সংবাদ

মক্কা চুক্তি ইরানের বিরুদ্ধে নয়, জানাল তুরস্ক


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৫৫ এএম

মক্কা চুক্তি ইরানের বিরুদ্ধে নয়, জানাল তুরস্ক

সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নামে একটি ত্রিপক্ষীয় জোট গড়ে তুলেছে তুরস্ক। তবে এই চুক্তি ইরানকে লক্ষ্য করে করা হয়নি বলে জানিয়েছেন দেশটির নেতারা। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, এই চুক্তিতে ইরান বা অন্য কোনো দেশকে যৌথ হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি।

শনিবার (৮ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

শুক্রবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ‘মক্কা চুক্তি’তে স্বাক্ষর করেন। চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিনটি দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা সবগুলোর ওপর হামলা হিসেবে গণ্য হবে। এটিকে ন্যাটোর বিখ্যাত ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের (সম্মিলিত প্রতিরক্ষা ধারা) সঙ্গে তুলনা করেছেন ফিদান।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সিকে ফিদান বলেন, ‘আমরা লিখিতভাবে কোনো যৌথ হুমকি নির্ধারণ করিনি। যে দেশগুলো স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর ওপর হামলা চালাবে না, তাদের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে না।’ তিনি আরও জানান, কোনো হামলার প্রতিক্রিয়া পরিস্থিতি অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। আক্রান্ত দেশ সহায়তা চাইলে গোয়েন্দা তথ্য, রসদ, গোলাবারুদ বা সামরিক ইউনিট মোতায়েন-যা প্রয়োজন তা দেওয়া হবে।

এই জোট পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং সামরিক প্রধানদের নিয়ে একটি রাজনৈতিক ও সামরিক কমিটি গঠন করবে। সৌদি আরবে একটি সচিবালয় স্থাপন করা হবে। যৌথ প্রশিক্ষণ, গোয়েন্দা বিনিময়, রসদ সরবরাহ, হুমকি মূল্যায়ন ও সামরিক আন্তঃকার্যক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও কাজ করবে তিন দেশ।

ফিদান জানান, প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মক্কায় তিন নেতার আলোচনায় এটিও প্রধান বিষয় ছিল। তিনি বলেন, এই চুক্তির প্রস্তুতি প্রায় দুই বছর আট মাস ধরে চলছিল; অর্থাৎ এটি কেবল ইরানকে ঘিরে বর্তমান উত্তেজনার প্রতিক্রিয়ায় তৈরি হয়নি।

তবে আঙ্কারার এমন দাবি সত্ত্বেও কিছু ইরানি কর্মকর্তা এই চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ইরানের সংসদীয় জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিশনের সদস্য মাহমুদ নাভাবিয়ন বলেছেন, সৌদি নেতাদের বোঝা উচিত যে তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে সহযোগিতা তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে না। কমিশনের আরেক সদস্য ইব্রাহিম রেজাই চুক্তিটিকে ‘কাগজে-কলমের চুক্তি’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

শুক্রবার এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সরাসরি চুক্তির উল্লেখ না করলেও আঞ্চলিক রাষ্ট্রগুলোকে নিজেদের ওপর নির্ভর করতে এবং ‘প্রকৃত ভ্রাতৃত্ব’ অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি ও প্রস্তুতির ওপর জোর দিয়েছেন।

এই চুক্তি মধ্য প্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করলেও তুরস্ক বারবার বলছে, এটি কোনো দেশের বিরুদ্ধে নয়, বরং সম্মিলিত নিরাপত্তার জন্য।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২৬


মক্কা চুক্তি ইরানের বিরুদ্ধে নয়, জানাল তুরস্ক

প্রকাশের তারিখ : ০৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নামে একটি ত্রিপক্ষীয় জোট গড়ে তুলেছে তুরস্ক। তবে এই চুক্তি ইরানকে লক্ষ্য করে করা হয়নি বলে জানিয়েছেন দেশটির নেতারা। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, এই চুক্তিতে ইরান বা অন্য কোনো দেশকে যৌথ হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি।

শনিবার (৮ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

শুক্রবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ‘মক্কা চুক্তি’তে স্বাক্ষর করেন। চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিনটি দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা সবগুলোর ওপর হামলা হিসেবে গণ্য হবে। এটিকে ন্যাটোর বিখ্যাত ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের (সম্মিলিত প্রতিরক্ষা ধারা) সঙ্গে তুলনা করেছেন ফিদান।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সিকে ফিদান বলেন, ‘আমরা লিখিতভাবে কোনো যৌথ হুমকি নির্ধারণ করিনি। যে দেশগুলো স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর ওপর হামলা চালাবে না, তাদের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে না।’ তিনি আরও জানান, কোনো হামলার প্রতিক্রিয়া পরিস্থিতি অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। আক্রান্ত দেশ সহায়তা চাইলে গোয়েন্দা তথ্য, রসদ, গোলাবারুদ বা সামরিক ইউনিট মোতায়েন-যা প্রয়োজন তা দেওয়া হবে।

এই জোট পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং সামরিক প্রধানদের নিয়ে একটি রাজনৈতিক ও সামরিক কমিটি গঠন করবে। সৌদি আরবে একটি সচিবালয় স্থাপন করা হবে। যৌথ প্রশিক্ষণ, গোয়েন্দা বিনিময়, রসদ সরবরাহ, হুমকি মূল্যায়ন ও সামরিক আন্তঃকার্যক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও কাজ করবে তিন দেশ।

ফিদান জানান, প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মক্কায় তিন নেতার আলোচনায় এটিও প্রধান বিষয় ছিল। তিনি বলেন, এই চুক্তির প্রস্তুতি প্রায় দুই বছর আট মাস ধরে চলছিল; অর্থাৎ এটি কেবল ইরানকে ঘিরে বর্তমান উত্তেজনার প্রতিক্রিয়ায় তৈরি হয়নি।

তবে আঙ্কারার এমন দাবি সত্ত্বেও কিছু ইরানি কর্মকর্তা এই চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ইরানের সংসদীয় জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিশনের সদস্য মাহমুদ নাভাবিয়ন বলেছেন, সৌদি নেতাদের বোঝা উচিত যে তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে সহযোগিতা তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে না। কমিশনের আরেক সদস্য ইব্রাহিম রেজাই চুক্তিটিকে ‘কাগজে-কলমের চুক্তি’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

শুক্রবার এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সরাসরি চুক্তির উল্লেখ না করলেও আঞ্চলিক রাষ্ট্রগুলোকে নিজেদের ওপর নির্ভর করতে এবং ‘প্রকৃত ভ্রাতৃত্ব’ অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি ও প্রস্তুতির ওপর জোর দিয়েছেন।

এই চুক্তি মধ্য প্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করলেও তুরস্ক বারবার বলছে, এটি কোনো দেশের বিরুদ্ধে নয়, বরং সম্মিলিত নিরাপত্তার জন্য।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত