সংবাদ

‘রাস্তা আগেই ভালা আচিল, খালি খালি খুইদ্দা থুইছে কন্টেকদার’


 আশরাফুল আলম আইয়ুব, কালীগঞ্জ (গাজীপুর)
আশরাফুল আলম আইয়ুব, কালীগঞ্জ (গাজীপুর)
প্রকাশ: ৪ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫৭ পিএম

‘রাস্তা আগেই ভালা আচিল, খালি খালি খুইদ্দা থুইছে কন্টেকদার’
ছবি : সংবাদ

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার জামালপুর বাজার থেকে দোলনবাজার পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের নামে খুঁড়ে রাখায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। ৬ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে শুরু হওয়া এই উন্নয়নকাজ কয়েক মাস ধরে থমকে থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো রাস্তা কাদা ও বড় বড় গর্তে একাকার হয়ে গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৮ মে গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলন এই সড়কটির উন্নয়নকাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন। গাজীপুর জেলা এলজিইডির তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটি পরিচালনা করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স ইদ্রিস কনস্ট্রাকশন’।

সরেজমিনে দেখা যায়, সংস্কারকাজ শুরুর পর পুরো সড়কের পুরোনো পিচ তুলে ফেলা হলেও বর্তমানে কাজের গতি স্থবির। কোথাও কিছু ইট ও বালুর স্তূপ থাকলেও অধিকাংশ স্থানে শ্রমিক নেই। বৃষ্টির পানি জমে সড়কে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত, যার ফলে রিকশা, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।

সড়কের বেহাল অবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে অটোচালক ওসমান সরকার ও আক্তার হোসেন বলেন, ‘রাস্তা আগেই ভালা আচিল, খালি খালি খুইদ্দা থুইছে কন্টেকদার। আগে বালা কইরা চলাচল করা গেলেও এহন খুবই অসুবিধা অইতাছে। কারণ আগে পুরা রাস্তার তিন জাগায় সমস্যা আছিল। আর এহন পুরা রাস্তাই সমস্যা। তবে কন্টেকদার যদি তাড়াতাড়ি রাস্তার কাজ শেষ করে তাইলে মাইষের দুর্ভোগ কমবো।’

স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা জানান, প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ এই সড়কটি ব্যবহার করেন। কিন্তু কাদা আর গর্তের কারণে প্রতিনিয়ত ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে এবং যাতায়াতে দ্বিগুণ সময় লাগছে।

মেসার্স ইদ্রিস কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী এমরান হোসেনের কাছে কাজের ধীরগতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সরাসরি কোনো উত্তর না দিয়ে জানান, মাঠপর্যায়ে দায়িত্বরত ব্যক্তি বিস্তারিত জানাবেন।

উপজেলা প্রকৌশলী মো. রেজাউল হক সংবাদকে বলেন, ‘টানা বৃষ্টির কারণে কাজে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। দ্রুত কাজ শেষ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ইতিমধ্যে দুইবার লিখিত চিঠি দেওয়া হয়েছে।’

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ টি এম কামরুল ইসলাম জানান, ঝুলে থাকা এই উন্নয়নকাজ নিয়ে সংসদ সদস্যের সঙ্গে দ্রুত বৈঠক করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে জনদুর্ভোগের অবসান ঘটে।

গাজীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইমদাদুল হক সংবাদকে বলেন, ‘জনগণের চলাচল বিঘ্নিত করে কাজ করার সুযোগ নেই। আমি নতুন দায়িত্ব নিয়েছি, দ্রুতই এই সড়কের পরিস্থিতি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬


‘রাস্তা আগেই ভালা আচিল, খালি খালি খুইদ্দা থুইছে কন্টেকদার’

প্রকাশের তারিখ : ০৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার জামালপুর বাজার থেকে দোলনবাজার পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের নামে খুঁড়ে রাখায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। ৬ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে শুরু হওয়া এই উন্নয়নকাজ কয়েক মাস ধরে থমকে থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো রাস্তা কাদা ও বড় বড় গর্তে একাকার হয়ে গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৮ মে গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলন এই সড়কটির উন্নয়নকাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন। গাজীপুর জেলা এলজিইডির তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটি পরিচালনা করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স ইদ্রিস কনস্ট্রাকশন’।

সরেজমিনে দেখা যায়, সংস্কারকাজ শুরুর পর পুরো সড়কের পুরোনো পিচ তুলে ফেলা হলেও বর্তমানে কাজের গতি স্থবির। কোথাও কিছু ইট ও বালুর স্তূপ থাকলেও অধিকাংশ স্থানে শ্রমিক নেই। বৃষ্টির পানি জমে সড়কে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত, যার ফলে রিকশা, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।

সড়কের বেহাল অবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে অটোচালক ওসমান সরকার ও আক্তার হোসেন বলেন, ‘রাস্তা আগেই ভালা আচিল, খালি খালি খুইদ্দা থুইছে কন্টেকদার। আগে বালা কইরা চলাচল করা গেলেও এহন খুবই অসুবিধা অইতাছে। কারণ আগে পুরা রাস্তার তিন জাগায় সমস্যা আছিল। আর এহন পুরা রাস্তাই সমস্যা। তবে কন্টেকদার যদি তাড়াতাড়ি রাস্তার কাজ শেষ করে তাইলে মাইষের দুর্ভোগ কমবো।’

স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা জানান, প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ এই সড়কটি ব্যবহার করেন। কিন্তু কাদা আর গর্তের কারণে প্রতিনিয়ত ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে এবং যাতায়াতে দ্বিগুণ সময় লাগছে।

মেসার্স ইদ্রিস কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী এমরান হোসেনের কাছে কাজের ধীরগতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সরাসরি কোনো উত্তর না দিয়ে জানান, মাঠপর্যায়ে দায়িত্বরত ব্যক্তি বিস্তারিত জানাবেন।

উপজেলা প্রকৌশলী মো. রেজাউল হক সংবাদকে বলেন, ‘টানা বৃষ্টির কারণে কাজে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। দ্রুত কাজ শেষ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ইতিমধ্যে দুইবার লিখিত চিঠি দেওয়া হয়েছে।’

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ টি এম কামরুল ইসলাম জানান, ঝুলে থাকা এই উন্নয়নকাজ নিয়ে সংসদ সদস্যের সঙ্গে দ্রুত বৈঠক করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে জনদুর্ভোগের অবসান ঘটে।

গাজীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইমদাদুল হক সংবাদকে বলেন, ‘জনগণের চলাচল বিঘ্নিত করে কাজ করার সুযোগ নেই। আমি নতুন দায়িত্ব নিয়েছি, দ্রুতই এই সড়কের পরিস্থিতি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত