সংবাদ

নেসকো অফিসের অনিয়ম এখন নিত্যদিনের ঘটনা


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, রংপুর
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, রংপুর
প্রকাশ: ৩ আগস্ট ২০২৬, ১২:৪২ পিএম

নেসকো অফিসের অনিয়ম এখন নিত্যদিনের ঘটনা
৯টার অফিসে নেই কর্মকর্তা। ছবি : সংবাদ

রংপুরে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ কার্যালয়ে জেঁকে বসেছে অনিয়ম ও নৈরাজ্য। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সকাল ৯টায় অফিস শুরুর কথা থাকলেও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আসছেন নিজেদের খেয়ালখুশি মতো। কার্যালয়টির পিয়ন থেকে শুরু করে নির্বাহী প্রকৌশলী—কারও মধ্যেই সময়ের বাধ্যবাধকতা দেখা যায়নি। ফলে সেবা নিতে আসা সাধারণ গ্রাহকদের পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি।

সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে নগরীর শাপলা চত্বর এলাকায় অবস্থিত নেসকোর ওই কার্যালয়ে সরেজমিনে দেখা যায়, প্রধান ফটক খোলা থাকলেও সকাল ৯টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত ভেতরের পরিবেশ ছিল সুনসান। ৯টা ২০ মিনিট পর্যন্ত নির্বাহী প্রকৌশলীর কক্ষের সামনে একজন অফিস সহায়ক ছাড়া আর কোনো কর্মচারীর দেখা মেলেনি। ৯টা ২৫ মিনিটে তালা খোলা হয় প্রধান কার্যালয়ের। দেরি হওয়ার কারণ জানতে চাইলে লুজ মোশনের (পেটের সমস্যা) অজুহাত দেন দায়িত্বরত এক কর্মচারী।

সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ওই কার্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ কক্ষগুলো তালাবদ্ধ ছিল। সাড়ে ৯টার পর একে একে আসতে শুরু করেন সহকারী প্রকৌশলীরা। নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী প্রকৌশলী শাহিনুর ইসলাম দাবি করেন, আগের রাতে বেশি সময় কাজ করায় তার দেরি হয়েছে। অথচ তার পাশের টেবিলের অন্য প্রকৌশলী ৯টা ৩৫ মিনিট পর্যন্তও অফিসে পৌঁছাননি।

অফিসের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী আতিফুর রহমানকে ৯টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত তার চেম্বারে পাওয়া যায়নি। কর্মচারীরা ৯টা ৩০ মিনিটে তার কক্ষের বাতি ও পাখা চালিয়ে রাখলেও তিনি তখনো অনুপস্থিত ছিলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মচারী জানান, নির্বাহী প্রকৌশলী প্রায়ই সকাল ১০টার পর অফিসে আসেন।

এদিকে কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সেবাপ্রার্থীরা। গোমস্তাপাড়া থেকে আসা বৃদ্ধ রমজান আলী অভিযোগ করেন, ‘ভুতুড়ে বিলের’ অভিযোগ নিয়ে দুই দিন ধরে ঘুরেও তিনি নির্বাহী প্রকৌশলীর দেখা পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, “জুন মাসে আমার মিটারে ৩৪১ ইউনিট খরচ হলেও বিল দেওয়া হয়েছে ১১ হাজার ৩০০ টাকা। অথচ বিল আসার কথা বড়জোর ৩ হাজার টাকা।” নিউ ইঞ্জিনিয়ার পাড়া থেকে আসা রওশন আরা নামে এক গৃহবধূ বলেন, “নেসকো অফিস ১০টার আগে খোলে না। কর্মকর্তারা নিজেদের ইচ্ছামতো আসেন। আমরা কোনো সেবাই পাইছি না।”

বিদ্যুৎ বিভাগের মতো একটি জরুরি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে এমন চরম নৈরাজ্য ও দায়িত্বহীনতায় সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

/

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬


নেসকো অফিসের অনিয়ম এখন নিত্যদিনের ঘটনা

প্রকাশের তারিখ : ০৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

রংপুরে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ কার্যালয়ে জেঁকে বসেছে অনিয়ম ও নৈরাজ্য। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সকাল ৯টায় অফিস শুরুর কথা থাকলেও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আসছেন নিজেদের খেয়ালখুশি মতো। কার্যালয়টির পিয়ন থেকে শুরু করে নির্বাহী প্রকৌশলী—কারও মধ্যেই সময়ের বাধ্যবাধকতা দেখা যায়নি। ফলে সেবা নিতে আসা সাধারণ গ্রাহকদের পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি।

সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে নগরীর শাপলা চত্বর এলাকায় অবস্থিত নেসকোর ওই কার্যালয়ে সরেজমিনে দেখা যায়, প্রধান ফটক খোলা থাকলেও সকাল ৯টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত ভেতরের পরিবেশ ছিল সুনসান। ৯টা ২০ মিনিট পর্যন্ত নির্বাহী প্রকৌশলীর কক্ষের সামনে একজন অফিস সহায়ক ছাড়া আর কোনো কর্মচারীর দেখা মেলেনি। ৯টা ২৫ মিনিটে তালা খোলা হয় প্রধান কার্যালয়ের। দেরি হওয়ার কারণ জানতে চাইলে লুজ মোশনের (পেটের সমস্যা) অজুহাত দেন দায়িত্বরত এক কর্মচারী।

সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ওই কার্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ কক্ষগুলো তালাবদ্ধ ছিল। সাড়ে ৯টার পর একে একে আসতে শুরু করেন সহকারী প্রকৌশলীরা। নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী প্রকৌশলী শাহিনুর ইসলাম দাবি করেন, আগের রাতে বেশি সময় কাজ করায় তার দেরি হয়েছে। অথচ তার পাশের টেবিলের অন্য প্রকৌশলী ৯টা ৩৫ মিনিট পর্যন্তও অফিসে পৌঁছাননি।

অফিসের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী আতিফুর রহমানকে ৯টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত তার চেম্বারে পাওয়া যায়নি। কর্মচারীরা ৯টা ৩০ মিনিটে তার কক্ষের বাতি ও পাখা চালিয়ে রাখলেও তিনি তখনো অনুপস্থিত ছিলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মচারী জানান, নির্বাহী প্রকৌশলী প্রায়ই সকাল ১০টার পর অফিসে আসেন।

এদিকে কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সেবাপ্রার্থীরা। গোমস্তাপাড়া থেকে আসা বৃদ্ধ রমজান আলী অভিযোগ করেন, ‘ভুতুড়ে বিলের’ অভিযোগ নিয়ে দুই দিন ধরে ঘুরেও তিনি নির্বাহী প্রকৌশলীর দেখা পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, “জুন মাসে আমার মিটারে ৩৪১ ইউনিট খরচ হলেও বিল দেওয়া হয়েছে ১১ হাজার ৩০০ টাকা। অথচ বিল আসার কথা বড়জোর ৩ হাজার টাকা।” নিউ ইঞ্জিনিয়ার পাড়া থেকে আসা রওশন আরা নামে এক গৃহবধূ বলেন, “নেসকো অফিস ১০টার আগে খোলে না। কর্মকর্তারা নিজেদের ইচ্ছামতো আসেন। আমরা কোনো সেবাই পাইছি না।”

বিদ্যুৎ বিভাগের মতো একটি জরুরি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে এমন চরম নৈরাজ্য ও দায়িত্বহীনতায় সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

/


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত