ১২০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য জেলাজুড়ে ৭ হাজার ২৫ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করেছিলেন কৃষকেরা। তবে সাম্প্রতিক বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় ১৩২ হেক্টর বীজতলা পানিতে ডুবে গেছে। এর মধ্যে ৩৩ দশমিক ৫ হেক্টর বীজতলা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। এ ছাড়া প্রায় ৩১০ হেক্টর জমির গ্রীষ্মকালীন শাকসবজিও বর্তমানে পানির নিচে।

গাইবান্ধা সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার নদীবেষ্টিত ১৬৫টি চরাঞ্চল সামান্য বৃষ্টিতেই প্লাবিত হয়। কৃষকেরা জানান, সাধারণত আষাঢ়ের শেষ নাগাদ বীজতলা তৈরি শেষ হয় এবং শ্রাবণের শুরু থেকে চারা রোপণ চলে। কিন্তু এবার টানা বৃষ্টি ও নদ-নদীর পানি বাড়ায় চারা গাছে পচন ধরেছে।

সদর উপজেলার চাপাদহ গ্রামের কৃষক হোসেন আলী বলেন, ‘একনাগাড়ে বৃষ্টিতে সব চারা নষ্ট হয়ে গেছে। এখন নতুন করে বীজতলা তৈরি করতে হবে। এতে অনেক বাড়তি খরচ হবে।’

সুন্দরগঞ্জের হরিপুর গ্রামের কৃষক আজগর আলী জানান, বীজতলা নষ্ট হওয়ায় আমন চাষ অন্তত ২০ দিন পিছিয়ে যাবে। পলাশবাড়ী উপজেলার কৃষক জয়নাল মিয়া ও বকুল মিয়া জানান, চারা পচে যাওয়ায় এখন চড়া দামে বাজার থেকে চারা কিনে রোপণ করতে হবে। এতে উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে যাবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

/

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬


গাইবান্ধায় বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে আমনের বীজতলা

প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুলাই ২০২৬

featured Image

গাইবান্ধায় টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের আমন ধানের বীজতলা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে চলতি মৌসুমে জেলায় আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। নষ্ট হওয়া বীজতলা পুনরায় তৈরি করতে গিয়ে অতিরিক্ত খরচ ও সময় অপচয়ের মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে গাইবান্ধায় ১ লাখ ৩৩ হাজার ১২০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য জেলাজুড়ে ৭ হাজার ২৫ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করেছিলেন কৃষকেরা। তবে সাম্প্রতিক বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় ১৩২ হেক্টর বীজতলা পানিতে ডুবে গেছে। এর মধ্যে ৩৩ দশমিক ৫ হেক্টর বীজতলা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। এ ছাড়া প্রায় ৩১০ হেক্টর জমির গ্রীষ্মকালীন শাকসবজিও বর্তমানে পানির নিচে।

গাইবান্ধা সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার নদীবেষ্টিত ১৬৫টি চরাঞ্চল সামান্য বৃষ্টিতেই প্লাবিত হয়। কৃষকেরা জানান, সাধারণত আষাঢ়ের শেষ নাগাদ বীজতলা তৈরি শেষ হয় এবং শ্রাবণের শুরু থেকে চারা রোপণ চলে। কিন্তু এবার টানা বৃষ্টি ও নদ-নদীর পানি বাড়ায় চারা গাছে পচন ধরেছে।

সদর উপজেলার চাপাদহ গ্রামের কৃষক হোসেন আলী বলেন, ‘একনাগাড়ে বৃষ্টিতে সব চারা নষ্ট হয়ে গেছে। এখন নতুন করে বীজতলা তৈরি করতে হবে। এতে অনেক বাড়তি খরচ হবে।’

সুন্দরগঞ্জের হরিপুর গ্রামের কৃষক আজগর আলী জানান, বীজতলা নষ্ট হওয়ায় আমন চাষ অন্তত ২০ দিন পিছিয়ে যাবে। পলাশবাড়ী উপজেলার কৃষক জয়নাল মিয়া ও বকুল মিয়া জানান, চারা পচে যাওয়ায় এখন চড়া দামে বাজার থেকে চারা কিনে রোপণ করতে হবে। এতে উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে যাবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

/


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত