রাজধানী ঢাকার সড়কে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আনতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। সড়কের শৃঙ্খলা ফেরাতে ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পর্যায়ক্রমে এক হাজার ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৩০০ ফিট এলাকায় এসব ক্যামেরা স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার
রাজধানীর মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডে ট্রাফিক ডাইভারশন পরিদর্শনে গিয়ে এই তথ্য
জানান ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আনিছুর রহমান।
ক্যামেরার
কর্মপদ্ধতি ও বাজেটের বিষয়ে
আনিছুর রহমান বলেন, "এই পরিবর্তনের ফলে
এখানকার মানুষের ভোগান্তি কিছুটা কমবে বলে আমরা
আশা করছি। রাস্তার সক্ষমতা তুলনামূলক কম হলেও যানবাহনের
চাপ অনেক বেশি। তাই
রাস্তার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে মানুষের দুর্ভোগ
কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে।"
নতুন
প্রযুক্তি বেছে নেওয়ার কারণ
জানিয়ে তিনি বলেন, "ঢাকার
বিভিন্ন পয়েন্টে এ ধরনের নতুন
ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এআই ক্যামেরা তুলনামূলক
ব্যয়বহুল হওয়ায় বাজেটের সীমাবদ্ধতার মধ্যে দ্রুত বেশি জায়গা কভার
করতে এই পদ্ধতি বেছে
নেওয়া হয়েছে।"
তিনি
আরও যুক্ত করেন, "এসব ক্যামেরায় থাকা
মেমোরি কার্ডে সরাসরি ভিডিও রেকর্ড হবে। পরে সেই
ভিডিও পর্যালোচনা করে আইন অমান্যকারীদের
বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী,
ঢাকা শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ধাপে ধাপে প্রায়
এক হাজার এ ধরনের ক্যামেরা
স্থাপন করা হবে।"
বর্তমানে
১৬টি পয়েন্টে ৩৭টি এআই ক্যামেরা
কার্যকর রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ঢাকা
উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতায়
আরও ৫০টি সেমি-অটোমেটিক
সিগন্যাল চালুর প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে
সড়কে শব্দদূষণ ও অবৈধ হর্নের
বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন,
"এ ক্ষতি অর্থ দিয়ে পূরণ
করা সম্ভব নয়। তাই সবাইকে
মিলে শহরকে বাসযোগ্য রাখতে হবে। শৃঙ্খলা না
ফিরলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য শহর
রেখে যাওয়া সম্ভব হবে না। এ
কারণে অবৈধ হুটার, হাইড্রোলিক
হর্ন ও অবৈধ লাইট
ব্যবহারের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। তবে নিয়ম ভাঙার
প্রবণতা এখনো অনেক বেশি।
এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সবার
সচেতনতা ও সহযোগিতা প্রয়োজন।"
নগরীর
যানজট নিরসনে এদিন বেলা সাড়ে
১১টায় মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডের একটি আইল্যান্ড অপসারণ
করে তিনটি সিগন্যালের জায়গায় দুটি করা হয়।
এ বিষয়ে ট্রাফিক তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার
(ডিসি) মো. রফিকুল ইসলাম
বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড
এলাকায় তীব্র যানজটের কারণে মানুষের চরম ভোগান্তি হচ্ছিল।
এ ভোগান্তি কমাতে কিছু পরিবর্তন আনা
হয়েছে। রাস্তার মাঝখানের আইল্যান্ড অপসারণের পাশাপাশি একটি সিগন্যাল কমিয়ে
দেওয়া হয়েছে। ফলে ধানমন্ডির পশ্চিম
দিক থেকে আসা যানবাহন
আর এখানে ডান দিকে মোড়
নিতে পারবে না। তারা সরাসরি
গিয়ে ময়ূর ভিলার সামনে
ইউ-টার্ন নিয়ে আসাদ গেট
এলাকায় প্রবেশ করবে।" এতে গাড়িগুলোকে দীর্ঘ
সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না বলে
জানান তিনি।

মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুলাই ২০২৬
রাজধানী ঢাকার সড়কে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আনতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। সড়কের শৃঙ্খলা ফেরাতে ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পর্যায়ক্রমে এক হাজার ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৩০০ ফিট এলাকায় এসব ক্যামেরা স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার
রাজধানীর মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডে ট্রাফিক ডাইভারশন পরিদর্শনে গিয়ে এই তথ্য
জানান ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আনিছুর রহমান।
ক্যামেরার
কর্মপদ্ধতি ও বাজেটের বিষয়ে
আনিছুর রহমান বলেন, "এই পরিবর্তনের ফলে
এখানকার মানুষের ভোগান্তি কিছুটা কমবে বলে আমরা
আশা করছি। রাস্তার সক্ষমতা তুলনামূলক কম হলেও যানবাহনের
চাপ অনেক বেশি। তাই
রাস্তার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে মানুষের দুর্ভোগ
কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে।"
নতুন
প্রযুক্তি বেছে নেওয়ার কারণ
জানিয়ে তিনি বলেন, "ঢাকার
বিভিন্ন পয়েন্টে এ ধরনের নতুন
ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এআই ক্যামেরা তুলনামূলক
ব্যয়বহুল হওয়ায় বাজেটের সীমাবদ্ধতার মধ্যে দ্রুত বেশি জায়গা কভার
করতে এই পদ্ধতি বেছে
নেওয়া হয়েছে।"
তিনি
আরও যুক্ত করেন, "এসব ক্যামেরায় থাকা
মেমোরি কার্ডে সরাসরি ভিডিও রেকর্ড হবে। পরে সেই
ভিডিও পর্যালোচনা করে আইন অমান্যকারীদের
বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী,
ঢাকা শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ধাপে ধাপে প্রায়
এক হাজার এ ধরনের ক্যামেরা
স্থাপন করা হবে।"
বর্তমানে
১৬টি পয়েন্টে ৩৭টি এআই ক্যামেরা
কার্যকর রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ঢাকা
উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতায়
আরও ৫০টি সেমি-অটোমেটিক
সিগন্যাল চালুর প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে
সড়কে শব্দদূষণ ও অবৈধ হর্নের
বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন,
"এ ক্ষতি অর্থ দিয়ে পূরণ
করা সম্ভব নয়। তাই সবাইকে
মিলে শহরকে বাসযোগ্য রাখতে হবে। শৃঙ্খলা না
ফিরলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য শহর
রেখে যাওয়া সম্ভব হবে না। এ
কারণে অবৈধ হুটার, হাইড্রোলিক
হর্ন ও অবৈধ লাইট
ব্যবহারের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। তবে নিয়ম ভাঙার
প্রবণতা এখনো অনেক বেশি।
এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সবার
সচেতনতা ও সহযোগিতা প্রয়োজন।"
নগরীর
যানজট নিরসনে এদিন বেলা সাড়ে
১১টায় মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডের একটি আইল্যান্ড অপসারণ
করে তিনটি সিগন্যালের জায়গায় দুটি করা হয়।
এ বিষয়ে ট্রাফিক তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার
(ডিসি) মো. রফিকুল ইসলাম
বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড
এলাকায় তীব্র যানজটের কারণে মানুষের চরম ভোগান্তি হচ্ছিল।
এ ভোগান্তি কমাতে কিছু পরিবর্তন আনা
হয়েছে। রাস্তার মাঝখানের আইল্যান্ড অপসারণের পাশাপাশি একটি সিগন্যাল কমিয়ে
দেওয়া হয়েছে। ফলে ধানমন্ডির পশ্চিম
দিক থেকে আসা যানবাহন
আর এখানে ডান দিকে মোড়
নিতে পারবে না। তারা সরাসরি
গিয়ে ময়ূর ভিলার সামনে
ইউ-টার্ন নিয়ে আসাদ গেট
এলাকায় প্রবেশ করবে।" এতে গাড়িগুলোকে দীর্ঘ
সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না বলে
জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন