রাজধানীর
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে অনলাইন জুয়া ও ওয়েবসাইটভিত্তিক
প্রতারণার মাধ্যমে মাসে শত শত
কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে
চীনা নাগরিকসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের
(ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। একটি
পুরো ভবন জুড়ে বিদেশি
নাগরিকদের এই অপরাধ সাম্রাজ্য
গড়ে তোলা হয়েছিল।
রবিবার
ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে
অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরে ডিএমপির
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম
বলেন, "শনিবার রাত আটটার দিকে
ডিবি সাইবার ক্রাইম বিভাগের একটি চৌকস দল
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান
চালায়। ওই ফ্ল্যাটটি ঝর্না
চাকমা নামে এক নারী
ভাড়া নিয়ে থাকতেন এবং
ছয় তলা বিল্ডিং পুরাটাই
চীনাদের ভাড়া দিয়েছেন।"
ডিবির
এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আরও বিস্তারিত জানিয়ে
বলেন, "একতলায় উনি (ঝর্না) থাকেন।
পাঁচটা ফ্লোর উনি চীনের নাগরিকদের
ভাড়া দিয়েছেন। সেখানে চীনারা বিভিন্ন সময় এসে হোটেলের
মতো থাকে।" এই অভিযানে আটক
ব্যক্তিরা হলেন: ঝর্না চাকমা জিয়ানা (২৭), লিউ হুই
জাং (৪৬), ওয়ে ইউজি
(৩০) ও শে ই
রান (৪২)।
ভবনটিতে
দীর্ঘ দিন ধরে চলা
অবৈধ কর্মকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ
কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম
বলেন, "আমরা ওই বিল্ডিংয়ের
চারতলা এবং পাঁচতলায় যাই।
গিয়ে দেখি ওখানে অনলাইন
গেটওয়ে জুয়াসহ অন্যান্য প্রতারণামূলক কাজ হয়। সেখান
থেকে অনেকগুলো ডিভাইস জব্দ করছি। অবৈধ
কাজে ব্যবহারের জন্য ১৪টা ল্যাপটপ,
১৬টা মোবাইলসহ ৬ হাজার সিম
জব্দ করা হয়। এছাড়া
বিভিন্ন প্রোভাইডারের সিম ও ২০টি
গেটওয়ে মেশিন এবং বিদেশি মদ
জব্দ করা হয়। এ
সময় নগদ ২ লাখ
৯ হাজার ৭০০ টাকাও জব্দ
করা হয়।"
চক্রটির
অভিনব প্রতারণার কৌশল ও অর্থ
পাচারের ধরণ সম্পর্কে ডিবি
প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম
বলেন, "বিভিন্ন সময় মোবাইলে বিভিন্ন
মেসেজ আসে। যেখানে বলা
হয়, অফার পেতে হলে
এখানে ক্লিক করুন, চাকরির জন্য এখানে ক্লিক
করুন বা অতিরিক্ত ইনকামের
জন্য এখানে ক্লিক করুন। আপনি যখন ওখানে
ক্লিক করবেন তখন আপনার কাছে
অফার আসে। এই অফারগুলোর
জন্য আপনাকে যে পেমেন্ট করতে
হবে সেটা গেটওয়ের জন্য
প্রায় ৬ হাজার সিম
ব্যবহার করে। আমরা ৬
হাজার সিম পেয়েছি এবং
প্রোভাইডারের প্রায় ১০-১২ হাজার
সিমের যে স্লটগুলো আছে
সেগুলো পেয়েছি।"
চক্রটির
একটি প্রযুক্তিগত চালবাজির কথা উল্লেখ করে
তিনি বলেন, চক্রটি একটা মোবাইল দিয়ে
১২টা সিম ব্যবহার করে
প্রতারণা করতো।
প্রযুক্তির
আড়ালে আত্মগোপন করে থাকার বিষয়টি
উল্লেখ করে তিনি জানান,
"প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে তাদের ইএমআই নাম্বার পরিবর্তন করার ফলে চক্রটিকে
শনাক্ত করা সম্ভব হয়
না। এই চক্রকে আমরা
গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি।
এক মাসে এই একটা
মাত্র গেটওয়ের মাধ্যমে ২০০ থেকে ২৫০
কোটি টাকা বাংলাদেশ থেকে
জুয়া ও অবৈধ ইনকামের
মাধ্যমে পাচার করা হতো। তাদের
বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।"

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ আগস্ট ২০২৬
রাজধানীর
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে অনলাইন জুয়া ও ওয়েবসাইটভিত্তিক
প্রতারণার মাধ্যমে মাসে শত শত
কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে
চীনা নাগরিকসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের
(ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। একটি
পুরো ভবন জুড়ে বিদেশি
নাগরিকদের এই অপরাধ সাম্রাজ্য
গড়ে তোলা হয়েছিল।
রবিবার
ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে
অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরে ডিএমপির
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম
বলেন, "শনিবার রাত আটটার দিকে
ডিবি সাইবার ক্রাইম বিভাগের একটি চৌকস দল
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান
চালায়। ওই ফ্ল্যাটটি ঝর্না
চাকমা নামে এক নারী
ভাড়া নিয়ে থাকতেন এবং
ছয় তলা বিল্ডিং পুরাটাই
চীনাদের ভাড়া দিয়েছেন।"
ডিবির
এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আরও বিস্তারিত জানিয়ে
বলেন, "একতলায় উনি (ঝর্না) থাকেন।
পাঁচটা ফ্লোর উনি চীনের নাগরিকদের
ভাড়া দিয়েছেন। সেখানে চীনারা বিভিন্ন সময় এসে হোটেলের
মতো থাকে।" এই অভিযানে আটক
ব্যক্তিরা হলেন: ঝর্না চাকমা জিয়ানা (২৭), লিউ হুই
জাং (৪৬), ওয়ে ইউজি
(৩০) ও শে ই
রান (৪২)।
ভবনটিতে
দীর্ঘ দিন ধরে চলা
অবৈধ কর্মকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ
কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম
বলেন, "আমরা ওই বিল্ডিংয়ের
চারতলা এবং পাঁচতলায় যাই।
গিয়ে দেখি ওখানে অনলাইন
গেটওয়ে জুয়াসহ অন্যান্য প্রতারণামূলক কাজ হয়। সেখান
থেকে অনেকগুলো ডিভাইস জব্দ করছি। অবৈধ
কাজে ব্যবহারের জন্য ১৪টা ল্যাপটপ,
১৬টা মোবাইলসহ ৬ হাজার সিম
জব্দ করা হয়। এছাড়া
বিভিন্ন প্রোভাইডারের সিম ও ২০টি
গেটওয়ে মেশিন এবং বিদেশি মদ
জব্দ করা হয়। এ
সময় নগদ ২ লাখ
৯ হাজার ৭০০ টাকাও জব্দ
করা হয়।"
চক্রটির
অভিনব প্রতারণার কৌশল ও অর্থ
পাচারের ধরণ সম্পর্কে ডিবি
প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম
বলেন, "বিভিন্ন সময় মোবাইলে বিভিন্ন
মেসেজ আসে। যেখানে বলা
হয়, অফার পেতে হলে
এখানে ক্লিক করুন, চাকরির জন্য এখানে ক্লিক
করুন বা অতিরিক্ত ইনকামের
জন্য এখানে ক্লিক করুন। আপনি যখন ওখানে
ক্লিক করবেন তখন আপনার কাছে
অফার আসে। এই অফারগুলোর
জন্য আপনাকে যে পেমেন্ট করতে
হবে সেটা গেটওয়ের জন্য
প্রায় ৬ হাজার সিম
ব্যবহার করে। আমরা ৬
হাজার সিম পেয়েছি এবং
প্রোভাইডারের প্রায় ১০-১২ হাজার
সিমের যে স্লটগুলো আছে
সেগুলো পেয়েছি।"
চক্রটির
একটি প্রযুক্তিগত চালবাজির কথা উল্লেখ করে
তিনি বলেন, চক্রটি একটা মোবাইল দিয়ে
১২টা সিম ব্যবহার করে
প্রতারণা করতো।
প্রযুক্তির
আড়ালে আত্মগোপন করে থাকার বিষয়টি
উল্লেখ করে তিনি জানান,
"প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে তাদের ইএমআই নাম্বার পরিবর্তন করার ফলে চক্রটিকে
শনাক্ত করা সম্ভব হয়
না। এই চক্রকে আমরা
গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি।
এক মাসে এই একটা
মাত্র গেটওয়ের মাধ্যমে ২০০ থেকে ২৫০
কোটি টাকা বাংলাদেশ থেকে
জুয়া ও অবৈধ ইনকামের
মাধ্যমে পাচার করা হতো। তাদের
বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।"

আপনার মতামত লিখুন