সংবাদ

ডিম-সবজির দাম বাড়লেও কমেছে টমেটো-পেঁপের


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫২ পিএম

ডিম-সবজির দাম বাড়লেও কমেছে টমেটো-পেঁপের
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর বাজারে মাছ, মুরগি, ডিম ও সবজির দামে এখনও স্বস্তি ফেরেনি। সপ্তাহের ব্যবধানে ডিমের দাম ডজনে ১০ টাকা বেড়েছে। একইসঙ্গে কয়েকটি সবজির দামও বেড়েছে। এর মধ্যে কাঁচা মরিচ ও বরবটির দাম কেজিতে ৪০ টাকা করে বেড়েছে।

গোল বেগুনের দাম বেড়েছে ২০ টাকা এবং শসার দাম বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। তবে টমেটো ও পেঁপের দাম কমেছে। মাছ ও মাংসের দামে বড় কোনো পরিবর্তন নেই। সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।

গত সপ্তাহে প্রতি ডজন ডিম ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ ডজনপ্রতি ১০ টাকা বেড়েছে। খুচরা বাজারে প্রতিটি ডিমের দাম পড়ছে প্রায় ১৩ থেকে ১৪ টাকা। ডিম ব্যবসায়ী রাসেল বলেন, ‘ডিমের দাম কমেনি। বরং বেড়েছে। প্রতি ডজন ডিম ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’

গত সপ্তাহে প্রতিকেজি কাঁচা মরিচ ১২০ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ১৬০ টাকা, অর্থাৎ কেজিতে ৪০ টাকা বেড়েছে। বরবটির দাম গত সপ্তাহের ৮০ টাকা থেকে বেড়ে বর্তমানে ১২০ টাকা হয়েছে।

গোল বেগুন গত সপ্তাহে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে ১৪০ টাকা। তবে লম্বা বেগুন গত সপ্তাহের ১০০ টাকা কেজি দামেই বিক্রি হচ্ছে। শসার দামও বেড়েছে। গত সপ্তাহে শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে ৮০ টাকা।

অন্যদিকে টমেটোর দাম কমেছে। গত সপ্তাহে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি থাকলেও বর্তমানে তা ১০০ টাকা। পেঁপের দামও কেজিতে ১০ টাকা কমেছে। গত সপ্তাহে পেঁপে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ঝিঙে ও করলার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। পটোলের দামও গত সপ্তাহের সর্বনিম্ন দামের তুলনায় অপরিবর্তিত। ঝিঙা, ধুন্দুল ও চিচিঙ্গা গত সপ্তাহের মতো ৮০ টাকা করেই বিক্রি হচ্ছে।

নারিন্দা বাজারের সবজি বিক্রেতা হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘কয়েক দিনের বৃষ্টিতে ক্ষেত ও বাজার থেকে সবজি আসার পরিমাণ কমেছে। সরবরাহ কম থাকায় পাইকারি বাজারেই দাম বেড়েছে, যার প্রভাব খুচরা বাজারে পড়ছে।’ তিনি জানান, আবহাওয়া ভালো হলে সরবরাহ বাড়বে এবং তখন সবজির দামও কমতে পারে।

মাছের বাজারে দামের বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। বিক্রেতারা বলছেন, একদিন কোনো মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা কমছে, আবার পরদিনই তা বেড়ে যাচ্ছে। বর্তমানে পাঙাশ ২৩০ টাকা, তেলাপিয়া ২৬০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ৯০০, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪৫০, বড় রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ এবং ট্যাংরা ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের দামের বিষয়ে বিক্রেতা শফিকুল বলেন, ‘মাসিক বাজারের জন্য মাছ কিনেছি। মাছের দাম ২০-৩০ টাকা কেজিতে বেশি মনে হচ্ছে। মাছের বাজার কখনও স্থিতিশীল থাকে না।’

মাছের দাম বাড়ায় সবচেয়ে বেশি অসুবিধায় পড়েছেন নিম্নবিত্ত ও সীমিত আয়ের মানুষ। দিনমজুর হাশেম বলেন, ‘আমরা পাঙাশ ও তেলাপিয়া কিনতাম, এখন সেগুলোর দামও বেশি। দিন দিন দাম বাড়ছে, কমার কোনো নামগন্ধ নেই।’

গরুর মাংসের দাম প্রতিকেজি ৮০০ টাকা, যা আগের সপ্তাহের কাছাকাছি। ব্রয়লার মুরগিও গত সপ্তাহের মতো ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে সোনালি, হাইব্রিড ও লেয়ার মুরগির দাম কেজিতে প্রায় ১০ টাকা কমেছে।

রায়ের বাজারের মুরগি বিক্রেতা রকি আহমেদ বলেন, ‘গত সপ্তাহের তুলনায় এই সপ্তাহে মুরগির দাম কিছুটা কম ছিল। তারপরও ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা বিক্রি করছি।’

রায়সাহেব বাজারে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে কেনাকাটা করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী রানা হাসান বলেন, ‘সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বাজার করতে এসে দেখলাম, সবজির দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় বেশ চড়া। গত সপ্তাহে যেসব সবজি কিছুটা কম দামে পাওয়া গেছে, আজ সেগুলোর বেশির ভাগই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। এতে স্বাভাবিকভাবেই বাজারের খরচ বেড়ে যাচ্ছে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ডিম-সবজির দাম বাড়লেও কমেছে টমেটো-পেঁপের

প্রকাশের তারিখ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

রাজধানীর বাজারে মাছ, মুরগি, ডিম ও সবজির দামে এখনও স্বস্তি ফেরেনি। সপ্তাহের ব্যবধানে ডিমের দাম ডজনে ১০ টাকা বেড়েছে। একইসঙ্গে কয়েকটি সবজির দামও বেড়েছে। এর মধ্যে কাঁচা মরিচ ও বরবটির দাম কেজিতে ৪০ টাকা করে বেড়েছে।

গোল বেগুনের দাম বেড়েছে ২০ টাকা এবং শসার দাম বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। তবে টমেটো ও পেঁপের দাম কমেছে। মাছ ও মাংসের দামে বড় কোনো পরিবর্তন নেই। সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।

গত সপ্তাহে প্রতি ডজন ডিম ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ ডজনপ্রতি ১০ টাকা বেড়েছে। খুচরা বাজারে প্রতিটি ডিমের দাম পড়ছে প্রায় ১৩ থেকে ১৪ টাকা। ডিম ব্যবসায়ী রাসেল বলেন, ‘ডিমের দাম কমেনি। বরং বেড়েছে। প্রতি ডজন ডিম ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’

গত সপ্তাহে প্রতিকেজি কাঁচা মরিচ ১২০ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ১৬০ টাকা, অর্থাৎ কেজিতে ৪০ টাকা বেড়েছে। বরবটির দাম গত সপ্তাহের ৮০ টাকা থেকে বেড়ে বর্তমানে ১২০ টাকা হয়েছে।

গোল বেগুন গত সপ্তাহে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে ১৪০ টাকা। তবে লম্বা বেগুন গত সপ্তাহের ১০০ টাকা কেজি দামেই বিক্রি হচ্ছে। শসার দামও বেড়েছে। গত সপ্তাহে শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে ৮০ টাকা।

অন্যদিকে টমেটোর দাম কমেছে। গত সপ্তাহে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি থাকলেও বর্তমানে তা ১০০ টাকা। পেঁপের দামও কেজিতে ১০ টাকা কমেছে। গত সপ্তাহে পেঁপে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ঝিঙে ও করলার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। পটোলের দামও গত সপ্তাহের সর্বনিম্ন দামের তুলনায় অপরিবর্তিত। ঝিঙা, ধুন্দুল ও চিচিঙ্গা গত সপ্তাহের মতো ৮০ টাকা করেই বিক্রি হচ্ছে।

নারিন্দা বাজারের সবজি বিক্রেতা হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘কয়েক দিনের বৃষ্টিতে ক্ষেত ও বাজার থেকে সবজি আসার পরিমাণ কমেছে। সরবরাহ কম থাকায় পাইকারি বাজারেই দাম বেড়েছে, যার প্রভাব খুচরা বাজারে পড়ছে।’ তিনি জানান, আবহাওয়া ভালো হলে সরবরাহ বাড়বে এবং তখন সবজির দামও কমতে পারে।

মাছের বাজারে দামের বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। বিক্রেতারা বলছেন, একদিন কোনো মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা কমছে, আবার পরদিনই তা বেড়ে যাচ্ছে। বর্তমানে পাঙাশ ২৩০ টাকা, তেলাপিয়া ২৬০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ৯০০, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪৫০, বড় রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ এবং ট্যাংরা ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের দামের বিষয়ে বিক্রেতা শফিকুল বলেন, ‘মাসিক বাজারের জন্য মাছ কিনেছি। মাছের দাম ২০-৩০ টাকা কেজিতে বেশি মনে হচ্ছে। মাছের বাজার কখনও স্থিতিশীল থাকে না।’

মাছের দাম বাড়ায় সবচেয়ে বেশি অসুবিধায় পড়েছেন নিম্নবিত্ত ও সীমিত আয়ের মানুষ। দিনমজুর হাশেম বলেন, ‘আমরা পাঙাশ ও তেলাপিয়া কিনতাম, এখন সেগুলোর দামও বেশি। দিন দিন দাম বাড়ছে, কমার কোনো নামগন্ধ নেই।’

গরুর মাংসের দাম প্রতিকেজি ৮০০ টাকা, যা আগের সপ্তাহের কাছাকাছি। ব্রয়লার মুরগিও গত সপ্তাহের মতো ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে সোনালি, হাইব্রিড ও লেয়ার মুরগির দাম কেজিতে প্রায় ১০ টাকা কমেছে।

রায়ের বাজারের মুরগি বিক্রেতা রকি আহমেদ বলেন, ‘গত সপ্তাহের তুলনায় এই সপ্তাহে মুরগির দাম কিছুটা কম ছিল। তারপরও ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা বিক্রি করছি।’

রায়সাহেব বাজারে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে কেনাকাটা করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী রানা হাসান বলেন, ‘সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বাজার করতে এসে দেখলাম, সবজির দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় বেশ চড়া। গত সপ্তাহে যেসব সবজি কিছুটা কম দামে পাওয়া গেছে, আজ সেগুলোর বেশির ভাগই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। এতে স্বাভাবিকভাবেই বাজারের খরচ বেড়ে যাচ্ছে।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত