মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের অনেক ঘর মাসের পর মাস ফাঁকা পড়ে থাকলেও সেখানে ঠাঁই হচ্ছে না প্রকৃত ভূমিহীনদের। উল্টো কিছু ঘর অন্যদের কাছে ভাড়ায় দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। এতে সরকারের এই মানবিক উদ্যোগের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রকৃত উপকারভোগীরা।
সরেজমিনে উপজেলার বালুয়াকান্দি ইউনিয়নের বড় রায়পাড়া, টেঙ্গারচর ইউনিয়নের মিরপুর ও টেঙ্গারচর গ্রাম, ভবেরচর ইউনিয়নের ভিটিকান্দি এবং ইমামপুরসহ বিভিন্ন এলাকার আশ্রয়ণ প্রকল্প ঘুরে দেখা যায়, অনেক ঘরেই বরাদ্দপ্রাপ্ত পরিবারগুলো থাকছে না। কিছু ঘর দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তদারকির অভাবে বরাদ্দপ্রাপ্ত কেউ কেউ ঘরগুলো অন্যদের কাছে ভাড়ায় দিয়েছেন।
টেঙ্গারচর ইউনিয়নের মিরপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা জানান, ঘরগুলোর রক্ষণাবেক্ষণে চরম অবহেলা করা হচ্ছে। বেশ কয়েকটি ঘরের টিন নষ্ট হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই ঘরের ভেতরে পানি পড়ে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় দিন দিন ঘরগুলোর অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছে।
অন্যদিকে, প্রকৃত ভূমিহীনরা সরকারি ঘরের আশায় ঘুরে বেড়ালেও প্রকল্পের ঘর ফাঁকা থাকা বা অন্যকে ভাড়া দেওয়ার বিষয়টি এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের দাবি, যারা ঘরে থাকছেন না বা ভাড়া দিয়েছেন, তাদের বরাদ্দ বাতিল করে প্রকৃত অসহায়দের সেখানে পুনর্বাসন করা হোক।
এ বিষয়ে গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাফছা নাদিয়া সংবাদকে বলেন, ‘আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো উপকারভোগীদের নামে স্থায়ীভাবে (কবুলিয়াত) লিখে দেওয়া হয়েছে, তাই এর রক্ষণাবেক্ষণের প্রাথমিক দায়িত্ব তাদেরই। তবে ঘর ফাঁকা রাখা বা ভাড়ায় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বরাদ্দ বাতিল করে নতুন করে ভূমিহীনদের সেখানে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আপনার মতামত লিখুন