বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রাজনীতি মানুষকে দূরে ঠেলে দেয় এবং সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করে। তবে ঠাকুরগাঁওয়ে সেই বিভাজন দেখতে চান না তিনি। মানুষে মানুষে মতপার্থক্য থাকলেও সম্প্রীতি ও সামাজিক সম্পর্ক অটুট রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে ঠাকুরগাঁও নাট্য সমিতিতে আয়োজিত সাংস্কৃতিক মিলনমেলা ও মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ‘শ্রাবণের ধারার মতো পড়ুক ঝরে’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা অংশ নেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘অতীতে রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্য বজায় ছিল। আমাদের পূর্বপুরুষরা একসঙ্গে বসে গল্প করতেন, চা খেতেন। রাজনৈতিক মঞ্চে একে অপরের সমালোচনা করলেও ব্যক্তিগত ও সামাজিক সম্পর্ক নষ্ট হতো না। সেই সম্প্রীতির সমাজই আমাদের ফিরিয়ে আনতে হবে।’
তরুণ প্রজন্মকে সাংস্কৃতিক চর্চা ও খেলাধুলার প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড তরুণদের সৃজনশীল ও মানবিক করে তোলে। এটিই মাদকাসক্তি ও সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধের প্রধান হাতিয়ার। ছেলেমেয়েরা যখন নাটক বা খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকে, সেখানে মাদকের কোনো স্থান থাকে না।’
শিল্পী ও নাট্যকর্মীদের কষ্টের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, অনেক শিল্পী নিষ্ঠার সঙ্গে শিল্পচর্চা করলেও আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং শিল্পের বিকাশে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া এখন সময়ের দাবি।
তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া যে ‘নতুন কুঁড়ি’ ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের ভিত্তি গড়ে দিয়েছিলেন, বর্তমানে সেই ধারাকে আরও সুসংগঠিতভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আবারও সৃজনশীল চর্চা বৃদ্ধি পেয়েছে।
ঠাকুরগাঁও নাট্য সমিতির সভাপতি ফজলে এলাহী মুকুট চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মনোতোষ কুমার দে।
আপনার মতামত লিখুন