সংবাদ

অনিশ্চয়তা কাটিয়ে টেকসই বাঁধের অপেক্ষায় মেঘনা পাড়


প্রতিনিধি, চাঁদপুর
প্রতিনিধি, চাঁদপুর
প্রকাশ: ৩ আগস্ট ২০২৬, ১১:৪৭ এএম

অনিশ্চয়তা কাটিয়ে টেকসই বাঁধের অপেক্ষায় মেঘনা পাড়
চাঁদপুরে মেঘনার তীরে শহররক্ষা বাঁধের কাজের বর্তমান অবস্থা। ছবি : সংবাদ

চাঁদপুর শহররক্ষা বাঁধের সংস্কারকাজ ধীরগতিতে চলায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প শেষ হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। কাজের অগ্রগতি প্রত্যাশার তুলনায় কম হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। তবে সংস্কারকাজ চলমান থাকায় ইতিমধ্যে নদীভাঙন অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসায় ভবিষ্যতে ভাঙনমুক্ত শহরের স্বপ্ন দেখছেন তারা।

প্রমত্তা মেঘনা নদীর ভয়াবহ ভাঙন থেকে চাঁদপুর শহরকে রক্ষায় ২০২৪ সালের এপ্রিলে এই সংস্কার প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। প্রকল্পের আওতায় শহরের মাদ্রাসা রোড লঞ্চঘাট থেকে পুরাণবাজার রণগোয়াল পর্যন্ত প্রায় ৩ দশমিক ২২ কিলোমিটার এলাকায় নদীতীর সংরক্ষণ ও বাঁধ সংস্কার করা হচ্ছে। ভাঙন প্রতিরোধে নদীতে বালুভর্তি জিওব্যাগ এবং কংক্রিট ব্লক (সিসি ব্লক) ফেলা হচ্ছে।

৮১৫ কোটি টাকা ব্যয়ের চার বছর মেয়াদি এই প্রকল্পে ১৯টি প্যাকেজে ৯টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। তবে প্রকল্পের মেয়াদের বড় একটি সময় পার হলেও কাজের অগ্রগতি মাত্র ৫০ শতাংশে সীমাবদ্ধ। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সংস্কারকাজ শুরু হওয়ার পর নদীভাঙন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আগে বর্ষা এলেই আমরা আতঙ্কে থাকতাম। এখন ভাঙন কার্যত বন্ধ রয়েছে, যা আমাদের স্বস্তি দিচ্ছে।’ জেলে হুমায়ুন ও ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলামও একই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তবে তারা পুরো নদীতীরজুড়ে টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান।

চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি সুভাষ চন্দ্র রায় বলেন, নদীপাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ দ্রুত সংস্কার করা না হলে পুরাণবাজারের বাণিজ্যিক এলাকা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে। বর্তমানে যত্রতত্র ফেলে রাখা সিসি ব্লকের কারণে পণ্য ওঠানো-নামানোয় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি দীর্ঘমেয়াদি ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্থায়ী বাঁধের দাবি জানান।

চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘কাজের মান নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি চলছে। বর্ষার কারণে কাজে কিছুটা ধীরগতি থাকলেও ২০২৭ সালের জুনের মধ্যেই প্রকল্পটি শেষ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬


অনিশ্চয়তা কাটিয়ে টেকসই বাঁধের অপেক্ষায় মেঘনা পাড়

প্রকাশের তারিখ : ০৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

চাঁদপুর শহররক্ষা বাঁধের সংস্কারকাজ ধীরগতিতে চলায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প শেষ হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। কাজের অগ্রগতি প্রত্যাশার তুলনায় কম হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। তবে সংস্কারকাজ চলমান থাকায় ইতিমধ্যে নদীভাঙন অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসায় ভবিষ্যতে ভাঙনমুক্ত শহরের স্বপ্ন দেখছেন তারা।

প্রমত্তা মেঘনা নদীর ভয়াবহ ভাঙন থেকে চাঁদপুর শহরকে রক্ষায় ২০২৪ সালের এপ্রিলে এই সংস্কার প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। প্রকল্পের আওতায় শহরের মাদ্রাসা রোড লঞ্চঘাট থেকে পুরাণবাজার রণগোয়াল পর্যন্ত প্রায় ৩ দশমিক ২২ কিলোমিটার এলাকায় নদীতীর সংরক্ষণ ও বাঁধ সংস্কার করা হচ্ছে। ভাঙন প্রতিরোধে নদীতে বালুভর্তি জিওব্যাগ এবং কংক্রিট ব্লক (সিসি ব্লক) ফেলা হচ্ছে।

৮১৫ কোটি টাকা ব্যয়ের চার বছর মেয়াদি এই প্রকল্পে ১৯টি প্যাকেজে ৯টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। তবে প্রকল্পের মেয়াদের বড় একটি সময় পার হলেও কাজের অগ্রগতি মাত্র ৫০ শতাংশে সীমাবদ্ধ। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সংস্কারকাজ শুরু হওয়ার পর নদীভাঙন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আগে বর্ষা এলেই আমরা আতঙ্কে থাকতাম। এখন ভাঙন কার্যত বন্ধ রয়েছে, যা আমাদের স্বস্তি দিচ্ছে।’ জেলে হুমায়ুন ও ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলামও একই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তবে তারা পুরো নদীতীরজুড়ে টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান।

চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি সুভাষ চন্দ্র রায় বলেন, নদীপাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ দ্রুত সংস্কার করা না হলে পুরাণবাজারের বাণিজ্যিক এলাকা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে। বর্তমানে যত্রতত্র ফেলে রাখা সিসি ব্লকের কারণে পণ্য ওঠানো-নামানোয় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি দীর্ঘমেয়াদি ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্থায়ী বাঁধের দাবি জানান।

চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘কাজের মান নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি চলছে। বর্ষার কারণে কাজে কিছুটা ধীরগতি থাকলেও ২০২৭ সালের জুনের মধ্যেই প্রকল্পটি শেষ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত