নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার পাঁড়োরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ১১ বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থীকে গত কয়েকদিন ধরে তুচ্ছ অজুহাতে শারীরিক নির্যাতন করে আসছিলেন সহকারী শিক্ষক রবিউল ইসলাম। ভয়ে বিষয়টি কাউকে জানায়নি শিশুটি। গত ২০ জুলাই রাতে মা পায়ে তেল মালিশ করতে গিয়ে শরীরে আঘাতের কালচে চিহ্ন দেখতে পান। পরে কান্নায় ভেঙে পড়ে শিশুটি পুরো ঘটনা খুলে বলে। শিশুটির অভিযোগ, একটি অঙ্ক না পারলেই শিক্ষক তাকে একই স্থানে বারবার বেত দিয়ে আঘাত করতেন।
শিক্ষার্থীর বাবা মো. আবদুর রউফ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার মেয়েকে নির্মমভাবে মারা হয়েছে। আমি প্রধান শিক্ষকের কাছে বিচার চেয়েও গুরুত্ব পাইনি। পরে দাতা সদস্য ও স্থানীয় এক নেতা চিকিৎসার খরচ দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। আমি কোনো আপস চাই না, সুষ্ঠু বিচার চাই।’
অভিযুক্ত শিক্ষক রবিউল ইসলাম মারধরের বিষয়টি স্বীকার করলেও একে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা হয়ে গেছে। একটি পক্ষ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এটি উসকে দিচ্ছে।’ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুদর্শন কুমারও দাবি করেন যে ম্যানেজিং কমিটি বিষয়টি মীমাংসা করে দিয়েছে।
তবে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান ছনি অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালে হাইকোর্টের এক রায়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ওপর সব ধরনের শারীরিক ও মানসিক শাস্তি বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছে।
\

মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুলাই ২০২৬
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার পাঁড়োরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ১১ বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থীকে গত কয়েকদিন ধরে তুচ্ছ অজুহাতে শারীরিক নির্যাতন করে আসছিলেন সহকারী শিক্ষক রবিউল ইসলাম। ভয়ে বিষয়টি কাউকে জানায়নি শিশুটি। গত ২০ জুলাই রাতে মা পায়ে তেল মালিশ করতে গিয়ে শরীরে আঘাতের কালচে চিহ্ন দেখতে পান। পরে কান্নায় ভেঙে পড়ে শিশুটি পুরো ঘটনা খুলে বলে। শিশুটির অভিযোগ, একটি অঙ্ক না পারলেই শিক্ষক তাকে একই স্থানে বারবার বেত দিয়ে আঘাত করতেন।
শিক্ষার্থীর বাবা মো. আবদুর রউফ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার মেয়েকে নির্মমভাবে মারা হয়েছে। আমি প্রধান শিক্ষকের কাছে বিচার চেয়েও গুরুত্ব পাইনি। পরে দাতা সদস্য ও স্থানীয় এক নেতা চিকিৎসার খরচ দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। আমি কোনো আপস চাই না, সুষ্ঠু বিচার চাই।’
অভিযুক্ত শিক্ষক রবিউল ইসলাম মারধরের বিষয়টি স্বীকার করলেও একে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা হয়ে গেছে। একটি পক্ষ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এটি উসকে দিচ্ছে।’ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুদর্শন কুমারও দাবি করেন যে ম্যানেজিং কমিটি বিষয়টি মীমাংসা করে দিয়েছে।
তবে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান ছনি অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালে হাইকোর্টের এক রায়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ওপর সব ধরনের শারীরিক ও মানসিক শাস্তি বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছে।
\

আপনার মতামত লিখুন