একটি শিশুর হাতে ফোন থাকলে ঘরটি নিস্তব্ধ থাকে কিন্তু সেই নীরবতা সব সময় স্বস্তির নয়। খেলাধুলা, বই, গল্প আর পরিবারের কথোপকথনকে সরিয়ে যখন মোবাইল স্ক্রীন শিশুর প্রধান সঙ্গী হয়ে ওঠে, তখন তা অভ্যাসের সীমা পেরিয়ে নির্ভরতা মরিচিকা হয়ে উঠতে পারে। তাই ফোন কেড়ে নেওয়া নয় বরং শিশুকে বাস্তব জীবনের আনন্দে ফিরিয়ে আনার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
ফোন বন্ধ করতে বললেই তীব্র রাগ, ঘুম ও খাওয়ার রুটিন বদলে যাওয়া, পড়াশোনায় মনোযোগ কমা, বন্ধুদের থেকে দূরে সরে যাওয়া, কিংবা বিরক্তি সামলাত না পারা এসব লক্ষণ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। ফোনটি শিশুকে খেলাধুলা, ঘুম, পারিবারিক সম্পর্ক ও দৈনন্দিন দায়িত্ব থেকে কতটা দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। তবে প্রতিটি শিশুর স্বভাব আলাদা। এক-দু দিন লক্ষন দেখেই তাকে আসক্ত বলা ঠিক হবে না।
নিয়ম চাপিয়ে না দিয়ে শিশুকে আলোচনায় রাখুন। পরিবারের সবার জন্য খাবারের টেবিল, পড়ার সময়, গাড়িতে যাতায়াত ও ঘুমের আগে ফোনমুক্ত সময় নির্ধারণ করা যেতে পারে। কতক্ষণ, কী কাজে এবং কোন জায়গায় ফোন ব্যবহার হবে এসব লিখে রাখলে নিয়মটি স্পষ্ট হবে। নিয়মটি মা-বাবার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হওয়া জরুরি। বড়রা ফোনে ডুবে থাকলে শিশুর কাছে সংযমের বার্তা বিশ্বাসযোগ্য হয় না।
ঘুমের অন্তত ৩০ মিনিট আগে ফোন, ট্যাব বা কম্পিউটার দূরে রাখার পরামর্শ দেন মনোবিজ্ঞানিরা । রাতে ফোন ব্যবহার ঘুমের মান ব্যাহত করতে পারে, পরদিন ক্লান্তি, মেজাজ খিটখিটে হওয়া ও মনোযোগে ঘাটতি দেখা দেয়। তাই শোবার ঘরে ফোন চার্জ দেওয়ার সুবিধা না দিয়ে পরিবারের একটি নির্দিষ্ট স্থানে ফোন রাখার অভ্যাস গড়ে তোলা ভালো। শিশু জেগে থাকলে ফোন লুকিয়ে নেওয়ার বদলে আগে ভাগে শান্তভাবে সময়সীমার কথা মনে করিয়ে দিন।
ফোনের সময় কমিয়ে ফাঁকা সময় তৈরি করলে শিশুর অস্বস্তি বাড়তে পারে। সেই ফাকা স্থান পূর্ণ করতে হবে খেলাধুলা, বই পড়া, ছবি আঁকা, গান, বাগান করা, বোর্ড খেলা বা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ দিয়ে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে দীর্ঘক্ষণ বসে মোবাইল দেখার বদলে খেলাকে গুরুত্ব দিয়েছে। প্রতিদিনের রুটিনে বাইরের খেলাধুলা, পারিবারিক গল্পের সময় এবং বয়সোপযোগী ঘরের কাজ যুক্ত করলে শিশুর আত্মনিয়ন্ত্রণও বাড়ে।
শিক্ষামূলক ভিডিও দেখা, দূরের স্বজনের সঙ্গে কথা বলা বা সৃজনশীল কাজ ও অকারণ স্ক্রলিং এক নয়। তাই শুধু মিনিট গোনা নয়, বিষয়বস্তু ও ব্যবহারের উদ্দেশ্য নিয়েও কথা বলুন। প্রয়োজন অনুযায়ী সময়সীমা, বয়সোপযোগী বিষয়বস্তু এবং অভিভাবকীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করুন। নতুন কোনো খেলা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের আগে গোপনীয়তা, বিজ্ঞাপন ও অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে শিশুর সঙ্গে আলাপ করুন।
মোবাইল নির্ধারিত সময় শেষ হলে শিশু রেগে গেলে পাল্টা রাগ নয়। সংক্ষিপ্ত ভাষায় নিয়মটি মনে করিয়ে দিন, তার সাথে শান্ত ভাবে কথা বলুন । ক্ষুধা, ক্লান্তি, একাকিত্ব বা দুশ্চিন্তা থেকেও শিশুর ফোনের চাহিদা বাড়তে পারে। এমন সময়ে পানি খাওয়া, গভীর শ্বাস নেওয়া, একটু হাঁটা, আঁকাআঁকি বা কারও সঙ্গে কথা বলার মতো বিকল্প কৌশল শেখানো বেশি কাজে দেয়।
যদি ফোন ব্যবহার ঘুম, স্বাস্থ্য, পড়াশোনা বা সামাজিক সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করে, কিংবা সীমা নির্ধারণের পরও পরিস্থিতি সামলানো না যায়, তবে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ বা মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীর পরামর্শ নিন। শিশুকে দোষারোপ নয়, তার একাকিত্ব, চাপ বা উদ্বেগের কারণ বোঝাই হোক অভিভাবকের প্রথম কাজ।

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুলাই ২০২৬
একটি শিশুর হাতে ফোন থাকলে ঘরটি নিস্তব্ধ থাকে কিন্তু সেই নীরবতা সব সময় স্বস্তির নয়। খেলাধুলা, বই, গল্প আর পরিবারের কথোপকথনকে সরিয়ে যখন মোবাইল স্ক্রীন শিশুর প্রধান সঙ্গী হয়ে ওঠে, তখন তা অভ্যাসের সীমা পেরিয়ে নির্ভরতা মরিচিকা হয়ে উঠতে পারে। তাই ফোন কেড়ে নেওয়া নয় বরং শিশুকে বাস্তব জীবনের আনন্দে ফিরিয়ে আনার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
ফোন বন্ধ করতে বললেই তীব্র রাগ, ঘুম ও খাওয়ার রুটিন বদলে যাওয়া, পড়াশোনায় মনোযোগ কমা, বন্ধুদের থেকে দূরে সরে যাওয়া, কিংবা বিরক্তি সামলাত না পারা এসব লক্ষণ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। ফোনটি শিশুকে খেলাধুলা, ঘুম, পারিবারিক সম্পর্ক ও দৈনন্দিন দায়িত্ব থেকে কতটা দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। তবে প্রতিটি শিশুর স্বভাব আলাদা। এক-দু দিন লক্ষন দেখেই তাকে আসক্ত বলা ঠিক হবে না।
নিয়ম চাপিয়ে না দিয়ে শিশুকে আলোচনায় রাখুন। পরিবারের সবার জন্য খাবারের টেবিল, পড়ার সময়, গাড়িতে যাতায়াত ও ঘুমের আগে ফোনমুক্ত সময় নির্ধারণ করা যেতে পারে। কতক্ষণ, কী কাজে এবং কোন জায়গায় ফোন ব্যবহার হবে এসব লিখে রাখলে নিয়মটি স্পষ্ট হবে। নিয়মটি মা-বাবার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হওয়া জরুরি। বড়রা ফোনে ডুবে থাকলে শিশুর কাছে সংযমের বার্তা বিশ্বাসযোগ্য হয় না।
ঘুমের অন্তত ৩০ মিনিট আগে ফোন, ট্যাব বা কম্পিউটার দূরে রাখার পরামর্শ দেন মনোবিজ্ঞানিরা । রাতে ফোন ব্যবহার ঘুমের মান ব্যাহত করতে পারে, পরদিন ক্লান্তি, মেজাজ খিটখিটে হওয়া ও মনোযোগে ঘাটতি দেখা দেয়। তাই শোবার ঘরে ফোন চার্জ দেওয়ার সুবিধা না দিয়ে পরিবারের একটি নির্দিষ্ট স্থানে ফোন রাখার অভ্যাস গড়ে তোলা ভালো। শিশু জেগে থাকলে ফোন লুকিয়ে নেওয়ার বদলে আগে ভাগে শান্তভাবে সময়সীমার কথা মনে করিয়ে দিন।
ফোনের সময় কমিয়ে ফাঁকা সময় তৈরি করলে শিশুর অস্বস্তি বাড়তে পারে। সেই ফাকা স্থান পূর্ণ করতে হবে খেলাধুলা, বই পড়া, ছবি আঁকা, গান, বাগান করা, বোর্ড খেলা বা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ দিয়ে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে দীর্ঘক্ষণ বসে মোবাইল দেখার বদলে খেলাকে গুরুত্ব দিয়েছে। প্রতিদিনের রুটিনে বাইরের খেলাধুলা, পারিবারিক গল্পের সময় এবং বয়সোপযোগী ঘরের কাজ যুক্ত করলে শিশুর আত্মনিয়ন্ত্রণও বাড়ে।
শিক্ষামূলক ভিডিও দেখা, দূরের স্বজনের সঙ্গে কথা বলা বা সৃজনশীল কাজ ও অকারণ স্ক্রলিং এক নয়। তাই শুধু মিনিট গোনা নয়, বিষয়বস্তু ও ব্যবহারের উদ্দেশ্য নিয়েও কথা বলুন। প্রয়োজন অনুযায়ী সময়সীমা, বয়সোপযোগী বিষয়বস্তু এবং অভিভাবকীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করুন। নতুন কোনো খেলা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের আগে গোপনীয়তা, বিজ্ঞাপন ও অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে শিশুর সঙ্গে আলাপ করুন।
মোবাইল নির্ধারিত সময় শেষ হলে শিশু রেগে গেলে পাল্টা রাগ নয়। সংক্ষিপ্ত ভাষায় নিয়মটি মনে করিয়ে দিন, তার সাথে শান্ত ভাবে কথা বলুন । ক্ষুধা, ক্লান্তি, একাকিত্ব বা দুশ্চিন্তা থেকেও শিশুর ফোনের চাহিদা বাড়তে পারে। এমন সময়ে পানি খাওয়া, গভীর শ্বাস নেওয়া, একটু হাঁটা, আঁকাআঁকি বা কারও সঙ্গে কথা বলার মতো বিকল্প কৌশল শেখানো বেশি কাজে দেয়।
যদি ফোন ব্যবহার ঘুম, স্বাস্থ্য, পড়াশোনা বা সামাজিক সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করে, কিংবা সীমা নির্ধারণের পরও পরিস্থিতি সামলানো না যায়, তবে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ বা মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীর পরামর্শ নিন। শিশুকে দোষারোপ নয়, তার একাকিত্ব, চাপ বা উদ্বেগের কারণ বোঝাই হোক অভিভাবকের প্রথম কাজ।

আপনার মতামত লিখুন