সংবাদ

সবুজের টানে পর্যটকদের প্রিয় কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল



সবুজের টানে পর্যটকদের প্রিয় কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল
চা-বাগানের সবুজ ঢেউ, সংরক্ষিত বন, পাহাড়ি ছড়া, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি টানে পর্যটকদের। ছবি: প্রতিনিধি

চা-বাগানের সবুজ ঢেউ, সংরক্ষিত বন, পাহাড়ি ছড়া, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি আর আধুনিক রিসোর্ট-সব মিলিয়ে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন জেলা মৌলভীবাজার। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ছড়িয়ে রয়েছে প্রায় অর্ধশত পর্যটনকেন্দ্র। এর মধ্যে কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল সবচেয়ে বেশি পরিচিত। বছরজুড়ে দেশ-বিদেশের পর্যটকের পদচারণায় মুখর থাকে এই দুই উপজেলা।

মৌলভীবাজারের পর্যটন আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্র কমলগঞ্জ উপজেলা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও মণিপুরি সম্প্রদায়ের সমৃদ্ধ সংস্কৃতির কারণে এ উপজেলার আলাদা পরিচিতি তৈরি হয়েছে। এখানকার সবচেয়ে জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। বাংলাদেশের সংরক্ষিত বনাঞ্চলগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। জীববৈচিত্র্যের সমৃদ্ধ ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত এই উদ্যানে রয়েছে বিরল প্রজাতির উদ্ভিদ, স্তন্যপায়ী প্রাণী, সরীসৃপ ও অসংখ্য পাখি।

উঁচু-নিচু টিলাজুড়ে বিস্তৃত লাউয়াছড়ার ঘন অরণ্যের ভেতর দিয়ে বয়ে গেছে পাহাড়ি ছড়া। বনের নীরবতা ভেঙে শোনা যায় পাখির ডাক, কীটপতঙ্গের শব্দ আর বন্যপ্রাণীর বিচরণ। প্রকৃতিপ্রেমী, গবেষক ও বন্যপ্রাণী পর্যবেক্ষকদের কাছেও লাউয়াছড়া বিশেষ আকর্ষণের জায়গা। প্রতিবছর হাজারো দর্শনার্থী এই উদ্যানে এসে প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটান।

মৌলভীবাজারের পর্যটনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য শ্রীমঙ্গল। ‘বাংলাদেশের চায়ের রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত এই উপজেলায় রয়েছে দেশের সবচেয়ে বেশি চা-বাগানের সমাহার। শহরের চারপাশজুড়ে বিস্তৃত সবুজ চা-বাগান পর্যটকদের কাছে শ্রীমঙ্গলকে আলাদা আবেদন দিয়েছে। শহর থেকে অল্প দূরেই বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই)। কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করলে দেখা যায় গবেষণা কার্যক্রম, পুরোনো চা-গাছ, ফুলের বাগান, চা প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা ও পরীক্ষাগার।

বিটিআরআইয়ের কাছেই রয়েছে পর্যটকদের আরেক পরিচিত গন্তব্য নীলকণ্ঠ চা কেবিন। বহু বছর ধরে এখানে পরিবেশন করা হচ্ছে বহুস্তরবিশিষ্ট রঙিন চা, যা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।

শ্রীমঙ্গল শহরের উপকণ্ঠে ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে ওঠা সীতেশ বাবুর চিড়িয়াখানাও দর্শনার্থীদের টানে। এখানে বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী ও পাখি সংরক্ষণ করা হয়েছে। সহজ যোগাযোগব্যবস্থা এবং স্বল্প প্রবেশমূল্যের কারণে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের কাছেও এটি জনপ্রিয়।

চোখ বুজে আসার মতো সবুজ

প্রকৃতির সঙ্গে মিল রেখে গড়ে ওঠা ইকো রিসোর্টগুলোও মৌলভীবাজারের পর্যটন শিল্পে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বাঁশ, কাঠ ও ছনের নকশায় নির্মিত এসব আবাসন সবুজ পরিবেশের সঙ্গে একাত্ম হয়ে গেছে। শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জজুড়ে গড়ে উঠেছে গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফ, লেমন গার্ডেন রিসোর্ট, বালিশিরা রিসোর্ট, নভেম ইকো রিসোর্ট, ওয়াটার লিলি, টি হ্যাভেন, টিলাগাঁও ইকো ভিলেজ ও অরণ্য নিবাস ইকো রিসোর্টসহ বিভিন্ন মানের আবাসন। জেলা শহরের কাছেও রয়েছে দুসাই রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা, মুক্তানগর রিসোর্ট ও রাজউটি রিসোর্ট।

এদিকে, জেলার বড়লেখা উপজেলার পাথারিয়া পাহাড়ে অবস্থিত মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতও মৌলভীবাজারের অন্যতম প্রধান পর্যটন আকর্ষণ। প্রায় ২০০ ফুট উচ্চতা থেকে নেমে আসা জলধারা, পাহাড়ি বন আর আশপাশের ছোট-বড় ঝরনা প্রকৃতিপ্রেমীদের মুগ্ধ করে। বর্ষাকালে এর সৌন্দর্য আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

ফুলে ফুলে দৃষ্টি হারায়

পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটন নিশ্চিত করা গেলে কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল শুধু দেশের নয়, আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রেও আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবে। প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও আতিথেয়তার অনন্য সমন্বয়ই এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় শক্তি।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬


সবুজের টানে পর্যটকদের প্রিয় কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল

প্রকাশের তারিখ : ০২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

চা-বাগানের সবুজ ঢেউ, সংরক্ষিত বন, পাহাড়ি ছড়া, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি আর আধুনিক রিসোর্ট-সব মিলিয়ে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন জেলা মৌলভীবাজার। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ছড়িয়ে রয়েছে প্রায় অর্ধশত পর্যটনকেন্দ্র। এর মধ্যে কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল সবচেয়ে বেশি পরিচিত। বছরজুড়ে দেশ-বিদেশের পর্যটকের পদচারণায় মুখর থাকে এই দুই উপজেলা।

মৌলভীবাজারের পর্যটন আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্র কমলগঞ্জ উপজেলা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও মণিপুরি সম্প্রদায়ের সমৃদ্ধ সংস্কৃতির কারণে এ উপজেলার আলাদা পরিচিতি তৈরি হয়েছে। এখানকার সবচেয়ে জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। বাংলাদেশের সংরক্ষিত বনাঞ্চলগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। জীববৈচিত্র্যের সমৃদ্ধ ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত এই উদ্যানে রয়েছে বিরল প্রজাতির উদ্ভিদ, স্তন্যপায়ী প্রাণী, সরীসৃপ ও অসংখ্য পাখি।

উঁচু-নিচু টিলাজুড়ে বিস্তৃত লাউয়াছড়ার ঘন অরণ্যের ভেতর দিয়ে বয়ে গেছে পাহাড়ি ছড়া। বনের নীরবতা ভেঙে শোনা যায় পাখির ডাক, কীটপতঙ্গের শব্দ আর বন্যপ্রাণীর বিচরণ। প্রকৃতিপ্রেমী, গবেষক ও বন্যপ্রাণী পর্যবেক্ষকদের কাছেও লাউয়াছড়া বিশেষ আকর্ষণের জায়গা। প্রতিবছর হাজারো দর্শনার্থী এই উদ্যানে এসে প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটান।

মৌলভীবাজারের পর্যটনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য শ্রীমঙ্গল। ‘বাংলাদেশের চায়ের রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত এই উপজেলায় রয়েছে দেশের সবচেয়ে বেশি চা-বাগানের সমাহার। শহরের চারপাশজুড়ে বিস্তৃত সবুজ চা-বাগান পর্যটকদের কাছে শ্রীমঙ্গলকে আলাদা আবেদন দিয়েছে। শহর থেকে অল্প দূরেই বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই)। কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করলে দেখা যায় গবেষণা কার্যক্রম, পুরোনো চা-গাছ, ফুলের বাগান, চা প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা ও পরীক্ষাগার।

বিটিআরআইয়ের কাছেই রয়েছে পর্যটকদের আরেক পরিচিত গন্তব্য নীলকণ্ঠ চা কেবিন। বহু বছর ধরে এখানে পরিবেশন করা হচ্ছে বহুস্তরবিশিষ্ট রঙিন চা, যা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।

শ্রীমঙ্গল শহরের উপকণ্ঠে ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে ওঠা সীতেশ বাবুর চিড়িয়াখানাও দর্শনার্থীদের টানে। এখানে বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী ও পাখি সংরক্ষণ করা হয়েছে। সহজ যোগাযোগব্যবস্থা এবং স্বল্প প্রবেশমূল্যের কারণে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের কাছেও এটি জনপ্রিয়।

চোখ বুজে আসার মতো সবুজ

প্রকৃতির সঙ্গে মিল রেখে গড়ে ওঠা ইকো রিসোর্টগুলোও মৌলভীবাজারের পর্যটন শিল্পে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বাঁশ, কাঠ ও ছনের নকশায় নির্মিত এসব আবাসন সবুজ পরিবেশের সঙ্গে একাত্ম হয়ে গেছে। শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জজুড়ে গড়ে উঠেছে গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফ, লেমন গার্ডেন রিসোর্ট, বালিশিরা রিসোর্ট, নভেম ইকো রিসোর্ট, ওয়াটার লিলি, টি হ্যাভেন, টিলাগাঁও ইকো ভিলেজ ও অরণ্য নিবাস ইকো রিসোর্টসহ বিভিন্ন মানের আবাসন। জেলা শহরের কাছেও রয়েছে দুসাই রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা, মুক্তানগর রিসোর্ট ও রাজউটি রিসোর্ট।

এদিকে, জেলার বড়লেখা উপজেলার পাথারিয়া পাহাড়ে অবস্থিত মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতও মৌলভীবাজারের অন্যতম প্রধান পর্যটন আকর্ষণ। প্রায় ২০০ ফুট উচ্চতা থেকে নেমে আসা জলধারা, পাহাড়ি বন আর আশপাশের ছোট-বড় ঝরনা প্রকৃতিপ্রেমীদের মুগ্ধ করে। বর্ষাকালে এর সৌন্দর্য আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

ফুলে ফুলে দৃষ্টি হারায়

পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটন নিশ্চিত করা গেলে কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল শুধু দেশের নয়, আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রেও আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবে। প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও আতিথেয়তার অনন্য সমন্বয়ই এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় শক্তি।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত