তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, যারা ধর্মের নামে সমাজ ও রাষ্ট্রে বিভক্তি সৃষ্টির চেষ্টা করে, তারা জাতি, ধর্ম এবং ঈশ্বরের শত্রু। প্রকৃত ধর্মবিশ্বাসীরা কখনো অন্যের ধর্মবিশ্বাসকে অসম্মান করেন না। নিজ নিজ ধর্মবিশ্বাসে অটল থেকে সকল ধর্মের মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা এবং পারস্পরিক সহাবস্থানই একটি শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজের মূল ভিত্তি।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে উল্টো রথযাত্রা উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) ও ঢাকা মহানগর সার্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটি এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পৃথিবীর বিভিন্ন ধর্মের মহাপুরুষরা ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে সর্বশক্তিমানের আরাধনা করেছেন। আল্লাহ, ঈশ্বর বা ভগবান যে নামেই তাকে ডাকা হোক না কেন, প্রকৃত ধর্মপ্রাণ মানুষ অন্য সব ধর্মবিশ্বাসীর ঈশ্বরপ্রেমকেও সমানভাবে সম্মান করেন। পদ্ধতি ভিন্ন হলেও প্রত্যেকেই সেই একই সর্বশক্তিমানকে পাওয়ার চেষ্টা করেন।’
ধর্মীয় অনুভূতিকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের অপচেষ্টা সম্পর্কে সতর্ক করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনকভাবে কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী ধর্মীয় আবেগ দিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালায়। বাংলাদেশে যেমন এ ধরনের অপতৎপরতা দেখা যায়, তেমনি প্রতিবেশী রাষ্ট্রেও ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের নজির রয়েছে। এই অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ধর্ম, বর্ণ, ভাষা কিংবা পাহাড়-সমতলের ভিত্তিতে কোনো বিভাজন মেনে নেবে না। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শন দেশের সকল ধর্ম, বর্ণ, ভাষা ও সংস্কৃতিকে একটি অভিন্ন জাতীয় পরিচয়ের বন্ধনে আবদ্ধ করেছে। এখানে ধর্মের ভিত্তিতে বিভক্তির কোনো সুযোগ নেই।’
অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, ‘বাংলাদেশ সব ধর্মের মানুষের দেশ। মুক্তিযুদ্ধে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরাও অংশ নিয়েছেন এবং তাদের রক্তের বিনিময়েও এই দেশ স্বাধীন হয়েছে। রাষ্ট্রের কাছে আপনাদের যে অধিকার, তা দৃঢ়ভাবে তুলে ধরবেন। নিজেদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক ভাবার কোনো কারণ নেই।’
বিএনপি কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক উসকানিতে বিশ্বাস করে না উল্লেখ করে আব্দুস সালাম আরও বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময় একই দিনে ঈদ ও দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হলেও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে তিনি আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন কামনা করেন।’
স্বামীবাগ আশ্রমের অধ্যক্ষ ও ইসকন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক নিতাই স্বামী মহারাজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর এবং ঢাকা মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি জয়ন্ত কুমার দেব। স্বাগত বক্তব্য দেন ইসকন বাংলাদেশের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য বিমলা প্রসাদ দাস।

মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুলাই ২০২৬
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, যারা ধর্মের নামে সমাজ ও রাষ্ট্রে বিভক্তি সৃষ্টির চেষ্টা করে, তারা জাতি, ধর্ম এবং ঈশ্বরের শত্রু। প্রকৃত ধর্মবিশ্বাসীরা কখনো অন্যের ধর্মবিশ্বাসকে অসম্মান করেন না। নিজ নিজ ধর্মবিশ্বাসে অটল থেকে সকল ধর্মের মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা এবং পারস্পরিক সহাবস্থানই একটি শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজের মূল ভিত্তি।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে উল্টো রথযাত্রা উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) ও ঢাকা মহানগর সার্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটি এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পৃথিবীর বিভিন্ন ধর্মের মহাপুরুষরা ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে সর্বশক্তিমানের আরাধনা করেছেন। আল্লাহ, ঈশ্বর বা ভগবান যে নামেই তাকে ডাকা হোক না কেন, প্রকৃত ধর্মপ্রাণ মানুষ অন্য সব ধর্মবিশ্বাসীর ঈশ্বরপ্রেমকেও সমানভাবে সম্মান করেন। পদ্ধতি ভিন্ন হলেও প্রত্যেকেই সেই একই সর্বশক্তিমানকে পাওয়ার চেষ্টা করেন।’
ধর্মীয় অনুভূতিকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের অপচেষ্টা সম্পর্কে সতর্ক করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনকভাবে কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী ধর্মীয় আবেগ দিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালায়। বাংলাদেশে যেমন এ ধরনের অপতৎপরতা দেখা যায়, তেমনি প্রতিবেশী রাষ্ট্রেও ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের নজির রয়েছে। এই অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ধর্ম, বর্ণ, ভাষা কিংবা পাহাড়-সমতলের ভিত্তিতে কোনো বিভাজন মেনে নেবে না। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শন দেশের সকল ধর্ম, বর্ণ, ভাষা ও সংস্কৃতিকে একটি অভিন্ন জাতীয় পরিচয়ের বন্ধনে আবদ্ধ করেছে। এখানে ধর্মের ভিত্তিতে বিভক্তির কোনো সুযোগ নেই।’
অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, ‘বাংলাদেশ সব ধর্মের মানুষের দেশ। মুক্তিযুদ্ধে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরাও অংশ নিয়েছেন এবং তাদের রক্তের বিনিময়েও এই দেশ স্বাধীন হয়েছে। রাষ্ট্রের কাছে আপনাদের যে অধিকার, তা দৃঢ়ভাবে তুলে ধরবেন। নিজেদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক ভাবার কোনো কারণ নেই।’
বিএনপি কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক উসকানিতে বিশ্বাস করে না উল্লেখ করে আব্দুস সালাম আরও বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময় একই দিনে ঈদ ও দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হলেও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে তিনি আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন কামনা করেন।’
স্বামীবাগ আশ্রমের অধ্যক্ষ ও ইসকন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক নিতাই স্বামী মহারাজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর এবং ঢাকা মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি জয়ন্ত কুমার দেব। স্বাগত বক্তব্য দেন ইসকন বাংলাদেশের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য বিমলা প্রসাদ দাস।

আপনার মতামত লিখুন