বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় দ্রুত বিকশিত হচ্ছে লেকার ফার্নিচার শিল্প। স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে এই শিল্প ইতিবাচক প্রভাব ফেললেও অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা এসব কারখানা এখন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই আবাসিক এলাকায় কারখানা গড়ে ওঠায় চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও শ্রমিকেরা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার কুসুম্বী ইউনিয়নের বাগড়া ও দিঘীরপাড়; গাড়ীদহ ইউনিয়নের হাপুনিয়া ও বনমরিচা; মহিপুর কলোনি এবং শাহবন্দেগী ইউনিয়নের কানাইকান্দর এলাকায় এ শিল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। বর্তমানে এসব এলাকায় ছোট-বড় প্রায় ১২০টি লেকার ফার্নিচার কারখানা গড়ে উঠেছে। এসব কারখানায় মূলত এমডিএফ ও সিএসসি রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করে আধুনিক ফার্নিচার প্রস্তুত করা হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার এসব কারখানায় কোনো পরিবেশগত ছাড়পত্র বা অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই। আধুনিক কেমিক্যাল ফিল্টার বা ডাস্ট-ফ্রি স্প্রে বুথ না থাকায় বিষাক্ত থিনার ও কেমিক্যালের তীব্র গন্ধ বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে আশপাশের ঘরবাড়ির শিশু ও বৃদ্ধরা শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, অ্যালার্জি ও ফুসফুসের নানা জটিলতায় আক্রান্ত হচ্ছেন।
কারখানার শ্রমিকদের অবস্থাও শোচনীয়। মাস্ক বা কোনো সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়াই তাঁরা সরাসরি রাসায়নিক নিয়ে কাজ করছেন। ফলে দীর্ঘমেয়াদি চর্মরোগ ও চোখের সমস্যায় ভুগছেন অনেকে। এ ছাড়া আবাসিক এলাকায় দাহ্য রাসায়নিকের মজুত বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি তৈরি করেছে।
শেরপুর লেকার ফার্নিচার মালিক সমিতির সভাপতি আবদুল আলিম বলেন, বর্তমানে প্রতিটি কারখানায় গড়ে ২০ থেকে ২৫ জন শ্রমিক কাজ করছেন। এখানকার তৈরি ফার্নিচার এখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হচ্ছে। বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানে এই শিল্প বড় ভূমিকা রাখছে। তবে পরিবেশ ও নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে কাজ করার সুযোগ আছে।
\

সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুলাই ২০২৬
বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় দ্রুত বিকশিত হচ্ছে লেকার ফার্নিচার শিল্প। স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে এই শিল্প ইতিবাচক প্রভাব ফেললেও অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা এসব কারখানা এখন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই আবাসিক এলাকায় কারখানা গড়ে ওঠায় চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও শ্রমিকেরা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার কুসুম্বী ইউনিয়নের বাগড়া ও দিঘীরপাড়; গাড়ীদহ ইউনিয়নের হাপুনিয়া ও বনমরিচা; মহিপুর কলোনি এবং শাহবন্দেগী ইউনিয়নের কানাইকান্দর এলাকায় এ শিল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। বর্তমানে এসব এলাকায় ছোট-বড় প্রায় ১২০টি লেকার ফার্নিচার কারখানা গড়ে উঠেছে। এসব কারখানায় মূলত এমডিএফ ও সিএসসি রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করে আধুনিক ফার্নিচার প্রস্তুত করা হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার এসব কারখানায় কোনো পরিবেশগত ছাড়পত্র বা অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই। আধুনিক কেমিক্যাল ফিল্টার বা ডাস্ট-ফ্রি স্প্রে বুথ না থাকায় বিষাক্ত থিনার ও কেমিক্যালের তীব্র গন্ধ বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে আশপাশের ঘরবাড়ির শিশু ও বৃদ্ধরা শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, অ্যালার্জি ও ফুসফুসের নানা জটিলতায় আক্রান্ত হচ্ছেন।
কারখানার শ্রমিকদের অবস্থাও শোচনীয়। মাস্ক বা কোনো সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়াই তাঁরা সরাসরি রাসায়নিক নিয়ে কাজ করছেন। ফলে দীর্ঘমেয়াদি চর্মরোগ ও চোখের সমস্যায় ভুগছেন অনেকে। এ ছাড়া আবাসিক এলাকায় দাহ্য রাসায়নিকের মজুত বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি তৈরি করেছে।
শেরপুর লেকার ফার্নিচার মালিক সমিতির সভাপতি আবদুল আলিম বলেন, বর্তমানে প্রতিটি কারখানায় গড়ে ২০ থেকে ২৫ জন শ্রমিক কাজ করছেন। এখানকার তৈরি ফার্নিচার এখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হচ্ছে। বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানে এই শিল্প বড় ভূমিকা রাখছে। তবে পরিবেশ ও নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে কাজ করার সুযোগ আছে।
\

আপনার মতামত লিখুন