কিশোরগঞ্জে গত শুক্র ও শনিবার–এই ২ দিনে জেলার বিভিন্ন স্থানে পানিতে ডুবে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ৪ শিশু, ৩ কিশোর, ১ যুবক ও ১ মধ্যবয়স্ক ব্যক্তি রয়েছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনাগুলোতে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোতে চলছে শোকের মাতম।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার নীলগঞ্জ বাজার এলাকায় নরসুন্দা নদীতে গোসল করতে গিয়ে নিখোঁজ হন মোহাম্মদ ফয়সাল (২২) নামের এক যুবক। বিকেলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তার মরদেহ উদ্ধার করেন। ফয়সাল সদর উপজেলার লতিবাবাদ ইউনিয়নের ডুবাইল গ্রামের হেলাল উদ্দিনের ছেলে। তিনি ওই এলাকায় তাবলিগ জামাতের একটি কার্যক্রমে অংশ নিতে গিয়েছিলেন।
একই দিন দুপুরে বাজিতপুর উপজেলার মীরারবন্দ গ্রামে খালের পানিতে ডুবে তাসিন (৫) ও জান্নাতুল মাওয়া (৫) নামের ২ শিশুর মৃত্যু হয়। বাড়ির পাশে খেলার সময় তারা পানিতে পড়ে যায়।
এদিকে শুক্রবার আরও ছয়জনের প্রাণহানি ঘটে। এর মধ্যে সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে করিমগঞ্জ-মিঠামইন সীমান্তবর্তী হাসানপুর সেতু এলাকায়। সেখানে মেয়ে শেমন্তী আক্তারকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারান বাবা বাছির উদ্দিন মিলন (৩৮)। তিনি কিশোরগঞ্জ শহরের গাইটাল এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় একজন ফিজিওথেরাপিস্ট ছিলেন। সপরিবার হাওরে ঘুরতে গিয়ে মেয়ে স্রোতের টানে তলিয়ে যেতে থাকলে তিনি তাকে উদ্ধার করেন, কিন্তু নিজে তলিয়ে যান।
অন্যান্য ঘটনার মধ্যে, শুক্রবার মিঠামইন হাওরে শিক্ষা সফরে এসে স্রোতে ভেসে যায় মাদ্রাসাছাত্র আরিফ হোসেন (১২)। একই দিন নিকলী উপজেলার কারপাশা ইউনিয়নে পুকুরের পানিতে ডুবে মোহাম্মদ হাকিম (৫) এবং কটিয়াদী উপজেলার দক্ষিণ লোহাজুরি গ্রামে বিলের পানিতে ডুবে নাঈম মিয়া (১১) নামের এক কিশোরের মৃত্যু হয়। এছাড়া ইটনা উপজেলার বড়িবাড়ী ইউনিয়নে বড় বোনের সঙ্গে হাওরে গোসল করতে গিয়ে প্রাণ হারায় ৫ বছরের শিশু ফাইজা আক্তার। ভৈরবের জগন্নাথপুরেও শুভ ইসলাম স্মরণ (১২) নামের এক কিশোরের মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে; সে বৃহস্পতিবার থেকে নিখোঁজ ছিল।
কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ‘পানিতে ডুবে এতগুলো প্রাণহানি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। বর্ষাকালে বিশেষ করে শিশুদের প্রতি পরিবারের বাড়তি নজরদারি প্রয়োজন। হাওরে গোসল বা চলাচলের ক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।’
/

রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুলাই ২০২৬
কিশোরগঞ্জে গত শুক্র ও শনিবার–এই ২ দিনে জেলার বিভিন্ন স্থানে পানিতে ডুবে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ৪ শিশু, ৩ কিশোর, ১ যুবক ও ১ মধ্যবয়স্ক ব্যক্তি রয়েছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনাগুলোতে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোতে চলছে শোকের মাতম।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার নীলগঞ্জ বাজার এলাকায় নরসুন্দা নদীতে গোসল করতে গিয়ে নিখোঁজ হন মোহাম্মদ ফয়সাল (২২) নামের এক যুবক। বিকেলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তার মরদেহ উদ্ধার করেন। ফয়সাল সদর উপজেলার লতিবাবাদ ইউনিয়নের ডুবাইল গ্রামের হেলাল উদ্দিনের ছেলে। তিনি ওই এলাকায় তাবলিগ জামাতের একটি কার্যক্রমে অংশ নিতে গিয়েছিলেন।
একই দিন দুপুরে বাজিতপুর উপজেলার মীরারবন্দ গ্রামে খালের পানিতে ডুবে তাসিন (৫) ও জান্নাতুল মাওয়া (৫) নামের ২ শিশুর মৃত্যু হয়। বাড়ির পাশে খেলার সময় তারা পানিতে পড়ে যায়।
এদিকে শুক্রবার আরও ছয়জনের প্রাণহানি ঘটে। এর মধ্যে সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে করিমগঞ্জ-মিঠামইন সীমান্তবর্তী হাসানপুর সেতু এলাকায়। সেখানে মেয়ে শেমন্তী আক্তারকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারান বাবা বাছির উদ্দিন মিলন (৩৮)। তিনি কিশোরগঞ্জ শহরের গাইটাল এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় একজন ফিজিওথেরাপিস্ট ছিলেন। সপরিবার হাওরে ঘুরতে গিয়ে মেয়ে স্রোতের টানে তলিয়ে যেতে থাকলে তিনি তাকে উদ্ধার করেন, কিন্তু নিজে তলিয়ে যান।
অন্যান্য ঘটনার মধ্যে, শুক্রবার মিঠামইন হাওরে শিক্ষা সফরে এসে স্রোতে ভেসে যায় মাদ্রাসাছাত্র আরিফ হোসেন (১২)। একই দিন নিকলী উপজেলার কারপাশা ইউনিয়নে পুকুরের পানিতে ডুবে মোহাম্মদ হাকিম (৫) এবং কটিয়াদী উপজেলার দক্ষিণ লোহাজুরি গ্রামে বিলের পানিতে ডুবে নাঈম মিয়া (১১) নামের এক কিশোরের মৃত্যু হয়। এছাড়া ইটনা উপজেলার বড়িবাড়ী ইউনিয়নে বড় বোনের সঙ্গে হাওরে গোসল করতে গিয়ে প্রাণ হারায় ৫ বছরের শিশু ফাইজা আক্তার। ভৈরবের জগন্নাথপুরেও শুভ ইসলাম স্মরণ (১২) নামের এক কিশোরের মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে; সে বৃহস্পতিবার থেকে নিখোঁজ ছিল।
কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ‘পানিতে ডুবে এতগুলো প্রাণহানি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। বর্ষাকালে বিশেষ করে শিশুদের প্রতি পরিবারের বাড়তি নজরদারি প্রয়োজন। হাওরে গোসল বা চলাচলের ক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।’
/

আপনার মতামত লিখুন