সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার ভাষ্য, ‘দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হলে ধর্মীয় অধিকারসহ সব নাগরিকের অধিকারই সুরক্ষিত থাকবে।’
শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীতে সনাতন পরিষদ আয়োজিত ‘সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বিধান’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা ও প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহায়ক বিজন কান্তি সরকার অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
বাংলাদেশ বহু শতাব্দীর সম্প্রীতির দেশ উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এখানে ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজনের প্রশ্ন আসা উচিত নয়। এই ভূখণ্ডে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করছেন।’
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মূল লক্ষ্য ছিল এ দেশের মানুষের স্বাধীনতা ও অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করা। কিন্তু স্বাধীনতার পর গণতান্ত্রিক চেতনা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার মতে, দেশের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে না পারা।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, এই সরকার প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহায়ক হিসেবে একজনকে নিয়োগ দিয়েছে, যিনি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিষয়গুলো দেখভাল করছেন। সনাতন পরিষদের সঙ্গে এটাই প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক হলেও অন্য সংগঠনগুলোর সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা হয়েছে।
জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য দেওয়া মনোনয়নের মধ্যে সনাতন ধর্মাবলম্বী, মতুয়া সম্প্রদায়, সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সবাইকে নিয়ে রাজনীতি করার এই উদ্যোগকে ‘৩১ দফার রেইনবো স্টেট’ ধারণা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অতীত নিয়ে বেশি না ভেবে সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বারবার অতীতের নির্যাতনের প্রসঙ্গ টেনে আনলে এগোনো কঠিন হয়ে পড়ে। তবে একটি মহল সচেতনভাবে ধর্মের নামে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’
বিগত নির্বাচনে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, তারা এই সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখতে চান। তিনি তার নির্বাচনি এলাকায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে তাদের সমস্যার সমাধানে কাজ করার কথাও জানান।
ধর্মের ভিত্তিতে দেশকে বিভক্ত করার বিরোধিতা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘উগ্রবাদ ও মৌলবাদকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। একটি উদারপন্থি ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়েই সরকার কাজ করছে।’
বক্তব্যের একপর্যায়ে কাজী নজরুল ইসলামের কবিতার পঙ্ক্তি উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সব মানুষ একই মায়ের সন্তান। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাই আন্দোলন- দুই ইতিহাসকেই ধারণ করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৬
সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার ভাষ্য, ‘দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হলে ধর্মীয় অধিকারসহ সব নাগরিকের অধিকারই সুরক্ষিত থাকবে।’
শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীতে সনাতন পরিষদ আয়োজিত ‘সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বিধান’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা ও প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহায়ক বিজন কান্তি সরকার অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
বাংলাদেশ বহু শতাব্দীর সম্প্রীতির দেশ উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এখানে ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজনের প্রশ্ন আসা উচিত নয়। এই ভূখণ্ডে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করছেন।’
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মূল লক্ষ্য ছিল এ দেশের মানুষের স্বাধীনতা ও অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করা। কিন্তু স্বাধীনতার পর গণতান্ত্রিক চেতনা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার মতে, দেশের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে না পারা।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, এই সরকার প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহায়ক হিসেবে একজনকে নিয়োগ দিয়েছে, যিনি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিষয়গুলো দেখভাল করছেন। সনাতন পরিষদের সঙ্গে এটাই প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক হলেও অন্য সংগঠনগুলোর সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা হয়েছে।
জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য দেওয়া মনোনয়নের মধ্যে সনাতন ধর্মাবলম্বী, মতুয়া সম্প্রদায়, সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সবাইকে নিয়ে রাজনীতি করার এই উদ্যোগকে ‘৩১ দফার রেইনবো স্টেট’ ধারণা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অতীত নিয়ে বেশি না ভেবে সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বারবার অতীতের নির্যাতনের প্রসঙ্গ টেনে আনলে এগোনো কঠিন হয়ে পড়ে। তবে একটি মহল সচেতনভাবে ধর্মের নামে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’
বিগত নির্বাচনে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, তারা এই সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখতে চান। তিনি তার নির্বাচনি এলাকায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে তাদের সমস্যার সমাধানে কাজ করার কথাও জানান।
ধর্মের ভিত্তিতে দেশকে বিভক্ত করার বিরোধিতা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘উগ্রবাদ ও মৌলবাদকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। একটি উদারপন্থি ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়েই সরকার কাজ করছে।’
বক্তব্যের একপর্যায়ে কাজী নজরুল ইসলামের কবিতার পঙ্ক্তি উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সব মানুষ একই মায়ের সন্তান। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাই আন্দোলন- দুই ইতিহাসকেই ধারণ করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন