রংপুরের মিঠাপুকুরে তুচ্ছ ঘটনা ও জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক সাবেক ইউপি সদস্যের বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা যুবদলের এক নেতার নেতৃত্বে এই হামলায় মা ও ৩ ছেলেসহ ৪ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার ৪ দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এখনো মামলা নথিভুক্ত করেনি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
গত শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে মিঠাপুকুর উপজেলার একটি এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে ২ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, পৈতৃক সূত্রে পাওয়া একটি জমি নিয়ে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সৈকত ইসলাম ওরফে পাখির সঙ্গে বিরোধ চলছিল সাবেক ইউপি সদস্য মৃত জয়নাল আবেদীনের পরিবারের। শনিবার দুপুরে সৈকত ইসলামের নেতৃত্বে একদল অস্ত্রধারী ওই বাড়িতে হামলা চালায়। হামলায় জয়নাল আবেদীনের স্ত্রী হেলেনা বেগম (৫০) এবং তার ৩ ছেলে হাবিবুল্লাহ মানিক, আনাছ শেখ ও হাসান আলী আহত হন। আহত আনাছ শেখের মাথায় ১৫টি সেলাই দিতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। বর্তমানে তাকে বাড়িতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ঘটনার দিনই থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও পুলিশ রহস্যজনক কারণে মামলা নিচ্ছে না। তাদের দাবি, অভিযুক্ত পক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় পুলিশকে প্রভাবিত করেছে। এমনকি জুলাই মাসে মামলার সংখ্যা বেশি হওয়ার অজুহাতে পুলিশ আগামী মাসে মামলা করার পরামর্শ দিয়েছে বলেও ভুক্তভোগীরা জানান।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এরশাদ বলেন, ‘অভিযোগটি পেয়েছি এবং একজন উপপরিদর্শককে (এসআই) তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
অভিযুক্ত যুবদল নেতা সৈকত ইসলাম হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম, কিন্তু কারও ওপর হামলা করিনি।’
এদিকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক গোলাম রব্বানী বলেন, ‘দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ অপরাধ করলে তার দায় বিএনপি নেবে না। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।’
/
/
আপনার মতামত লিখুন