গাইবান্ধায় ১০০ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে নির্মাণাধীন ৯টি সেতুর কাজ প্রায় আড়াই বছর ধরে আটকে আছে। এর মধ্যে ৪টি সেতুর কাজ এখনো শুরুই হয়নি, আর ৫টি সেতুর কাজ মাঝপথে বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘসূত্রতার কারণে জনভোগান্তি বাড়ার পাশাপাশি প্রকল্পের ব্যয়ও বহুগুণ বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
গাইবান্ধা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ‘রংপুর জোনের জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ সেতু প্রতিস্থাপন’ প্রকল্পের আওতায় জেলায় তিনটি প্যাকেজে ১১টি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এগুলোর মোট দৈর্ঘ্য ৬৮০ দশমিক ৭৩ মিটার এবং প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ১১৬ কোটি ১০ লাখ ৭৮ হাজার টাকা।
প্যাকেজগুলোর তথ্যে দেখা যায়, ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মঈন উদ্দিন বাসি লিমিটেড’-এর অধীনে প্রথম প্যাকেজে দুটি সেতু রয়েছে। এর মধ্যে পলাশবাড়ী-ঘোড়াঘাট সড়কের করতোয়াপাড়া সেতুটি চালু হলেও সাদুল্লাপুর-নলডাঙ্গা সড়কের জামুডাঙ্গা সেতুর অবকাঠামো শেষ হলেও সংযোগ সড়ক নির্মিত হয়নি।
দ্বিতীয় প্যাকেজে ঢাকার ‘মেসার্স মাসুদ হাইটেক’-এর অধীনে ছয়টি সেতুর কাজ চলছে। এর মধ্যে জেলা শহরের নিউ ব্রিজ রোড ও গোবিন্দগঞ্জের শাকদহ সেতুর অবকাঠামো শেষ হলেও সংযোগ সড়ক হয়নি। মাঠেরহাটে কেবল পাইলিং করে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া বাজারপাড়া, হলহলিয়া ও কদমতলী—এই তিনটি সেতুর কাজ এখনো শুরুই করা যায়নি।
তৃতীয় প্যাকেজে ‘হাসান টেকনো বিল্ডার্স লিমিটেড’ ও ‘আমিনুল হক’-এর যৌথ উদ্যোগে তিনটি সেতু রয়েছে। এর মধ্যে শহরের পুলবন্দি সেতুর অবকাঠামো শেষে সংযোগ সড়ক ছাড়াই ফেলে রাখা হয়েছে। সাঘাটার বাজিতনগরে সম্প্রতি কাজ শুরু হলেও কালিতলা এলাকায় সেতুর কাজ এখনো শুরু হয়নি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শাকদহ, পুলবন্দি ও নিউ ব্রিজ এলাকায় সেতুর মূল কাঠামো তৈরি হলেও ওঠার রাস্তা না থাকায় সেগুলো ব্যবহার করা যাচ্ছে না। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় লোহার রডে মরিচা ধরেছে এবং সেতুর চারপাশ ঝোপঝাড়ে ঢেকে গেছে। গোবিন্দগঞ্জের শাকদহ এলাকার শিক্ষক এমদাদুল হক জানান, কাজ বন্ধ থাকায় জরাজীর্ণ পুরোনো সেতু দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। রাতের আঁধারে নতুন সেতুর রড চুরির ঘটনাও ঘটছে।
গাইবান্ধা সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী পিয়াস কুমার সেন বলেন, মূলত ভূমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত জটিলতার কারণে চারটি সেতুর কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। ২০২৫ সালের ৩ জুন ভূমি অধিগ্রহণের ৭ ধারা নোটিশ জারি হয়েছে। প্রাক্কলন প্রস্তুত শেষে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হলে বাকি কাজ দ্রুত শুরু হবে। এ ছাড়া অসমাপ্ত সেতুগুলোর মেয়াদ বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কাউকে পাওয়া যায়নি।
আপনার মতামত লিখুন