রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া মহল্লায় চাঞ্চল্যকর স্কুল শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ ৪ হত্যার ঘটনাস্থল বাসার ভেতরে ও ছাদে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। তাদের ফোন নম্বর পুলিশ কমিশনার ব্লক করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন আইনজীবী ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অনুপ সাহাসহ ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকা থেকে আইনজীবী ঐক্য পরিষদের সভাপতি-সম্পাদকসহ ১৬ জন আইনজীবী নেতৃবৃন্দ পুলিশের বাধার মুখে নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বাসভবনের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ অভিযোগ করেন।
আইনজীবী ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অনুপ সাহা অভিযোগ করেন, আমরা ঢাকা থেকে ১৬ জন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এসেছিলাম ঘটনাস্থল দেখতে। আমরা রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারকে আসার আগেই লিখিতভাবে অবহিত করেছিলাম। কিন্তু আমরা বাসায় প্রবেশ করার সময় সেখানে অবস্থান করা পুলিশ কর্মকর্তারা জানালেন, ভেতরে যাওয়া যাবে না। এরপর আমি নিজেই পুলিশ কমিশনারকে ফোন করি। দুটি নম্বরেই ফোন করলে ব্লকড দেখায়। তার মানে দাঁড়ায়, আমার ফোন পুলিশ কমিশনার ব্লক করে দিয়েছেন।
অনুপ সাহা বলেন, পুলিশ কমিশনার জনগণের রক্ষক ও প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আমাদের ৪ আইনজীবীকে বাসার ভেতরে বেডরুম ও ছাদ পরিদর্শন করতে দিলে কোনো ক্ষতি হতো না। যেহেতু রংপুরের ৪ খুনের ঘটনায় আমরা হাইকোর্টের বিচারপতির মাধ্যমে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের কথা আদালতে রিট আবেদন করেছিলাম, সেহেতু আদালতকে পুরো বিষয় অবহিত করতে পারতাম। তিনি পুলিশ কমিশনারের আচরণে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এ ঘটনার মাধ্যমে আমরা মামলাটির সুষ্ঠু তদন্ত হবে বলে বিশ্বাস করি না।
তিনি বলেন, স্কুল শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ ৪ জনকে খুনের ঘটনা নিয়ে পুলিশ একেকবার একেক কথা বলেছে। কখনো বলেছে ভোরে, কখনো বলেছে রাতে, কখনো বলেছে সকালে ঘটেছে। তবে আমরা গণমাধ্যমের বিভিন্ন খবর দেখে বুঝতে পেরেছি, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং বাসার ছাদে ৪ জনকে বাসার ভেতরেই হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ এ ঘটনাকে নিয়ে জজ মিয়া নাটক সাজানোর চেষ্টা করছে। সেই সঙ্গে ময়নাতদন্ত করার সময় গণপতির স্ত্রী ও কন্যাকে ধর্ষণের যে কথা ডোম বলেছে, সেটাও পুলিশ গোপন করতে চাইছে।
আইনজীবী নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, আমরা আশাবাদী হতে চাই। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যারা জড়িত, সকলকে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
আইনজীবী নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা যারা এসেছি, আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নই। আমরা আইনজীবী ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করতে এসেছিলাম। তারা বলেন, ঘটনাস্থলটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। এখানে ৪ জন খুন হওয়ার ঘটনা আমাদের বিস্মিত করেছে। এখানকার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন ভয়ে মুখ খুলছেন না, এটাও বিবেচনায় নেওয়া উচিত বলে জানান তারা।
মতবিনিময়কালে ঢাকা থেকে আসা ১৬ আইনজীবী ছাড়াও রংপুর আইনজীবী সমিতির সভাপতি শাহেদ ইবনে কামালসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী, রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ এবং হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আইনজীবী ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ আসামি সিদ্ধার্থের বাসায় যান। সেখানে তার বাবা বিনয় দাসসহ পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন।

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া মহল্লায় চাঞ্চল্যকর স্কুল শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ ৪ হত্যার ঘটনাস্থল বাসার ভেতরে ও ছাদে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। তাদের ফোন নম্বর পুলিশ কমিশনার ব্লক করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন আইনজীবী ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অনুপ সাহাসহ ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকা থেকে আইনজীবী ঐক্য পরিষদের সভাপতি-সম্পাদকসহ ১৬ জন আইনজীবী নেতৃবৃন্দ পুলিশের বাধার মুখে নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বাসভবনের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ অভিযোগ করেন।
আইনজীবী ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অনুপ সাহা অভিযোগ করেন, আমরা ঢাকা থেকে ১৬ জন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এসেছিলাম ঘটনাস্থল দেখতে। আমরা রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারকে আসার আগেই লিখিতভাবে অবহিত করেছিলাম। কিন্তু আমরা বাসায় প্রবেশ করার সময় সেখানে অবস্থান করা পুলিশ কর্মকর্তারা জানালেন, ভেতরে যাওয়া যাবে না। এরপর আমি নিজেই পুলিশ কমিশনারকে ফোন করি। দুটি নম্বরেই ফোন করলে ব্লকড দেখায়। তার মানে দাঁড়ায়, আমার ফোন পুলিশ কমিশনার ব্লক করে দিয়েছেন।
অনুপ সাহা বলেন, পুলিশ কমিশনার জনগণের রক্ষক ও প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আমাদের ৪ আইনজীবীকে বাসার ভেতরে বেডরুম ও ছাদ পরিদর্শন করতে দিলে কোনো ক্ষতি হতো না। যেহেতু রংপুরের ৪ খুনের ঘটনায় আমরা হাইকোর্টের বিচারপতির মাধ্যমে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের কথা আদালতে রিট আবেদন করেছিলাম, সেহেতু আদালতকে পুরো বিষয় অবহিত করতে পারতাম। তিনি পুলিশ কমিশনারের আচরণে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এ ঘটনার মাধ্যমে আমরা মামলাটির সুষ্ঠু তদন্ত হবে বলে বিশ্বাস করি না।
তিনি বলেন, স্কুল শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ ৪ জনকে খুনের ঘটনা নিয়ে পুলিশ একেকবার একেক কথা বলেছে। কখনো বলেছে ভোরে, কখনো বলেছে রাতে, কখনো বলেছে সকালে ঘটেছে। তবে আমরা গণমাধ্যমের বিভিন্ন খবর দেখে বুঝতে পেরেছি, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং বাসার ছাদে ৪ জনকে বাসার ভেতরেই হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ এ ঘটনাকে নিয়ে জজ মিয়া নাটক সাজানোর চেষ্টা করছে। সেই সঙ্গে ময়নাতদন্ত করার সময় গণপতির স্ত্রী ও কন্যাকে ধর্ষণের যে কথা ডোম বলেছে, সেটাও পুলিশ গোপন করতে চাইছে।
আইনজীবী নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, আমরা আশাবাদী হতে চাই। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যারা জড়িত, সকলকে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
আইনজীবী নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা যারা এসেছি, আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নই। আমরা আইনজীবী ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করতে এসেছিলাম। তারা বলেন, ঘটনাস্থলটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। এখানে ৪ জন খুন হওয়ার ঘটনা আমাদের বিস্মিত করেছে। এখানকার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন ভয়ে মুখ খুলছেন না, এটাও বিবেচনায় নেওয়া উচিত বলে জানান তারা।
মতবিনিময়কালে ঢাকা থেকে আসা ১৬ আইনজীবী ছাড়াও রংপুর আইনজীবী সমিতির সভাপতি শাহেদ ইবনে কামালসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী, রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ এবং হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আইনজীবী ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ আসামি সিদ্ধার্থের বাসায় যান। সেখানে তার বাবা বিনয় দাসসহ পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন।

আপনার মতামত লিখুন