সংবাদ

ঘিওরের হাটে এবার নৌকার দাম যেমন...


প্রতিনিধি, ঘিওর (মানিকগঞ্জ)
প্রতিনিধি, ঘিওর (মানিকগঞ্জ)
প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬, ০২:৩৩ পিএম

ঘিওরের হাটে এবার নৌকার দাম যেমন...
ডিঙ্গি ও কোষা নৌকার পসরা সাজিয়ে বসেছেন কারিগররা, বিক্রি হচ্ছে দেদারসে। ছবি : সংবাদ

মানিকগঞ্জের ঘিওরে ধলেশ্বরী, কালীগঙ্গা ও ইছামতীসহ বিভিন্ন নদ-নদীতে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জমে উঠেছে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকার হাট। উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের নিম্ন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় যাতায়াতের জন্য মানুষ ছুটছেন নৌকার হাটে। ডিঙ্গি ও কোষা নৌকার এই হাটে বর্তমানে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঘিওর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ঈদগাহ মাঠ ও ডি এন হাইস্কুল মাঠের এক পাশে প্রতি বুধবার বসছে এই নৌকার হাট। কারিগররা জ্যৈষ্ঠ মাস থেকেই নৌকা তৈরির কাজ শুরু করেন, যা চলে ভাদ্র মাস পর্যন্ত। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব নৌকা জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী এলাকাতেও সরবরাহ করা হচ্ছে।

নৌকা তৈরির কারিগর নিরঞ্জন সূত্রধর বলেন, বর্তমানে কড়ই, জাম্বল, আম ও কদম কাঠের নৌকার চাহিদা বেশি। তবে লোহা ও কাঠের দাম বেড়ে যাওয়ায় তৈরির খরচ অনেক বেড়েছে। প্রকারভেদে একেকটি ডিঙ্গি নৌকা ৪ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকার বড় হলে দাম ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ওঠে। তবে লাভের অংশ আগের চেয়ে কমে গেছে বলে জানান তিনি।


আরেক বিক্রেতা রতন বসাক আক্ষেপ করে বলেন, আধুনিকতার ছোঁয়ায় এই পেশার মানুষ অন্য কাজে চলে যাচ্ছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া এই আদি শিল্প টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে। অনেক কারিগর কেবল বাপ-দাদার পেশা বলে এখনো এটি ধরে রেখেছেন।

ঘিওর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাশিতা-তুল ইসলাম বলেন, শত বছরের ঐতিহ্যবাহী ঘিওর হাট নৌকার জন্য বিখ্যাত। প্রতিবছর বর্ষা ও বন্যার মৌসুমে এখানে হাজারো নৌকা বিক্রি হয়। এই প্রাচীন ঐতিহ্য আমাদের নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। হাটে শুধু নৌকা নয়, বাঁশ ও বেতের তৈরি নানা সামগ্রীও পাওয়া যায়।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬


ঘিওরের হাটে এবার নৌকার দাম যেমন...

প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

মানিকগঞ্জের ঘিওরে ধলেশ্বরী, কালীগঙ্গা ও ইছামতীসহ বিভিন্ন নদ-নদীতে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জমে উঠেছে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকার হাট। উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের নিম্ন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় যাতায়াতের জন্য মানুষ ছুটছেন নৌকার হাটে। ডিঙ্গি ও কোষা নৌকার এই হাটে বর্তমানে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঘিওর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ঈদগাহ মাঠ ও ডি এন হাইস্কুল মাঠের এক পাশে প্রতি বুধবার বসছে এই নৌকার হাট। কারিগররা জ্যৈষ্ঠ মাস থেকেই নৌকা তৈরির কাজ শুরু করেন, যা চলে ভাদ্র মাস পর্যন্ত। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব নৌকা জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী এলাকাতেও সরবরাহ করা হচ্ছে।

নৌকা তৈরির কারিগর নিরঞ্জন সূত্রধর বলেন, বর্তমানে কড়ই, জাম্বল, আম ও কদম কাঠের নৌকার চাহিদা বেশি। তবে লোহা ও কাঠের দাম বেড়ে যাওয়ায় তৈরির খরচ অনেক বেড়েছে। প্রকারভেদে একেকটি ডিঙ্গি নৌকা ৪ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকার বড় হলে দাম ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ওঠে। তবে লাভের অংশ আগের চেয়ে কমে গেছে বলে জানান তিনি।


আরেক বিক্রেতা রতন বসাক আক্ষেপ করে বলেন, আধুনিকতার ছোঁয়ায় এই পেশার মানুষ অন্য কাজে চলে যাচ্ছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া এই আদি শিল্প টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে। অনেক কারিগর কেবল বাপ-দাদার পেশা বলে এখনো এটি ধরে রেখেছেন।

ঘিওর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাশিতা-তুল ইসলাম বলেন, শত বছরের ঐতিহ্যবাহী ঘিওর হাট নৌকার জন্য বিখ্যাত। প্রতিবছর বর্ষা ও বন্যার মৌসুমে এখানে হাজারো নৌকা বিক্রি হয়। এই প্রাচীন ঐতিহ্য আমাদের নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। হাটে শুধু নৌকা নয়, বাঁশ ও বেতের তৈরি নানা সামগ্রীও পাওয়া যায়।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত