রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) ক্যাম্পাসে ব্যানার লাগানোকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই সংগঠনের অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দিনভর বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করলেও শেষ পর্যন্ত পৃথক স্থানে সমাবেশ করেছে দুই সংগঠন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার রাতে ক্যাম্পাসে ব্যানার লাগানো নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে একই সময়ে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয় দুই ছাত্র সংগঠন।
মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে কয়েকশ নেতাকর্মী নিয়ে মিছিলসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও আশপাশের এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেয় ছাত্রদল। সেখানে অনুষ্ঠিত সমাবেশে জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শরীফ নেওয়াজ জোহা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া জিমসহ অন্য নেতারা বক্তব্য দেন। তারা ছাত্রশিবিরকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ আখ্যা দিয়ে তাদের প্রতিহত করার ঘোষণা দেন।
এদিকে ছাত্রদল প্রধান ফটক দখলে রাখায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে লালবাগ এলাকায় বিকেল সাড়ে ৫টায় সমাবেশ করে ছাত্রশিবির। সমাবেশে শিবিরের নেতারা অভিযোগ করেন, ছাত্রদল ভাড়াটে গুন্ডা ও অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রধান ফটকে অবস্থান নেওয়ায় সংঘাত এড়াতে তারা স্থান পরিবর্তন করেছেন। সমাবেশে কারমাইকেল কলেজ শিবিরের সভাপতি মাহমুদুল হক মাসুম ও বেরোবি সভাপতি রাকিব মুরাদসহ অন্যরা বক্তব্য দেন। পরে একটি মিছিল নগরীর শাপলা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিক সংবাদকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর ১৪৪ ধারা জারির আবেদন করলেও পরিস্থিতি বিবেচনায় তার প্রয়োজন হয়নি। আমরা দুই পক্ষকে আলাদা স্থানে সমাবেশ করতে রাজি করাতে পেরেছি।’
সোমবার রাতের সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় মামলা করেনি বলে জানান তিনি। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন