সংবাদ

সেই ঐতিহাসিক শুরুর নায়ক, শামীম কবিরকে কি মনে রেখেছে বাংলাদেশ?


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৬ এএম

সেই ঐতিহাসিক শুরুর নায়ক, শামীম কবিরকে কি মনে রেখেছে বাংলাদেশ?
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রথম অধিনায়ক শামীম কবির। ছবি : সংগৃহীত

১৯৭৭ সালের ৭ জানুয়ারি। শীতের সকালে কুয়াশাভেজা ঢাকা স্টেডিয়ামে (বর্তমান জাতীয় স্টেডিয়াম) টস করতে নামলেন দীর্ঘদেহী এক যুবক। প্রতিপক্ষ ক্রিকেটের মক্কাখ্যাত লর্ডসের এমসিসি (মেরিলিবোর্ন ক্রিকেট ক্লাব)। সেই টসের মধ্য দিয়েই রচিত হয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশের ক্রিকেটের প্রথম আনুষ্ঠানিক মহাকাব্য। আর সেই মহাকাব্যের প্রথম নায়ক ছিলেন শামীম কবির।

বাংলাদেশের ক্রিকেটের এই পথপ্রদর্শক ২০১৯ সালের ২৯ জুলাই পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন। গতকাল ছিল তার ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী। ক্যানসারের কাছে হার মেনে বিদায় নিলেও বাংলাদেশের ক্রিকেটের যে শক্ত ভিত্তি তিনি গড়ে দিয়ে গেছেন, তা আজও অম্লান।

মাঠে-মাঠের বাইরে অনন্য কাপ্তান
আনোয়ারুল কবির-যিনি ক্রিকেটাঙ্গনে শামীম কবির নামেই কিংবদন্তি। ১৯৪৫ সালে নরসিংদীর এক বনেদি জমিদার পরিবারে তার জন্ম। ক্রিকেটে তার যাত্রা শুরু হয়েছিল স্কুলজীবন থেকেই। ওপেনিং ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিতি থাকলেও প্রয়োজনে উইকেটের পেছনে গ্লাভস হাতেও দাঁড়াতেন তিনি। ১৯৬১ সালে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষিক্ত হওয়ার পর খেলেছেন তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও পূর্ব পাকিস্তান দলের হয়ে। তবে শামীম কবিরকে মনে রাখা হবে মূলত ১৯৭৭ সালের সেই ঐতিহাসিক এমসিসি সফরের জন্য।

সেই ম্যাচটি কেবল একটি ম্যাচ ছিল না; ছিল বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের সামর্থ্য প্রমাণের পরীক্ষা। ক্লার্কের নেতৃত্বাধীন এমসিসির বিপক্ষে সেই ড্র ম্যাচে প্রথম ইনিংসে ৩০ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ২৫ রান করে দৃঢ়তা দেখিয়েছিলেন শামীম কবির।

সংগঠক হিসেবে দ্বিতীয় ইনিংস
খেলোয়াড়ি জীবন ছাড়ার পর শামীম কবির নিজেকে নিয়োজিত করেন ক্রিকেট সংগঠক হিসেবে। ১৯৮২ ও ১৯৮৬ সালের আইসিসি ট্রফিতে তিনি বাংলাদেশ দলের ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করেন। বিসিবির বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করে দেশের ক্রিকেটকে আজকের এই অবস্থানে আনার নেপথ্যে কারিগর ছিলেন তিনি। ক্রীড়াঙ্গনে তার অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৯ সালে তিনি জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার লাভ করেন এবং ২০১৪ সালে পান গ্রামীণফোন-প্রথম আলো আজীবন সম্মাননা।

অধিনায়কের গুরুত্ব ও দর্শন
শামীম কবির মনে করতেন, ক্রিকেটে অধিনায়কের ভূমিকা অন্য যেকোনো খেলার চেয়ে বেশি। ফুটবলে কোচ মাঠের বাইরে থেকে দিকনির্দেশনা দিলেও ক্রিকেটে মাঠের ভেতর মুহূর্তের সিদ্ধান্ত অধিনায়ককেই নিতে হয়। ফিল্ডিং সাজানো থেকে শুরু করে বোলার পরিবর্তন-সবক্ষেত্রেই তার ক্ষুরধার মস্তিষ্ক কাজ করত। শুধু মাঠেই নয়, মাঠের বাইরেও তরুণ খেলোয়াড়দের আগলে রাখা এবং দলে ঐক্য ধরে রাখার এক অসাধারণ গুণ ছিল তার।

আজ যে আলোকবর্তিকা বয়ে নিয়ে চলছেন বাংলাদেশের তারকা ক্রিকেটাররা, তার প্রথম মশালটি জ্বালিয়েছিলেন শামীম কবিরই। তিনি নেই, কিন্তু বাংলাদেশের ক্রিকেটের প্রতিটা বাঁকে রয়ে গেছে তার অবিস্মরণীয় অবদান।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬


সেই ঐতিহাসিক শুরুর নায়ক, শামীম কবিরকে কি মনে রেখেছে বাংলাদেশ?

প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুলাই ২০২৬

featured Image

১৯৭৭ সালের ৭ জানুয়ারি। শীতের সকালে কুয়াশাভেজা ঢাকা স্টেডিয়ামে (বর্তমান জাতীয় স্টেডিয়াম) টস করতে নামলেন দীর্ঘদেহী এক যুবক। প্রতিপক্ষ ক্রিকেটের মক্কাখ্যাত লর্ডসের এমসিসি (মেরিলিবোর্ন ক্রিকেট ক্লাব)। সেই টসের মধ্য দিয়েই রচিত হয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশের ক্রিকেটের প্রথম আনুষ্ঠানিক মহাকাব্য। আর সেই মহাকাব্যের প্রথম নায়ক ছিলেন শামীম কবির।

বাংলাদেশের ক্রিকেটের এই পথপ্রদর্শক ২০১৯ সালের ২৯ জুলাই পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন। গতকাল ছিল তার ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী। ক্যানসারের কাছে হার মেনে বিদায় নিলেও বাংলাদেশের ক্রিকেটের যে শক্ত ভিত্তি তিনি গড়ে দিয়ে গেছেন, তা আজও অম্লান।

মাঠে-মাঠের বাইরে অনন্য কাপ্তান
আনোয়ারুল কবির-যিনি ক্রিকেটাঙ্গনে শামীম কবির নামেই কিংবদন্তি। ১৯৪৫ সালে নরসিংদীর এক বনেদি জমিদার পরিবারে তার জন্ম। ক্রিকেটে তার যাত্রা শুরু হয়েছিল স্কুলজীবন থেকেই। ওপেনিং ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিতি থাকলেও প্রয়োজনে উইকেটের পেছনে গ্লাভস হাতেও দাঁড়াতেন তিনি। ১৯৬১ সালে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষিক্ত হওয়ার পর খেলেছেন তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও পূর্ব পাকিস্তান দলের হয়ে। তবে শামীম কবিরকে মনে রাখা হবে মূলত ১৯৭৭ সালের সেই ঐতিহাসিক এমসিসি সফরের জন্য।

সেই ম্যাচটি কেবল একটি ম্যাচ ছিল না; ছিল বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের সামর্থ্য প্রমাণের পরীক্ষা। ক্লার্কের নেতৃত্বাধীন এমসিসির বিপক্ষে সেই ড্র ম্যাচে প্রথম ইনিংসে ৩০ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ২৫ রান করে দৃঢ়তা দেখিয়েছিলেন শামীম কবির।

সংগঠক হিসেবে দ্বিতীয় ইনিংস
খেলোয়াড়ি জীবন ছাড়ার পর শামীম কবির নিজেকে নিয়োজিত করেন ক্রিকেট সংগঠক হিসেবে। ১৯৮২ ও ১৯৮৬ সালের আইসিসি ট্রফিতে তিনি বাংলাদেশ দলের ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করেন। বিসিবির বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করে দেশের ক্রিকেটকে আজকের এই অবস্থানে আনার নেপথ্যে কারিগর ছিলেন তিনি। ক্রীড়াঙ্গনে তার অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৯ সালে তিনি জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার লাভ করেন এবং ২০১৪ সালে পান গ্রামীণফোন-প্রথম আলো আজীবন সম্মাননা।

অধিনায়কের গুরুত্ব ও দর্শন
শামীম কবির মনে করতেন, ক্রিকেটে অধিনায়কের ভূমিকা অন্য যেকোনো খেলার চেয়ে বেশি। ফুটবলে কোচ মাঠের বাইরে থেকে দিকনির্দেশনা দিলেও ক্রিকেটে মাঠের ভেতর মুহূর্তের সিদ্ধান্ত অধিনায়ককেই নিতে হয়। ফিল্ডিং সাজানো থেকে শুরু করে বোলার পরিবর্তন-সবক্ষেত্রেই তার ক্ষুরধার মস্তিষ্ক কাজ করত। শুধু মাঠেই নয়, মাঠের বাইরেও তরুণ খেলোয়াড়দের আগলে রাখা এবং দলে ঐক্য ধরে রাখার এক অসাধারণ গুণ ছিল তার।

আজ যে আলোকবর্তিকা বয়ে নিয়ে চলছেন বাংলাদেশের তারকা ক্রিকেটাররা, তার প্রথম মশালটি জ্বালিয়েছিলেন শামীম কবিরই। তিনি নেই, কিন্তু বাংলাদেশের ক্রিকেটের প্রতিটা বাঁকে রয়ে গেছে তার অবিস্মরণীয় অবদান।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত