সংবাদ

একদিনেই ৪৫০ বিলিয়ন ডলার বেড়ে ইতিহাস গড়লো মাইক্রোসফট


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৫:১২ পিএম

একদিনেই ৪৫০ বিলিয়ন ডলার বেড়ে ইতিহাস গড়লো মাইক্রোসফট

ক্লাউড কম্পিউটিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসের জেরে পুঁজিবাজারে নতুন বিশ্বরেকর্ড সৃষ্টি করেছে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট। আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজারে একদিনের ব্যবধানে সর্বোচ্চ বাজারমূল্য বৃদ্ধির এক নতুন ইতিহাস লিখেছে এই গ্লোবাল টেক জায়ান্ট।

গত বৃহস্পতিবার লেনদেন শেষে পুঁজিবাজারে মাইক্রোসফটের শেয়ারদর একলাফে ১৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পায়। এতে প্রতিষ্ঠানটির মোট বাজারমূল্য এসে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ দশমিক ৩৫ ট্রিলিয়ন ডলারে। এই একদিনের ব্যবধানেই কোম্পানিটির বাজারমূল্য বেড়েছে প্রায় ৪৫০ বিলিয়ন ডলার। বৈশ্বিক শেয়ারবাজারের ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, এর আগে এত অল্প সময়ে কোনো একক প্রতিষ্ঠানের এত বড় মূল্যবৃদ্ধি ঘটেনি। এটি পূর্বের সব রেকর্ড চূর্ণ করে নতুন ইতিহাস গড়েছে। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান এলএসইজি-এর সংগৃহীত তথ্যে দেখা যায়, গত বছরের ৯ এপ্রিল চিপ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া একদিনে ৪৪১ বিলিয়ন ডলার মূল্য বাড়িয়ে যে রেকর্ড গড়েছিল, এবার তা টপকে গেল মাইক্রোসফট।

সর্বশেষ প্রকাশিত আর্থিক ফলাফল এবং আগামী দিনের ব্যবসায়িক আভাস বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস এক ধাক্কায় বহু গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ক্লাউড সেবায় অভূতপূর্ব সাড়াই এই সুবাতাস নিয়ে এসেছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জ্যাকস ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্টের শীর্ষ বাজার কৌশলবিদ ব্রায়ান মুলবেরি মন্তব্য করেন, "মাইক্রোসফট অত্যন্ত চমৎকার একটি প্রান্তিক পার করেছে। বাজার ঠিক যে বার্তাটি শুনতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি তাদের ফলাফলে ঠিক সেটিই পেশ করেছে। এই অভূতপূর্ব প্রবৃদ্ধির পেছনে মূল ইঞ্জিন হিসেবে কাজ করেছে তাদের ক্লাউড ও এআই বিভাগ।"

আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ডেটা সেন্টার ও প্রসেসিং অবকাঠামোয় বিশাল অঙ্কের পুঁজি বিনিয়োগ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মনে যে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছিল, তা কেটে যেতে শুরু করেছে। এতদিন ধরে টেক জায়ান্টদের ‘ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেন’ তালিকায় পিছিয়ে থাকা প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারদর বুধবার পর্যন্ত ১৮ শতাংশ পর্যন্ত কমে গিয়েছিল। তবে এক প্রান্তিকেই দৃশ্যপট বদলে যাওয়ায় অন্তত ৯টি শীর্ষ ব্রোকারেজ হাউস শেয়ারটির কাঙ্ক্ষিত দর বাড়িয়ে গড়ে ৫৬০ দশমিক ৯০ ডলারে উন্নীত করেছে। বিশাল আয়ের ইতিবাচক বার্তা পাওয়ার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি নিশ্চিত করেছে যে, ২০২৭ অর্থবছরের ১ম প্রান্তিকে ৫ হাজার কোটি ডলার এবং ২০২৬ ক্যালেন্ডার বছরে মোট ১৭ হাজার ৫০০ কোটি ডলার মূলধনী ব্যয় (ক্যাপেক্স) করার পরিকল্পনা যথারীতি বহাল থাকছে।

ডিফেকশন ক্যাপিটাল মার্কেটসের প্রধান জেক বেহান বিষয়টি নিয়ে বলেন, "সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জিং প্রশ্নটি ছিল, মাইক্রোসফট এআই খাতে বিপুল খরচের আলোচনা থেকে সরে এসে সেই বিনিয়োগ থেকে বাস্তবে কেমন আয় আনছে তা দৃশ্যমান করতে পারবে কি না। সাম্প্রতিক হিসাব বলছে, সে জায়গায় তারা অবিশ্বাস্য অগ্রগতি দেখাতে পেরেছে।"

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬


একদিনেই ৪৫০ বিলিয়ন ডলার বেড়ে ইতিহাস গড়লো মাইক্রোসফট

প্রকাশের তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৬

featured Image

ক্লাউড কম্পিউটিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসের জেরে পুঁজিবাজারে নতুন বিশ্বরেকর্ড সৃষ্টি করেছে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট। আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজারে একদিনের ব্যবধানে সর্বোচ্চ বাজারমূল্য বৃদ্ধির এক নতুন ইতিহাস লিখেছে এই গ্লোবাল টেক জায়ান্ট।

গত বৃহস্পতিবার লেনদেন শেষে পুঁজিবাজারে মাইক্রোসফটের শেয়ারদর একলাফে ১৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পায়। এতে প্রতিষ্ঠানটির মোট বাজারমূল্য এসে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ দশমিক ৩৫ ট্রিলিয়ন ডলারে। এই একদিনের ব্যবধানেই কোম্পানিটির বাজারমূল্য বেড়েছে প্রায় ৪৫০ বিলিয়ন ডলার। বৈশ্বিক শেয়ারবাজারের ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, এর আগে এত অল্প সময়ে কোনো একক প্রতিষ্ঠানের এত বড় মূল্যবৃদ্ধি ঘটেনি। এটি পূর্বের সব রেকর্ড চূর্ণ করে নতুন ইতিহাস গড়েছে। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান এলএসইজি-এর সংগৃহীত তথ্যে দেখা যায়, গত বছরের ৯ এপ্রিল চিপ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া একদিনে ৪৪১ বিলিয়ন ডলার মূল্য বাড়িয়ে যে রেকর্ড গড়েছিল, এবার তা টপকে গেল মাইক্রোসফট।

সর্বশেষ প্রকাশিত আর্থিক ফলাফল এবং আগামী দিনের ব্যবসায়িক আভাস বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস এক ধাক্কায় বহু গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ক্লাউড সেবায় অভূতপূর্ব সাড়াই এই সুবাতাস নিয়ে এসেছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জ্যাকস ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্টের শীর্ষ বাজার কৌশলবিদ ব্রায়ান মুলবেরি মন্তব্য করেন, "মাইক্রোসফট অত্যন্ত চমৎকার একটি প্রান্তিক পার করেছে। বাজার ঠিক যে বার্তাটি শুনতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি তাদের ফলাফলে ঠিক সেটিই পেশ করেছে। এই অভূতপূর্ব প্রবৃদ্ধির পেছনে মূল ইঞ্জিন হিসেবে কাজ করেছে তাদের ক্লাউড ও এআই বিভাগ।"

আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ডেটা সেন্টার ও প্রসেসিং অবকাঠামোয় বিশাল অঙ্কের পুঁজি বিনিয়োগ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মনে যে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছিল, তা কেটে যেতে শুরু করেছে। এতদিন ধরে টেক জায়ান্টদের ‘ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেন’ তালিকায় পিছিয়ে থাকা প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারদর বুধবার পর্যন্ত ১৮ শতাংশ পর্যন্ত কমে গিয়েছিল। তবে এক প্রান্তিকেই দৃশ্যপট বদলে যাওয়ায় অন্তত ৯টি শীর্ষ ব্রোকারেজ হাউস শেয়ারটির কাঙ্ক্ষিত দর বাড়িয়ে গড়ে ৫৬০ দশমিক ৯০ ডলারে উন্নীত করেছে। বিশাল আয়ের ইতিবাচক বার্তা পাওয়ার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি নিশ্চিত করেছে যে, ২০২৭ অর্থবছরের ১ম প্রান্তিকে ৫ হাজার কোটি ডলার এবং ২০২৬ ক্যালেন্ডার বছরে মোট ১৭ হাজার ৫০০ কোটি ডলার মূলধনী ব্যয় (ক্যাপেক্স) করার পরিকল্পনা যথারীতি বহাল থাকছে।

ডিফেকশন ক্যাপিটাল মার্কেটসের প্রধান জেক বেহান বিষয়টি নিয়ে বলেন, "সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জিং প্রশ্নটি ছিল, মাইক্রোসফট এআই খাতে বিপুল খরচের আলোচনা থেকে সরে এসে সেই বিনিয়োগ থেকে বাস্তবে কেমন আয় আনছে তা দৃশ্যমান করতে পারবে কি না। সাম্প্রতিক হিসাব বলছে, সে জায়গায় তারা অবিশ্বাস্য অগ্রগতি দেখাতে পেরেছে।"


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত