সংবাদ

মুগদা হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ‘সারপ্রাইজ ভিজিট’


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৮ পিএম

মুগদা হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ‘সারপ্রাইজ ভিজিট’

রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় রক্তসহ নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও রোগীদের বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে পরীক্ষা করানোর গুরুতর অভিযোগের সত্যতা সরাসরি উপস্থিত হয়ে পেয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

আজ শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এই অনিয়মের প্রমাণ পান।
পরিদর্শনকালে তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন, চিকিৎসাধীন রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন এবং চিকিৎসার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও টেস্টের রিপোর্ট পর্যবেক্ষণ করেন।
​হাসপাতাল চত্বরে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে সংশ্লিষ্ট ডায়াগনস্টিক প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র দেখিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যে অভিযোগ শুনে এখানে এসেছি সেটা শতভাগ সত্যি। ডেঙ্গু শনাক্তে সরকারি হাসপাতালে পরীক্ষার সুবিধা থাকা সত্ত্বেও বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টার (জমজম, সততা ও সান) থেকে লোক এসে রোগীদের রক্ত সংগ্রহ করে নিয়ে যাওয়ার প্রমাণ পেয়েছি। এখানে সুবিধা আছে। বাইরে থেকে লোক এসে এখান থেকে ব্লাড নিয়ে যায়, এরা কি অন্ধ? ডাক্তার আছে, চোখে দেখবে না?
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকারের পক্ষ থেকে রোগীদের জন্য বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার সব ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এরপরেও যদি বাইরের লোক এসে রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে যায়, তবে এর পেছনে যারা জড়িত তাদের কঠোরভাবে খতিয়ে দেখা হবে।
​পরিদর্শনকালে সাধারণ রোগী ও তাদের স্বজনরা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে হাসপাতালে আসা-যাওয়ার নানাবিধ ভোগান্তির চিত্র তুলে ধরেন। বিশেষ করে হাসপাতালের লিফট নিয়মিত চালু না থাকা এবং পরীক্ষার জন্য রোগী ও স্বজনদের বারবার এক তলা থেকে অন্য তলায় ছোটাছুটি করার বিষয়ে তারা অভিযোগ করেন।
এ সময় এক রোগীর স্বজন আক্ষেপ করে বলেন, "লিফট নিয়মিত চালু থাকলে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের জন্য অনেক সুবিধা হতো। বর্তমানে পরীক্ষার জন্য রোগী ও স্বজনদের এক তলা থেকে আরেক তলায় যেতে হচ্ছে।"
​অভিযোগ শোনার পাশাপাশি স্বাস্থ্যমন্ত্রী সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। রোগীদের নিয়মিত চিকিৎসা কীভাবে চলছে, চিকিৎসায় কোন কোন পরীক্ষা করানো হয়েছে এবং সেসবের রিপোর্ট কোথা থেকে আনা হয়েছে; এসব বিষয়ে তিনি বিস্তারিত খোঁজখবর নেন।
​চলমান ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী জানান, ডেঙ্গু রোগীর সম্ভাব্য চাপ সামাল দিতে সব সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রাখা হয়েছে এবং আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লে চিকিৎসা সক্ষমতা আরও সম্প্রসারিত করা হবে। সেই সঙ্গে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সারা দেশে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক অভিযান জোরদার করার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, স্বাস্থ্য খাতের সার্বিক অনিয়ম দূর করতে এ ধরনের সরেজমিন পরিদর্শন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


মুগদা হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ‘সারপ্রাইজ ভিজিট’

প্রকাশের তারিখ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় রক্তসহ নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও রোগীদের বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে পরীক্ষা করানোর গুরুতর অভিযোগের সত্যতা সরাসরি উপস্থিত হয়ে পেয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

আজ শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এই অনিয়মের প্রমাণ পান।
পরিদর্শনকালে তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন, চিকিৎসাধীন রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন এবং চিকিৎসার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও টেস্টের রিপোর্ট পর্যবেক্ষণ করেন।
​হাসপাতাল চত্বরে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে সংশ্লিষ্ট ডায়াগনস্টিক প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র দেখিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যে অভিযোগ শুনে এখানে এসেছি সেটা শতভাগ সত্যি। ডেঙ্গু শনাক্তে সরকারি হাসপাতালে পরীক্ষার সুবিধা থাকা সত্ত্বেও বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টার (জমজম, সততা ও সান) থেকে লোক এসে রোগীদের রক্ত সংগ্রহ করে নিয়ে যাওয়ার প্রমাণ পেয়েছি। এখানে সুবিধা আছে। বাইরে থেকে লোক এসে এখান থেকে ব্লাড নিয়ে যায়, এরা কি অন্ধ? ডাক্তার আছে, চোখে দেখবে না?
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকারের পক্ষ থেকে রোগীদের জন্য বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার সব ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এরপরেও যদি বাইরের লোক এসে রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে যায়, তবে এর পেছনে যারা জড়িত তাদের কঠোরভাবে খতিয়ে দেখা হবে।
​পরিদর্শনকালে সাধারণ রোগী ও তাদের স্বজনরা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে হাসপাতালে আসা-যাওয়ার নানাবিধ ভোগান্তির চিত্র তুলে ধরেন। বিশেষ করে হাসপাতালের লিফট নিয়মিত চালু না থাকা এবং পরীক্ষার জন্য রোগী ও স্বজনদের বারবার এক তলা থেকে অন্য তলায় ছোটাছুটি করার বিষয়ে তারা অভিযোগ করেন।
এ সময় এক রোগীর স্বজন আক্ষেপ করে বলেন, "লিফট নিয়মিত চালু থাকলে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের জন্য অনেক সুবিধা হতো। বর্তমানে পরীক্ষার জন্য রোগী ও স্বজনদের এক তলা থেকে আরেক তলায় যেতে হচ্ছে।"
​অভিযোগ শোনার পাশাপাশি স্বাস্থ্যমন্ত্রী সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। রোগীদের নিয়মিত চিকিৎসা কীভাবে চলছে, চিকিৎসায় কোন কোন পরীক্ষা করানো হয়েছে এবং সেসবের রিপোর্ট কোথা থেকে আনা হয়েছে; এসব বিষয়ে তিনি বিস্তারিত খোঁজখবর নেন।
​চলমান ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী জানান, ডেঙ্গু রোগীর সম্ভাব্য চাপ সামাল দিতে সব সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রাখা হয়েছে এবং আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লে চিকিৎসা সক্ষমতা আরও সম্প্রসারিত করা হবে। সেই সঙ্গে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সারা দেশে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক অভিযান জোরদার করার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, স্বাস্থ্য খাতের সার্বিক অনিয়ম দূর করতে এ ধরনের সরেজমিন পরিদর্শন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত