বরিশাল সদর উপজেলার ২ নম্বর কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদটি প্রতিষ্ঠার ছয় দশকেও কোনো নতুন ভবন পায়নি। ১৯৬২ সালে কার্যক্রম শুরু করা এই পরিষদটি বরিশাল সিটি করপোরেশন সংলগ্ন এবং সদর উপজেলায় অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও অবকাঠামোগতভাবে চরম অবহেলিত রয়ে গেছে। বর্তমানে জরাজীর্ণ একতলা ভবনের মাত্র ৩টি কক্ষে চলছে পরিষদের সব কার্যক্রম, এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার ১০টি উপজেলার প্রায় সব ইউনিয়নে এখন সাইক্লোন সেন্টারসহ আধুনিক পরিষদ ভবন রয়েছে। দুর্যোগের সময় সাধারণ মানুষ সেখানে আশ্রয় নিতে পারে। কিন্তু কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদ সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
পরিষদে সেবা নিতে আসা জাফর ফরাজী বলেন, ‘বরিশাল জেলায় এমন জরাজীর্ণ ইউনিয়ন পরিষদ আর আছে কি না, আমার জানা নেই। পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় জন্মনিবন্ধন বা অন্যান্য সনদ নিতে এসে বাইরে রোদে পুড়তে ও বৃষ্টিতে ভিজতে হয়।’
১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য অভিযোগ করে বলেন, সিটি করপোরেশন ও সদর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ একটি ইউনিয়ন হওয়া সত্ত্বেও এর কোনো উন্নয়ন হয়নি। নাগরিক সেবা দিতে গিয়ে প্রায়ই হিমশিম খেতে হচ্ছে। দ্রুত একটি দোতলা ভবন নির্মাণের দাবি জানান তিনি। ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রাসেল বলেন, জরাজীর্ণ ভবনের বদলে সাইক্লোন সেন্টারসহ একটি আধুনিক ভবন নির্মাণ করা হলে দুর্যোগের সময় মানুষ আশ্রয়ও নিতে পারবে।
পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সুজন জানান, ২০২৪ সালে নতুন ভবনের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি হয়নি। বর্তমানে মাত্র ৩টি কক্ষেই চেয়ারম্যান, সচিব ও প্রশাসনিক সব কাজ সারতে হচ্ছে।
বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. ফরিদা সুলতানা বলেন, ‘আমি পরিষদটি পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। ভবনটি সত্যিই খুব জরাজীর্ণ। কক্ষ সংকটে নাগরিক সেবা ব্যাহত হচ্ছে। নতুন ভবনের চাহিদার বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে গুরুত্বের সঙ্গে জানাব।’
বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি আগে অবহিত ছিলেন না। নতুন ভবনের চাহিদার বিষয়টি খোঁজ নিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
/

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুলাই ২০২৬
বরিশাল সদর উপজেলার ২ নম্বর কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদটি প্রতিষ্ঠার ছয় দশকেও কোনো নতুন ভবন পায়নি। ১৯৬২ সালে কার্যক্রম শুরু করা এই পরিষদটি বরিশাল সিটি করপোরেশন সংলগ্ন এবং সদর উপজেলায় অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও অবকাঠামোগতভাবে চরম অবহেলিত রয়ে গেছে। বর্তমানে জরাজীর্ণ একতলা ভবনের মাত্র ৩টি কক্ষে চলছে পরিষদের সব কার্যক্রম, এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার ১০টি উপজেলার প্রায় সব ইউনিয়নে এখন সাইক্লোন সেন্টারসহ আধুনিক পরিষদ ভবন রয়েছে। দুর্যোগের সময় সাধারণ মানুষ সেখানে আশ্রয় নিতে পারে। কিন্তু কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদ সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
পরিষদে সেবা নিতে আসা জাফর ফরাজী বলেন, ‘বরিশাল জেলায় এমন জরাজীর্ণ ইউনিয়ন পরিষদ আর আছে কি না, আমার জানা নেই। পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় জন্মনিবন্ধন বা অন্যান্য সনদ নিতে এসে বাইরে রোদে পুড়তে ও বৃষ্টিতে ভিজতে হয়।’
১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য অভিযোগ করে বলেন, সিটি করপোরেশন ও সদর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ একটি ইউনিয়ন হওয়া সত্ত্বেও এর কোনো উন্নয়ন হয়নি। নাগরিক সেবা দিতে গিয়ে প্রায়ই হিমশিম খেতে হচ্ছে। দ্রুত একটি দোতলা ভবন নির্মাণের দাবি জানান তিনি। ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রাসেল বলেন, জরাজীর্ণ ভবনের বদলে সাইক্লোন সেন্টারসহ একটি আধুনিক ভবন নির্মাণ করা হলে দুর্যোগের সময় মানুষ আশ্রয়ও নিতে পারবে।
পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সুজন জানান, ২০২৪ সালে নতুন ভবনের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি হয়নি। বর্তমানে মাত্র ৩টি কক্ষেই চেয়ারম্যান, সচিব ও প্রশাসনিক সব কাজ সারতে হচ্ছে।
বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. ফরিদা সুলতানা বলেন, ‘আমি পরিষদটি পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। ভবনটি সত্যিই খুব জরাজীর্ণ। কক্ষ সংকটে নাগরিক সেবা ব্যাহত হচ্ছে। নতুন ভবনের চাহিদার বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে গুরুত্বের সঙ্গে জানাব।’
বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি আগে অবহিত ছিলেন না। নতুন ভবনের চাহিদার বিষয়টি খোঁজ নিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
/

আপনার মতামত লিখুন