রংপুর বিভাগীয় ও জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ইচ্ছেমতো অফিসে আসছেন। নির্ধারিত সময় সকাল ৯টার পরও অধিকাংশ কর্মকর্তা আসেন ১১টার দিকে। সেবা নিতে আসা খামারিরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
রংপুর নগরীর স্টেশন রোড এলাকায় অবস্থিত রংপুর বিভাগীয় ও জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে চলছে চরম নৈরাজ্য। সরকারি নির্দেশ উপেক্ষা করে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিসে আসেন এবং কোনো নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা করেন না। ফলে বিভিন্ন স্থান থেকে সেবা নিতে আসা খামারিরা সব ধরনের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে রোববার (২৬ জুলাই) সকাল ৯টায় জেলা ও বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অফিসে গিয়ে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। অফিস সময় ৯টা হলেও রংপুর বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ে সুনসান নীরবতা। অফিসের দরজাই খোলা ছিল না। সকাল সোয়া ৯টায় অফিস পিয়ন হন্তদন্ত হয়ে এসে জাতীয় পতাকা লাগান ৯টা ২০ মিনিটে। এরপর বিভাগীয় কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন কক্ষের দরজা খোলা শুরু হয়।
সকাল ৯টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত বিভাগীয় কর্মকর্তা ডা. আব্দুল হাই সরকার অফিসে আসেননি। অফিসের কর্মচারী জানান, তিনি ইচ্ছেমতো অফিসে আসেন- কখনও ১১টায়, কখনও সাড়ে ১১টায়।
বিভাগীয় কর্মকর্তার কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা আসেন সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে। দেরিতে আসার কারণ জানতে চাইলে তারা স্বীকার করেন যে একটু দেরি হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, 'সাংবাদিকদের কি এটা দেখার কাজ? অফিস সময় ৯টা হলেও আমরা একটু দেরিতে আসি, আবার অফিস ত্যাগ করি ৫টার পর। সেটা কেন সাংবাদিকরা দেখেন না?'
পার্শ্ববর্তী ভবনটি জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়। সেখানে সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে গাড়িতে এসে অফিসের সামনে আসেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নাজমুল হুদা। তিনি অজুহাত দেন, তার এক আত্মীয় অসুস্থ- তাকে দেখে আসতে দেরি হয়েছে। তিনি দাবি করেন, 'আমরা যথাসময়ে অফিসে আসি।'
ক্যামেরা দেখে তড়িঘড়ি করে আসেন জেলা কার্যালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তবে কেউই ৯টার মধ্যে আসেননি। তারা আসেন ৯টা ৪০ থেকে ৯টা ৪৫ মিনিটে- নির্ধারিত সময়ের প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা পর।
এদিকে বেলা পৌনে ৯টায় নগরীর আলমনগর থেকে আসা খামারি মোশারফ হোসেন জানান, তার তিনটি বলদের মধ্যে দুটি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছে। দুই দিন ধরে তারা পানি ছাড়া কিছু খাচ্ছে না, শরীরেও জ্বর আছে। তাই ভেটেরিনারি ডাক্তারের পরামর্শ নিতে এসেছেন তিনি। কিন্তু প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষার পরও কোনো ডাক্তার আসেননি। কখন আসবে, কেউ বলেনি।
ক্ষুব্ধ খামারি বলেন, ‘একটা সরকারি অফিস-কাম-হাসপাতাল এভাবে চলে কীভাবে? প্রাণিসম্পদ অফিসের মতো গুরুত্বপূর্ণ অফিসে যদি সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কর্মকর্তারা না আসেন, তবে সাধারণ মানুষ কীভাবে সেবা পাবে? বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।’
সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৪ ধারা অনুযায়ী, কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত না হলে এবং অসাবধানতা বা দায়িত্ব পালনে অবহেলার প্রমাণ মিললে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। এছাড়া সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(২) ধারা অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে অফিসে অনুপস্থিত থাকা ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য হবে।

সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুলাই ২০২৬
