উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে রাশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন কুষ্টিয়ার মেধাবী তরুণ অনিক (২৭)। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবন থেকে পড়ে মৃত্যুর ৪২ দিন পর রোববার (২ আগস্ট) তার মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। কফিনবন্দী হয়ে অনিক ফিরলেন নিজ গ্রামে।
অনিক কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আইলচারা ইউনিয়নের সওড়াতলা গ্রামের কৃষক মানোয়ার বিশ্বাসের ছেলে। তিনি রাশিয়ার চেলিয়াবিনস্ক শহরে অবস্থিত সাউথ ইউরাল স্টেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় আড়াই বছর আগে বৃত্তি পেয়ে রাশিয়ায় পড়তে যান অনিক। গত ২১ জুন খবর আসে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচতলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি।
মৃত্যুর এক মাস ১২ দিন পর রোববার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে অনিকের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। এ সময় পরিবার ও স্বজনদের আর্তনাদে এলাকায় শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনিককে একনজর দেখতে ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বাদ জোহর সওড়াতলা জামে মসজিদে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়। জানাজায় কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনিকের চাচা মুফতি আলী হোসেন ফারুকী বলেন, অনিক ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ও শান্ত স্বভাবের ছিলেন। কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ থেকে স্নাতক শেষ করে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে গিয়ে তিনি পরিবারের মুখ উজ্জ্বল করেছিলেন। তার মা নেই, বাড়িতে বাবা ও বড় ভাই রয়েছেন। এমন মৃত্যুতে পুরো পরিবার স্তব্ধ হয়ে গেছে।
আপনার মতামত লিখুন