ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল নিয়ে ভারতজুড়ে বিতর্ক। গাড়িচালকদের একাংশের মাইলেজ ও ইঞ্জিন নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে বিশুদ্ধ পেট্রোলের বিকল্পের কথা জানালেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গড়করি। কিন্তু সেই বিকল্পের দাম বেশি- এই বার্তায় নতুন করে উত্তপ্ত হলো আলোচনা।
ভারতের জ্বালানি নীতিতে ইদানীং বড় পরিবর্তন এসেছে। ধাপে ধাপে ই-২০ পেট্রোল চালু করা হয়েছে, যাতে ২০ শতাংশ ইথানল ও ৮০ শতাংশ পেট্রোল থাকে। সরকারের দাবি, এতে আমদানি করা তেলের ওপর নির্ভরতা কমবে, দূষণ কমবে এবং কৃষকরা লাভবান হবেন। কিন্তু গাড়িচালকদের একাংশের অভিযোগ, ই-২০ ব্যবহারে গাড়ির মাইলেজ কমে যাচ্ছে এবং পুরনো গাড়ির ইঞ্জিনের ক্ষতি হতে পারে।
বর্তমানে ভারতে ধাপে ধাপে ই-২০ পেট্রোলকে সাধারণ জ্বালানি হিসেবে চালু করা হয়েছে। এই জ্বালানিতে ২০ শতাংশ ইথানল এবং ৮০ শতাংশ পেট্রোল থাকে। কেন্দ্রের দাবি, ইথানল মেশানোর ফলে আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের ওপর ভারতের নির্ভরতা কমবে। পাশাপাশি দূষণ কমানোর পাশাপাশি আখ, ভুট্টা ও অন্যান্য কৃষিজ পণ্যের চাহিদা বাড়বে। এর ফলে কৃষকরাও উপকৃত হতে পারেন।
কিন্তু গাড়িচালকদের অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে অন্য জায়গায়। অনেকের দাবি, ই-২০ ব্যবহারে গাড়ির মাইলেজ কমে যাচ্ছে। বিশেষ করে পুরনো মডেলের গাড়িতে ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ, রাবারের পাইপ ও সিলের দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ।
ই-২০ পেট্রোল নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্কের মধ্যেই গাড়িচালকদের উদ্দেশে বড় বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রী নীতিন গড়করি। তাঁর বক্তব্য, ইথানল-মিশ্রিত পেট্রোল পছন্দ না হলে চালকরা ১০০ শতাংশ বিশুদ্ধ পেট্রোল কিনতে পারেন। তবে সেই বিকল্পের জন্য বেশি দাম গুনতে হবে।
এক সাক্ষাৎকারে গড়করি বলেন, ‘যারা ইথানল-মিশ্রিত জ্বালানি চান না, তারা ১০০ শতাংশ পেট্রোল ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু তার দাম বেশি হবে।”
সরকার অবশ্য ই-২০ নিয়ে সমস্ত অভিযোগ মানতে নারাজ। কেন্দ্রের বক্তব্য, ইথানলের শক্তিমান পেট্রোলের তুলনায় কম হওয়ায় কিছু গাড়িতে জ্বালানি দক্ষতা কয়েক শতাংশ কমতে পারে। অর্থাৎ একই দূরত্ব যেতে কিছুটা বেশি জ্বালানি লাগতে পারে। তবে ই-২০ ব্যবহারে ইঞ্জিনের স্থায়ী ক্ষতি হয়- এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি বলেই সরকারের দাবি।
নতুন গাড়ির ক্ষেত্রে অবশ্য অধিকাংশ নির্মাতাই ই-২০-সঙ্গতিপূর্ণ ইঞ্জিন বাজারে আনছে। পুরনো গাড়ির মালিকদের প্রস্তুতকারক সংস্থার নির্দেশিকা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
ই-২০-র পরবর্তী ধাপ হিসেবে ২৫ শতাংশ ইথানল-মিশ্রিত ই-২৫ পেট্রোল নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে কেন্দ্র এখনও এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী জানিয়েছেন, ই-২৫ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। পরীক্ষার ফলাফল এবং গাড়ি নির্মাতা সংস্থাগুলোর মতামত পর্যালোচনা করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
গড়করির সাম্প্রতিক মন্তব্যে অবশ্য একটি বিষয় স্পষ্ট- ইথানল-মিশ্রিত জ্বালানির নীতি থেকে পিছিয়ে আসছে না সরকার। বরং ই-২০ পছন্দ না করা গ্রাহকদের জন্য বিশুদ্ধ পেট্রোলের বিকল্প রাখার কথা বলা হলেও, সেই বিকল্পের জন্য বেশি দাম দিতে হবে। অর্থাৎ সামনে গাড়িচালকদের জন্য সমীকরণটা দাঁড়াচ্ছে- কম দামে ই-২০, নাকি বেশি খরচে বিশুদ্ধ পেট্রোল।
সিজেপির পর নতুন মঞ্চ ‘ই-২০ জনতা পার্টি’! গাড়িচালকদের একাংশ এখন ই-২০-বিরোধী আন্দোলনে নামার ইঙ্গিত দিচ্ছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ই-২০-এর বিরুদ্ধে সরব হচ্ছেন অনেকে। তাদের দাবি, ই-২০ জ্বালানি সরকারের ‘পরীক্ষামূলক’ প্রকল্প নয়; এটি জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
বিশুদ্ধ পেট্রোলের সমর্থকদের যুক্তি, ই-২০ ব্যবহারে জ্বালানি খরচ বাড়ছে। অথচ পেট্রোলের দাম কমানো হচ্ছে না। ফলে শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইথানল মেশানোর ফলে পেট্রোলের অকটেন সংখ্যা বাড়ে, যা ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতা বাড়ায়। তবে পুরনো গাড়ির ইঞ্জিনের জন্য এটি সমস্যা তৈরি করতে পারে। নতুন গাড়িগুলো ই-২০-এর জন্য তৈরি করা হলেও পুরনো গাড়িগুলোর ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে ই-২০ জ্বালানি ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা ও পরিবেশের জন্য ভালো। তবে গাড়িচালকদের স্বার্থও বিবেচনায় নিতে হবে। বিশুদ্ধ পেট্রোলের বিকল্প রাখা ভালো উদ্যোগ, কিন্তু দাম বেশি রাখা হলে তা সাধারণ মানুষের জন্য খুব একটা কার্যকর হবে না।
ই-২০ বনাম বিশুদ্ধ পেট্রোলের এই দ্বন্দ্ব আগামী দিনে আরও তীব্র হবে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। ভারতের জ্বালানি নীতি যে একটি বড় পরিবর্তনের মুখে দাঁড়িয়ে আছে, তা স্পষ্ট। কিন্তু এই পরিবর্তন জনগণের জন্য কতটা গ্রহণযোগ্য হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুলাই ২০২৬
ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল নিয়ে ভারতজুড়ে বিতর্ক। গাড়িচালকদের একাংশের মাইলেজ ও ইঞ্জিন নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে বিশুদ্ধ পেট্রোলের বিকল্পের কথা জানালেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গড়করি। কিন্তু সেই বিকল্পের দাম বেশি- এই বার্তায় নতুন করে উত্তপ্ত হলো আলোচনা।
ভারতের জ্বালানি নীতিতে ইদানীং বড় পরিবর্তন এসেছে। ধাপে ধাপে ই-২০ পেট্রোল চালু করা হয়েছে, যাতে ২০ শতাংশ ইথানল ও ৮০ শতাংশ পেট্রোল থাকে। সরকারের দাবি, এতে আমদানি করা তেলের ওপর নির্ভরতা কমবে, দূষণ কমবে এবং কৃষকরা লাভবান হবেন। কিন্তু গাড়িচালকদের একাংশের অভিযোগ, ই-২০ ব্যবহারে গাড়ির মাইলেজ কমে যাচ্ছে এবং পুরনো গাড়ির ইঞ্জিনের ক্ষতি হতে পারে।
বর্তমানে ভারতে ধাপে ধাপে ই-২০ পেট্রোলকে সাধারণ জ্বালানি হিসেবে চালু করা হয়েছে। এই জ্বালানিতে ২০ শতাংশ ইথানল এবং ৮০ শতাংশ পেট্রোল থাকে। কেন্দ্রের দাবি, ইথানল মেশানোর ফলে আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের ওপর ভারতের নির্ভরতা কমবে। পাশাপাশি দূষণ কমানোর পাশাপাশি আখ, ভুট্টা ও অন্যান্য কৃষিজ পণ্যের চাহিদা বাড়বে। এর ফলে কৃষকরাও উপকৃত হতে পারেন।
কিন্তু গাড়িচালকদের অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে অন্য জায়গায়। অনেকের দাবি, ই-২০ ব্যবহারে গাড়ির মাইলেজ কমে যাচ্ছে। বিশেষ করে পুরনো মডেলের গাড়িতে ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ, রাবারের পাইপ ও সিলের দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ।
ই-২০ পেট্রোল নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্কের মধ্যেই গাড়িচালকদের উদ্দেশে বড় বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রী নীতিন গড়করি। তাঁর বক্তব্য, ইথানল-মিশ্রিত পেট্রোল পছন্দ না হলে চালকরা ১০০ শতাংশ বিশুদ্ধ পেট্রোল কিনতে পারেন। তবে সেই বিকল্পের জন্য বেশি দাম গুনতে হবে।
এক সাক্ষাৎকারে গড়করি বলেন, ‘যারা ইথানল-মিশ্রিত জ্বালানি চান না, তারা ১০০ শতাংশ পেট্রোল ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু তার দাম বেশি হবে।”
সরকার অবশ্য ই-২০ নিয়ে সমস্ত অভিযোগ মানতে নারাজ। কেন্দ্রের বক্তব্য, ইথানলের শক্তিমান পেট্রোলের তুলনায় কম হওয়ায় কিছু গাড়িতে জ্বালানি দক্ষতা কয়েক শতাংশ কমতে পারে। অর্থাৎ একই দূরত্ব যেতে কিছুটা বেশি জ্বালানি লাগতে পারে। তবে ই-২০ ব্যবহারে ইঞ্জিনের স্থায়ী ক্ষতি হয়- এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি বলেই সরকারের দাবি।
নতুন গাড়ির ক্ষেত্রে অবশ্য অধিকাংশ নির্মাতাই ই-২০-সঙ্গতিপূর্ণ ইঞ্জিন বাজারে আনছে। পুরনো গাড়ির মালিকদের প্রস্তুতকারক সংস্থার নির্দেশিকা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
ই-২০-র পরবর্তী ধাপ হিসেবে ২৫ শতাংশ ইথানল-মিশ্রিত ই-২৫ পেট্রোল নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে কেন্দ্র এখনও এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী জানিয়েছেন, ই-২৫ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। পরীক্ষার ফলাফল এবং গাড়ি নির্মাতা সংস্থাগুলোর মতামত পর্যালোচনা করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
গড়করির সাম্প্রতিক মন্তব্যে অবশ্য একটি বিষয় স্পষ্ট- ইথানল-মিশ্রিত জ্বালানির নীতি থেকে পিছিয়ে আসছে না সরকার। বরং ই-২০ পছন্দ না করা গ্রাহকদের জন্য বিশুদ্ধ পেট্রোলের বিকল্প রাখার কথা বলা হলেও, সেই বিকল্পের জন্য বেশি দাম দিতে হবে। অর্থাৎ সামনে গাড়িচালকদের জন্য সমীকরণটা দাঁড়াচ্ছে- কম দামে ই-২০, নাকি বেশি খরচে বিশুদ্ধ পেট্রোল।
সিজেপির পর নতুন মঞ্চ ‘ই-২০ জনতা পার্টি’! গাড়িচালকদের একাংশ এখন ই-২০-বিরোধী আন্দোলনে নামার ইঙ্গিত দিচ্ছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ই-২০-এর বিরুদ্ধে সরব হচ্ছেন অনেকে। তাদের দাবি, ই-২০ জ্বালানি সরকারের ‘পরীক্ষামূলক’ প্রকল্প নয়; এটি জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
বিশুদ্ধ পেট্রোলের সমর্থকদের যুক্তি, ই-২০ ব্যবহারে জ্বালানি খরচ বাড়ছে। অথচ পেট্রোলের দাম কমানো হচ্ছে না। ফলে শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইথানল মেশানোর ফলে পেট্রোলের অকটেন সংখ্যা বাড়ে, যা ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতা বাড়ায়। তবে পুরনো গাড়ির ইঞ্জিনের জন্য এটি সমস্যা তৈরি করতে পারে। নতুন গাড়িগুলো ই-২০-এর জন্য তৈরি করা হলেও পুরনো গাড়িগুলোর ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে ই-২০ জ্বালানি ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা ও পরিবেশের জন্য ভালো। তবে গাড়িচালকদের স্বার্থও বিবেচনায় নিতে হবে। বিশুদ্ধ পেট্রোলের বিকল্প রাখা ভালো উদ্যোগ, কিন্তু দাম বেশি রাখা হলে তা সাধারণ মানুষের জন্য খুব একটা কার্যকর হবে না।
ই-২০ বনাম বিশুদ্ধ পেট্রোলের এই দ্বন্দ্ব আগামী দিনে আরও তীব্র হবে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। ভারতের জ্বালানি নীতি যে একটি বড় পরিবর্তনের মুখে দাঁড়িয়ে আছে, তা স্পষ্ট। কিন্তু এই পরিবর্তন জনগণের জন্য কতটা গ্রহণযোগ্য হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

আপনার মতামত লিখুন