রংপুর বিভাগীয় ও জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ইচ্ছেমতো অফিসে আসছেন। নির্ধারিত সময় সকাল ৯টার পরও অধিকাংশ কর্মকর্তা আসেন ১১টার দিকে। সেবা নিতে আসা খামারিরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
রংপুর নগরীর স্টেশন রোড এলাকায় অবস্থিত রংপুর বিভাগীয় ও জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে চলছে চরম নৈরাজ্য। সরকারি নির্দেশ উপেক্ষা করে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিসে আসেন এবং কোনো নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা করেন না। ফলে বিভিন্ন স্থান থেকে সেবা নিতে আসা খামারিরা সব ধরনের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে রোববার (২৬ জুলাই) সকাল ৯টায় জেলা ও বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অফিসে গিয়ে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। অফিস সময় ৯টা হলেও রংপুর বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ে সুনসান নীরবতা। অফিসের দরজাই খোলা ছিল না। সকাল সোয়া ৯টায় অফিস পিয়ন হন্তদন্ত হয়ে এসে জাতীয় পতাকা লাগান ৯টা ২০ মিনিটে। এরপর বিভাগীয় কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন কক্ষের দরজা খোলা শুরু হয়।
সকাল ৯টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত বিভাগীয় কর্মকর্তা ডা. আব্দুল হাই সরকার অফিসে আসেননি। অফিসের কর্মচারী জানান, তিনি ইচ্ছেমতো অফিসে আসেন- কখনও ১১টায়, কখনও সাড়ে ১১টায়।
বিভাগীয় কর্মকর্তার কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা আসেন সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে। দেরিতে আসার কারণ জানতে চাইলে তারা স্বীকার করেন যে একটু দেরি হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, 'সাংবাদিকদের কি এটা দেখার কাজ? অফিস সময় ৯টা হলেও আমরা একটু দেরিতে আসি, আবার অফিস ত্যাগ করি ৫টার পর। সেটা কেন সাংবাদিকরা দেখেন না?'
পার্শ্ববর্তী ভবনটি জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়। সেখানে সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে গাড়িতে এসে অফিসের সামনে আসেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নাজমুল হুদা। তিনি অজুহাত দেন, তার এক আত্মীয় অসুস্থ- তাকে দেখে আসতে দেরি হয়েছে। তিনি দাবি করেন, 'আমরা যথাসময়ে অফিসে আসি।'
ক্যামেরা দেখে তড়িঘড়ি করে আসেন জেলা কার্যালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তবে কেউই ৯টার মধ্যে আসেননি। তারা আসেন ৯টা ৪০ থেকে ৯টা ৪৫ মিনিটে- নির্ধারিত সময়ের প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা পর।
এদিকে বেলা পৌনে ৯টায় নগরীর আলমনগর থেকে আসা খামারি মোশারফ হোসেন জানান, তার তিনটি বলদের মধ্যে দুটি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছে। দুই দিন ধরে তারা পানি ছাড়া কিছু খাচ্ছে না, শরীরেও জ্বর আছে। তাই ভেটেরিনারি ডাক্তারের পরামর্শ নিতে এসেছেন তিনি। কিন্তু প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষার পরও কোনো ডাক্তার আসেননি। কখন আসবে, কেউ বলেনি।
ক্ষুব্ধ খামারি বলেন, ‘একটা সরকারি অফিস-কাম-হাসপাতাল এভাবে চলে কীভাবে? প্রাণিসম্পদ অফিসের মতো গুরুত্বপূর্ণ অফিসে যদি সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কর্মকর্তারা না আসেন, তবে সাধারণ মানুষ কীভাবে সেবা পাবে? বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।’
সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৪ ধারা অনুযায়ী, কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত না হলে এবং অসাবধানতা বা দায়িত্ব পালনে অবহেলার প্রমাণ মিললে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। এছাড়া সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(২) ধারা অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে অফিসে অনুপস্থিত থাকা ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য হবে।

আপনার মতামত লিখুন