সংবাদ

ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক প্রকল্প : ৬ বছরে কাজ মাত্র ২ শতাংশ


এম বুরহান উদ্দীন, ঝিনাইদহ
এম বুরহান উদ্দীন, ঝিনাইদহ
প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৮ এএম

ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক প্রকল্প : ৬ বছরে কাজ মাত্র ২ শতাংশ
জমি অধিগ্রহণ হলেও ঠিকাদারদের গাফিলতিতে থমকে আছে ৬ লেনের কাজ। ছবি : সংবাদ

ভূমি অধিগ্রহণে জটিলতা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চরম গাফিলতিতে ঝুলে আছে ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক (এন-৭) ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের কাজ। ছয় বছর পার হলেও প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি মাত্র দুই শতাংশ। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অর্ধেক জমি বুঝিয়ে দেওয়া হলেও ঠিকাদারদের গড়িমসিতে কাজ এগোচ্ছে না। ফলে মহাসড়কজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ, যা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রকল্পের এই হতাশাজনক পরিস্থিতিতে অর্থায়নকারী সংস্থা বিশ্বব্যাংকও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজের অগ্রগতি না হওয়ায় সংস্থাটি নতুন করে অর্থায়নে আগ্রহ হারাচ্ছে বলে জানা গেছে। ফলে জনগুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা ইতিমধ্যে কালীগঞ্জ এলাকার ৪৫ শতাংশ এবং সদর এলাকার প্রায় ৫০ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন করে বিশ্বব্যাংকের ‘উইকেয়ার’ কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দিয়েছে। আগে ভূমি অধিগ্রহণে ধীরগতির অজুহাত দেওয়া হলেও এখন মূল দায়ভার গিয়ে পড়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আব্দুল মোনায়েম লিমিটেড ও ম্যাক্স ফার্মের ওপর।

অভিযোগ উঠেছে, প্রশাসনিক সব সহযোগিতা পাওয়ার পরও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দুটি কাজ শুরু করতে নানা টালবাহানা করছে। যদিও প্রকল্পের শুরুতে সরকারের ছয়টি দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে জরিপ ও পরিদর্শন রিপোর্ট তৈরিতে দীর্ঘ সময় ব্যয় হয়েছিল। বর্তমানে জেলা প্রশাসন জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণের চেক প্রদান কার্যক্রম জোরদার করেছে।

২০২০ সালে ৪ হাজার ১৮৭ কোটি টাকায় অনুমোদিত এই প্রকল্পের ব্যয় সংশোধনের পর বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৬২৬ কোটি টাকায়। সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডাইরেক্টর জোঁ পেম ও অপারেশন ম্যানেজার গেইল মার্টিন প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে কাজের মন্থর গতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে বর্ধিত মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বিশ্বব্যাংক পরবর্তী অর্থায়নের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।

বেনাপোল, ভোমরা ও মোংলা বন্দরের পণ্য পরিবহনের জন্য এই মহাসড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বর্তমানে সড়কের বেহাল দশায় যাতায়াত দুরূহ হয়ে পড়েছে। পরিবহন মালিক ওসমান গণি বলেন, ‘ঠিকাদারদের খামখেয়ালিপনায় রাস্তা এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। গর্তের কারণে মুমূর্ষু রোগী নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছানোও অসম্ভব হয়ে পড়েছে।’

লট-২ ও ৩-এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী তুহিন আল মামুন স্বীকার করেছেন, ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে মাত্র দুই শতাংশ কাজ হয়েছে। বারবার তাগিদ দিলেও তারা গুরুত্ব দিচ্ছে না।

তবে লট-১-এর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী নিলন আলী দাবি করেন, বর্তমানে ১০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী সপ্তাহ থেকে সড়কে দৃশ্যমান কাজ শুরু হবে।

ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন বলেন, ‘ভূমি অধিগ্রহণের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি। ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায্য পাওনা ও ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ চলমান রয়েছে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬


ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক প্রকল্প : ৬ বছরে কাজ মাত্র ২ শতাংশ

প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুলাই ২০২৬

featured Image

ভূমি অধিগ্রহণে জটিলতা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চরম গাফিলতিতে ঝুলে আছে ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক (এন-৭) ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের কাজ। ছয় বছর পার হলেও প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি মাত্র দুই শতাংশ। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অর্ধেক জমি বুঝিয়ে দেওয়া হলেও ঠিকাদারদের গড়িমসিতে কাজ এগোচ্ছে না। ফলে মহাসড়কজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ, যা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রকল্পের এই হতাশাজনক পরিস্থিতিতে অর্থায়নকারী সংস্থা বিশ্বব্যাংকও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজের অগ্রগতি না হওয়ায় সংস্থাটি নতুন করে অর্থায়নে আগ্রহ হারাচ্ছে বলে জানা গেছে। ফলে জনগুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা ইতিমধ্যে কালীগঞ্জ এলাকার ৪৫ শতাংশ এবং সদর এলাকার প্রায় ৫০ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন করে বিশ্বব্যাংকের ‘উইকেয়ার’ কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দিয়েছে। আগে ভূমি অধিগ্রহণে ধীরগতির অজুহাত দেওয়া হলেও এখন মূল দায়ভার গিয়ে পড়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আব্দুল মোনায়েম লিমিটেড ও ম্যাক্স ফার্মের ওপর।

অভিযোগ উঠেছে, প্রশাসনিক সব সহযোগিতা পাওয়ার পরও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দুটি কাজ শুরু করতে নানা টালবাহানা করছে। যদিও প্রকল্পের শুরুতে সরকারের ছয়টি দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে জরিপ ও পরিদর্শন রিপোর্ট তৈরিতে দীর্ঘ সময় ব্যয় হয়েছিল। বর্তমানে জেলা প্রশাসন জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণের চেক প্রদান কার্যক্রম জোরদার করেছে।

২০২০ সালে ৪ হাজার ১৮৭ কোটি টাকায় অনুমোদিত এই প্রকল্পের ব্যয় সংশোধনের পর বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৬২৬ কোটি টাকায়। সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডাইরেক্টর জোঁ পেম ও অপারেশন ম্যানেজার গেইল মার্টিন প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে কাজের মন্থর গতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে বর্ধিত মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বিশ্বব্যাংক পরবর্তী অর্থায়নের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।

বেনাপোল, ভোমরা ও মোংলা বন্দরের পণ্য পরিবহনের জন্য এই মহাসড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বর্তমানে সড়কের বেহাল দশায় যাতায়াত দুরূহ হয়ে পড়েছে। পরিবহন মালিক ওসমান গণি বলেন, ‘ঠিকাদারদের খামখেয়ালিপনায় রাস্তা এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। গর্তের কারণে মুমূর্ষু রোগী নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছানোও অসম্ভব হয়ে পড়েছে।’

লট-২ ও ৩-এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী তুহিন আল মামুন স্বীকার করেছেন, ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে মাত্র দুই শতাংশ কাজ হয়েছে। বারবার তাগিদ দিলেও তারা গুরুত্ব দিচ্ছে না।

তবে লট-১-এর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী নিলন আলী দাবি করেন, বর্তমানে ১০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী সপ্তাহ থেকে সড়কে দৃশ্যমান কাজ শুরু হবে।

ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন বলেন, ‘ভূমি অধিগ্রহণের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি। ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায্য পাওনা ও ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ চলমান রয়েছে।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত